কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে

কৃষিই বাংলাদেশের অথনীতির মুল চালিকা শক্তি । তাই কৃষকদের ন্যায্য মুল্যে সার, ঔষধ ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করতে হবে

কৃষিই উ্ন্নতিতেই জাতির প্রকৃত উন্নতি

জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, তাই কৃষকদের উন্নতিই জাতির প্রকৃত উন্নতি।

কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসলের উচিত মূল্য দিতে হবে

বাংলাদেশের অসহায় কৃষক শুধু কলুর বলদের মত খেটেই চলছে, কখনও বন্যা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়, তাও কখনও ন্যর্য মুল্য পায় না।

ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে হবে

কৃষকদের বাঁচাতে হলে প্রথমতঃই কৃষকদের থেকে তাদের উৎপাদিত পন্য ন্যার্য মুল্যে সরাসরি ক্রয় করতে হবে, যেন তারা মধ্যভোগীদের দৌরাত্ব থেকে বাঁচতে পারে।

কৃষিই বাংলাদের অথনীতির প্রান ভোমরা

দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে কৃষিই ব্যপক উৎপাদনই সরকারের কোষাগার স্ফৃত করছে, বিনিময়ে কৃষকরা কিছুই পাচ্ছেনা, বরং অবহেলার স্বীকার হচ্ছে।

Friday, December 6, 2013

কম ইউরিয়ায় বেশি ফলন চান ?

ধান চাষে ইউরিয়া স্প্রে প্রযুক্তি

কম ইউরিয়ায় বেশি ফলন


ধানগাছের পাতায় বিশেষ কৌশলে ইউরিয়া স্প্রে করলে মাটিতে ইউরিয়ার ব্যবহার অর্ধেক কমে যায়। আবার ধানের ফলনও প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ে। চলতি আমন মৌসুমে বিশেষ এই পদ্ধতিতে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে সাফল্য পাওয়া গেছে। বিএডিসির রাজশাহী বিভাগীয় যুগ্ম পরিচালক আরিফ হোসেন খান নতুন এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
ধান চাষে ইউরিয়া স্প্রে প্রযুক্তি
আরিফ হোসেনের দাবি, সারা দেশে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করা হলে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সাশ্রয় করা সম্ভব; যা আমদানি করতে সরকারের প্রায় এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। আবার এই পদ্ধতির সুফল হিসেবে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে; যার বাজারমূল্য প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা। তাঁর হিসাবমতে, দেশে প্রতিবছর এক কোটি ১৮ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ, আমন ও বোরো ধান চাষ হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টরে প্রায় ৫০ কেজি ইউরিয়া সাশ্রয় হবে।
আরিফ হোসেন চার বছর ধরে গবেষণা করে দেখেছেন, ধান চাষের মোট প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের ৫০ শতাংশ মাটিতে ও ১৫ শতাংশ ধানগাছের পাতায় বিশেষ কৌশলে প্রয়োগ করলে এই সাফল্য পাওয়া যায়। তিনি এর নাম দিয়েছেন ধান চাষের ‘ইউরিয়া সেপ্র প্রযুক্তি’। ইতিমধ্যেই তিনি প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের রাঙামাটি, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, পাবনা, রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন চাষি এবং বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা) সরকারি খামারে পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি দাবি করেন, ধান চাষের এমন জুতসই, সহজ ও লাভজনক প্রযুক্তি উদ্ভাবন দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটাই প্রথম। ইতিমধ্যে তিনি প্রযুক্তিটি যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এই পদ্ধতিতে কী পরিমাণ পানিতে কতটুকু ইউরিয়া ও পটাশ ব্যবহার করতে হবে, তা মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) পাওয়ার আগে এখনই কিছু বলতে চান না তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, ধান চাষে যে পরিমাণ ইউরিয়া লাগে তার ৫০ ভাগ দুই কিস্তিতে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। আর ১৫ শতাংশ ইউরিয়া সারের সঙ্গে কিছু পটাশ পানিতে মিশিয়ে ধানের সর্বাধিক কুশি উৎপাদন পর্যায় থেকে গামুর অবস্থায় (হেডিং স্টেজ) যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০-১৫ দিন অন্তর তিনবার সেপ্র করতে হবে। তবে জাত এবং মৌসুম (আউশ, আমন ও বোরো) ভেদে প্রযুক্তিটির প্রয়োগে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন তাঁর ১৩ বিঘা জমিতে বিনা ধান-৭ এবং সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৫৬ ধান চাষ করেছেন। রুহুল বলেন, তিনি তাঁর সম্পূর্ণ জমিতে ইউরিয়া স্প্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত আমন মৌসুমে তাঁরা বিঘাপ্রতি ১৯ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিতে তিনি ১৩ কেজি সার দিয়েছেন। তাঁর প্রতিবেশীরা যাঁরা প্রচলিত নিয়মে সার ব্যবহার করেছেন, তাঁদের চেয়ে তাঁর জমিতে কম খরচে তুলনামূলক ধান ভালো হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ওই কৃষকের ব্রি-৫৬ ধানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, একই ধান পাশের জমিতে রয়েছে। তাঁর চেয়ে রুহুলের জমির ধান অনেকটা সবল। শীষও সুন্দর হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। এবার তাঁর ১০ কেজি ইউরিয়া কম লেগেছে। ধানের উৎপাদনও দেড় থেকে দুই মণ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিএডিসি পাবনার টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারের উপপরিচালক জামিলুর রহমান বলেন, তিনি চলতি আমন মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। এখানে এক বিঘা জমিতে সাধারণত ৩০-৩৫ কেজি ইউরিয়া দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে ১০-১২ কেজি সার কম দিয়েই তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন আমিনুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারে এই প্রযুক্তিটি তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই পদ্ধতিতে মাটিতে আর্দ্রতা কম থাকলেও ধানগাছে ইউরিয়া দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে গাছ আরও কার্যকরভাবে ইউরিয়া গ্রহণ করতে পারে।
আরিফ হোসেন জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক ও গবেষকেরা অবিলম্বে তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা করছেন। এতে পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য অধিকতর সুরক্ষা হবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র- দৈনিক প্রথম আলো

Sunday, October 6, 2013

সম্ভাবনা প্রতিদিন - ঔষধি গাছের দশটি গ্রাম

ঔষধি গাছের দশটি গ্রাম - সম্ভাবনা প্রতিদিন

এই দশ গ্রাম এবং এর আশপাশের এলাকার মানুষ সর্দি, কাশি, জ্বর, বমি বমি ভাব, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সড়কের পাশের ঔষধি গাছ থেকে ফল, বাকল, পাতা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ওষুধ বানিয়ে সেবন করেন।

 

জেলার মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার ১০টি গ্রামের মানুষ সর্দি-কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদি সাধারণ রোগ চিকিত্সার জন্য আর ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন না। বরং তারা ভেষজ উদ্ভিদ বা ঔষধি গাছ ব্যবহার করেই ভালো ফল পাচ্ছেন। 

কাশিয়ানী উপজেলার হিরণ্যকান্দি, জোনাসুর, মাঝিগাতি, গেড়াখোলা, মুকসুদপুর উপজেলার সালিনাবক্সা, দাসেরহাট, হোগলাকান্দি, খড়িকাইন, পুরাতন মুকসুদপুর ও কদমপুর এখন ঔষধি গাছের গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। সুফলভোগীরা গাছের ছাল, বাকল, পাতা ও ফল বিক্রি করে বেশ দু'পয়সা রোজগার করছেন। এসব ঔষধি গাছপালা রোগবালাই সারাতে যেমন কাজে লাগছে, অর্থ উপার্জনেরও একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। এ কারণে এলাকার মানুষ ঔষধি বৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

শুরুর কথা

ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক নির্মিত হওয়ার পর এ সড়কের দুইপাশে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. নলিনী রঞ্জন বসাক ঔষধি গাছ রোপণ ও খাদে মত্স্য চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালের আগস্টে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম' সড়ক ও জনপথ এবং বন বিভাগের সহযোগিতায় এই মহাসড়কের দুইপাশে কাশিয়ানী উপজেলার হিরণ্যকান্দি থেকে মুকসুদপুর উপজেলার কদমপুর পর্যন্ত ১০টি গ্রামের ১০ কিমি এলাকা জুড়ে সমিতির সদস্যদের মাধ্যমে ৩৭ হাজার নিম, আমলকী, হরিতকি, বহেড়া, অর্জুন, মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়। সঙ্গে লাগানো হয় ঘৃতকুমারী, কালোমেঘ, উলটকম্বল, বাসক ইত্যাদি গাছের চারা। সড়কের খাদে মত্স্য চাষ করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পড়ে। ভেস্তে যায় মাছ চাষ। সামাজিক বনায়ন সমিতির ১৪০ জন সুফলভোগী পাহারা দিয়ে, পরিচর্যা করে ২১ হাজার গাছ বাঁচাতে সক্ষম হন।

বৃদ্ধি পাচ্ছে উপার্জনের ক্ষেত্র 

প্রথম বছরই ঘৃতকুমারী, কালোমেঘ, উলটকম্বল বাসক থেকে সুফলভোগীরা ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। ৫ বছরের মাথায় লম্বু, মেহগনি প্রভৃতি বনজ বৃক্ষের ডালপালা ছেটে জ্বালানি হিসাবে বিক্রি করে সমিতির সদস্যরা এক লাখ টাকা আয় করেন। এছাড়া এখানে লাগানো খেজুর, তাল, কাঁঠাল ইত্যাদি ফল বিক্রি করে সমিতির সদস্যরা ভালোই রোজগার করেন। এ বছর সমিতির সদস্যরা ৫০ হাজার টাকার নিমপাতা, আমলকী ও অর্জুনের ছাল বিক্রি করেছেন। বহেড়া ও হরিতকি বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। এখন বনজ, ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষ যতই বড় হচ্ছে সুফলভোগীদের আয় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এলাকাবাসী উপকৃত হচ্ছেন

২০১০ সাল থেকেই আমলকী, হরিতকি, বহেড়া গাছে ফল ধরছে। এই দশ গ্রাম এবং এর আশপাশের এলাকার মানুষ সর্দি, কাশি, জ্বর, বমি বমি ভাব, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে বিনামূল্যে সড়কের পাশের ঔষধি গাছ থেকে ফল, বাকল, পাতা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ওষুধ বানিয়ে সেবন করেন। 

দাসেরহাট গ্রামের হাসেম আলী বলেন, নিমের পাতা, অর্জুনের ছাল, আমলকী, হরিতকি, বহেড়া নানা রোগ চিকিত্সায় যথেষ্ট কার্যকর। আমরা সর্দি, কাশিসহ সাধারণ অসুখ-বিসুখে ছোটবেলা এসব গাছের ফল, বাকলের রস খেয়ে সুস্থ হতাম। মাঝে এসব গাছ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার আবাদ করায় আমরা বিনা পয়সায় এসব গাছ থেকে ফল ও ছাল নিয়ে অসুখ থেকে মুক্তি পাচ্ছি। এ্যলোপাথি ওষুধ কিনতে প্রচুর টাকা প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে গ্রামের মানুষ ঔষধি গাছ থেকে বিনামূল্যে ওষুধ সংগ্রহ করছে।

ফল ও বাকলের চাহিদা যথেষ্ট

এ বছর আমলকী, নিম পাতা ও অর্জুনের ছাল বিক্রি করে সমিতির সদস্যরা ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এছাড়া হরিতকি ও বহেড়া বিক্রি থেকে এ বছর আরো ৫০ হাজার টাকা আয় হবে বলে তারা আশা করছেন। আয়ের সব টাকা সমিতির সুফলভোগীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। 

সুফলভোগী ও মহিলা গ্রুপ লিডার সুনীতি বসাক বলেন, সমিতির সদস্যরা বৃক্ষ রোপণ করে পাহারা দিয়ে, পরিচর্যা করে বড় করেছেন। এখন আমাদের সুদিন এসেছে। এসব ঔষধি গাছ থেকে আমরা ভালোই আয় করছি। প্রতি বছরই আমাদের আয় বৃদ্ধি পাবে।

সুফলভোগী মিজান মুন্সি ও মোঃ শুকুর আলী ফকির বলেন, আগে গ্রামের মানুষ ঔষধি গাছের ফল, বাকল, পাতা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ওষুধ তৈরি করে খেয়ে রোগ থেকে মুক্তি পেত। মাঝে এসব গাছ কমে গিয়েছিল। 

ঔষধি ফল ও ছালের বাজার 

ফড়িয়া আবু বক্কার মোল্লা (৬৫) বলেন, আমাদের দেশে ঔষধি গাছের ফল, পাতা ও ছালের বিশাল বাজার রয়েছে। এসব জিনিসের ওপর নির্ভর করে দেশে অনেক কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা ভেষজ ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরি করছে। ভেষজ ওষুধ ও প্রসাধনী প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আমরা গ্রাম থেকে নিম পাতা, আমলকী, বহেড়া, হরিতকি ও অর্জুনের ছাল কিনে নিয়ে ঢাকায় সাধনা, শক্তি ঔষধালয়সহ বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করি। এ থেকে আমাদের ভালোই আয় হয়। গোপালগঞ্জের এ ভেষজ বাগানের গাছ বড় হলে ফল ও ছাল বেশি পাওয়া যাবে। এখান থেকে সুফলভোগীদের আয় প্রতিবছর বাড়বে। উত্পাদন বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন কোম্পানি সরাসরি তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঝন্টু কুমার সাহা বলেন, ঔষধি গাছ মানুষের জন্য প্রকৃতির অমূল্য দান। এলাকার মানুষ নলিনী রঞ্জন বসাকের আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঔষধি গাছ লাগিয়ে এলাকার মানুষ ও নিজেদের জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছেন। এলাকার মানুষ বিনা পয়সায় ঔষধি গাছ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। আবার আবাদকারীরা অর্থ আয় করছেন। ভেষজ ওষুধ সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় মানুষ ভেষজ ওষুধ ও ভেষজ প্রসাধনীর ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। 

পরিবেশ কর্মীর বক্তব্য 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশর কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সবুর লস্কর ও পরিবেশ কর্মী মোঃ শাহজাহান সাজু বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঔষধি গাছের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। যেকোন গাছই দূষিত বাতাস গ্রহণ করে নির্মল বাতাস প্রদান করে। তবে ঔষধি গাছের কিছু কিছু বাড়তি গুণ রয়েছে। যেমন নিম গাছের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস অনেক রোগ-বালাই দূরে রাখতে সাহায্য করে। এই বাতাস ফসলের ক্ষেতে কীটনাশকের মতও কাজ করে। 

উদ্যোক্তার বক্তব্য 

প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. নলিনী রঞ্জন বসাক বলেন, প্রথমদিকে মানুষ ঔষধি গাছের আবাদের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। আস্তে আস্তে তারা যখন রোগমুক্তিতে ঔষধি বৃক্ষ থেকে উপকার পেতে শুরু করেন ও সুফলভোগীরা অর্থের মুখ দেখছেন তখন এর গুরুত্ব বেড়েছে। কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার ১০টি গ্রামে ঔষধি গাছের আবাদ সফল হয়েছে। এখন স্থানীয়রা এর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। গ্রামগুলো এখন ঔষধি গাছের গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। অর্থনৈতিক ও চিকিত্সার দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ গাছের চাষ এলাকায় সম্প্রসারিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক।


কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত - কীটনাশক ছাড়া ধান চাষ



কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত - কীটনাশক ছাড়া ধান চাষ
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে পোকামাড়কের উপদ্রব থেকে ধানের ক্ষেত রক্ষায় ‘পার্চিং’ পদ্ধতি কৃষকদের নিকট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ধান ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে পোকামাকড় দমন হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। কয়েক বছর আগে অল্প সংখ্যক জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার চোখে পড়তো। কিন্তু উপকার পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কৃষক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কালীগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের রোপণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ১৯৮ হেক্টর। সেখানে রোপণ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ১ হাজার ৩৮২ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, এ বছর ধান রোপণের সময় এ এলাকায় তেমন একটা বৃষ্টি হয়নি। তাই বাড়তি খরচ করে সেচ দিয়ে জমি রোপণ করতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ধান ক্ষেতে নলীমাছিসহ নানা প্রকার ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি মৌসুমে কৃষকের ধান ক্ষেতে ব্যাপকভাবে মাজরা, ঘাসফড়িং, গান্ধি, পদ্মা, লেদাপোকা, কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানোসহ নানা ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে ব্যাপকভাবে নলীমাছির আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই মাছি ধান গাছের মাঝের জালি পাতা কুঁকড়ে নল বা পাইপের মতো করে তুলছে। পোকামাকড়ের আক্রমণে ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তখন তারা নিরুপায় হয়ে বাজার থেকে নানা ধরনের কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে ব্যবহার করে। কিন্তু এসব কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকরা ফসল রক্ষায় তেমন কোন উপকার পায় না, আবার জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়। তাই বর্তমানে কৃষকরা আইপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝে গাছের ডালপালা কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া শুরু করেছে। এই গাছের ডালপালা বা বাঁশের কঞ্চিতে শালিক, ফিঙেসহ নানা প্রজাতির পাখি বসে ক্ষেতে আক্রমণকারী পদ্মা, ঘাসফড়িং, লেদা পোকা, কারেন্ট পোকা, গান্ধি, মাজরাসহ ক্ষতিকারক নানা পোকামাকড় ও মথ খেয়ে ফেলে বলে কৃষকরা জানান।
কালীগঞ্জ পৌরসভার আনন্দবাগ গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদ আলাপকালে জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতে নলীমাছি আক্রমণ করায় দানাদার ব্যবহার করেছেন কিন্তু কোন উপকার পাননি। তাই তিনি আর কোন কীটনাশক ব্যবহার না করে জমির মাঝে মাঝে ডাল পুঁতে দিয়েছেন। যাতে পাখি বসে নলীমাছি ছাড়াও অন্যান্য পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে তার ক্ষেতের ভালোই উপকার হচ্ছে বলে তিনি জানান। কৃষকরা সকলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে উপকৃত হবে, ধানের চারা রোপণকালীন সময়ে জমিতে কমপক্ষে ৬-৭টি করে ডাল পুঁতে দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি মাজরা পোকা ৩০০ থেকে ৩৫০টি ডিম পাড়ে। ক্ষেতে ডাল বা কঞ্চি পুঁতে দিলে তাতে পাখি বসে ডিমগুলো খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষেত অনেকাংশে পোকামুক্ত হয়। তিনি দাবি করে বলেন, উপজেলার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কৃষক বর্তমানে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, উপজেলার ১০০ ভাগ কৃষক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে কৃষকরা উপকৃত হত এবং কীটনাশকের খরচ কমে যেত। এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক কৃষক এখনো সচেতন হয়নি।
 সূত্র - ইনকিলাব।

Thursday, October 3, 2013

ক্ষতিকর ইউক্যালিপ্টাস গাছের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

ক্ষতিকর ইউক্যালিপ্টাস গাছের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৩, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

হাবিবুর রহমান


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানার রাস্তার দুই পাশে ইউক্যালিপ্টাস গাছ লাগানো হয়েছে : নয়া দিগন্ত
ইউক্যালিপ্টাস বা আকাশমণি আমাদের সবারই অতিপরিচিত একটি বৃরে নাম। সামাজিক বনায়নের বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ইউক্যালিপ্টাস গাছ লাগানো হয়েছে। কিন্তু এই গাছ আমাদের জলবায়ু, মাটি, কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বর্তমানে দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই গাছের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের আশপাশেও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে এই গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা অনেকটা না জেনেই ইউক্যালিপ্টাস গাছ, কৃষিজমির পাশে, বাড়ির আঙিনায় ও রাস্তার পাশে ব্যাপকভাবে রোপণ করছেন। মূল দ্রুতবর্ধনশীল হওয়ার কারণে ইউক্যালিপ্টাস গাছের প্রতি বেশি ঝুঁকছে বলে উত্তরাঞ্চলের একাধিক কৃষক জানিয়েছেন। দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাসহ অন্যান্য থানার স্থানীয়রা বসতবাড়ির পাশে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে, পতিত জমি ও আবাদি জমির আইলে ইউক্যালিপ্টাস গাছ রোপণ করেছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, ইউক্যালিপ্টাস গাছ আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার পানি শোষণ করে এবং আকাশে উঠিয়ে দেয়। এই গাছ রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছেড়ে দেয়। জমির আইল, কৃষিজমি ও পতিত জমিতে এই গাছ লাগানোর কোনো মানে নেই, বরং ক্ষতিকর। এই গাছের আশপাশে কোনো গাছ জন্মাতে পারে না। ইউক্যালিপ্টাস গাছ মাটি শুকিয়ে ফেলে এবং জমির উর্বরতা কমে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ইউক্যালিপ্টাস অতি দ্রুতবর্ধনশীল বিদেশী প্রজাতির বৃক্ষ। এটি মাটির ৫০ ফুট নিচে পর্যন্ত পানি শোষণ করে বাতাসে ছেড়ে দেয়। যে কারণে মাটিতে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়। ইউক্যালিপ্টাস গাছের শিকড় এত বেশি বৃদ্ধি পায় যে এই গাছের পাশে ধানগাছ থেকে শুরু করে অন্য কোনো প্রজাতির গাছ টিকতে পারে না। এই গাছের কাঠের গুণাগুণ ভালো হয় না। এটি মাটির গুণাগুণ এবং উর্বরতা নষ্ট করে। মাটি এক সময় চুনামাটি হয়ে যায়। আর ইউক্যালিপ্টাস গাছ কেটে ফেললে মাটির উর্বরতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। ইউক্যালিপ্টাস গাছ বেশি পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করার কারণে অধিক পরিমাণে কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন করে। কৃষিজমি ও বাড়ির আঙিনায় ইউক্যালিপ্টাস গাছ বর্জন করা উচিত। কৃষিজমি রক্ষা করতে হলে ইউক্যালিপ্টাস বর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ভাবা উচিত, বিভিন্নভাবে কম খরচে কিভাবে বৃক্ষরোপণ করা যায়। অধিক পরিমাণে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ করা যায়। বনায়নের জন্য দেশী ফলদ বৃক্ষ বেছে নিলে এক দিকে যেমন ফল পাওয়া যাবে অন্য দিকে মূল্যবান কাঠও পাওয়া যাবে। উদ্ভিদবিদদের মতে, ইউক্যালিপ্টাস গাছ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামিয়ে দেয়, যা পানির সামান্য উৎসকেও নিঃশেষ করে দিচ্ছে। ইউক্যালিপ্টাস গাছের শ্বসনে কার্বন-ডাই অক্সাইড ত্যাগের মাত্রা বেশি, যার ফলে এই গাছের নিচে অন্য কোনো গাছ জন্মায় না। এই গাছে কোনো পাখি বাসা বানায় না। পানির স্তর কমানোর কারণে ইউক্যালিপ্টাস জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করছে। ইউক্যালিপ্টাস গাছের ফুলের রেণু নিঃশ্বাসের সাথে দেহে প্রবেশ করলে অ্যাজমা হয়। ইউক্যালিপ্টাস গাছের পাতা মাটির জন্য তিকর। মাটিতে পড়ার পর পাতার পচনেও অপোকৃত বেশি সময় লাগে, যা মাটি ভেদ করে পানি ভূগর্ভে যেতে বাধার সৃষ্টি করে। ইউক্যালিপ্টাস বা আকাশমণির ইংরেজি নাম Auri, Ear leaf, Acacia ও বৈজ্ঞানিক নাম Acacia auriculiformis. এটি খুব দ্রুত বাড়ে। ইউক্যালিপ্টাস অন্যান্য গাছে চেয়ে বেশি খাবার খায় ও অক্সিজেন শোষণ করে এবং কার্বন-ডাই অক্সইড ত্যাগ করে, পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় কোনো পাখিও বাসা বাঁধে না। ইউক্যালিপ্টাস গাছ তিকর, এটি বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কমিয়ে ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু নার্সারি চাষি ইউক্যালিপ্টাস গাছের চারা তৈরিসহ বাজারজাত অব্যাহত রেখেছে। উত্তরাঞ্চলে হাটবাজারগুলোতে অন্যান্য পণ্যের মতো নার্সারি থেকে ইউক্যালিপ্টাস গাছের চারা বিক্রি করা হয়। দেখতে খুবই স্মার্ট এবং সস্তা এই চারা। কৃষকেরা কেনাবেচা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই গাছের চারা নিয়ে জমির আইলে, কৃষি ক্ষেতের পাশে এবং পতিত জমিতে রোপণ করছেন। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি জমি ও পরিবেশের ভারসাম্য রার জন্য পানিখেকো গাছের চারা উৎপাদন ও লাগানো বন্ধে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে রোপণ বন্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রার জন্য ফলদ ও ঔষধি গাছ রোপণের পাশাপাশি ইউক্যালিপ্টাস গাছের তিকর দিকগুলো চাষিসহ আপামর জনগণকে জানাতে হবে। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর প্রাণঘাতী আঘাত হানবে।
সূত্র - দেনিক নয়াদিগন্ত।

বাংলাদেশি কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করল বিএসএফ

বাংলাদেশি কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করল বিএসএফ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বজলুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ সোমবার উপজেলার ভারত সীমান্ত সংলগ্ন রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে বজলুর রহমান (৪৮) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ১৫৭/১ এস সীমানা পিলারের ৩০০ গজ দূরে বাংলাদেশের ভেতরে কলমিলতা সংগ্রহ করছিল। এ সময় ভারতের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার বিএসএফ ৯১ ব্যাটালিয়নের বাউশমারী ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে লাঠি ও রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ একটি ডোঙ্গায় করে মাথাভাঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। অন্যান্য কলমিলতা সংগ্রহকারীরা নদীর মধ্যে বজলুর লাশ দেখে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির ৩২ ব্যাটালিয়নের চিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবদার ইউনুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

Tuesday, October 1, 2013

সাশ্রয়ী : পরিবেশের ক্ষতি করে না হচ্ছে জনপ্রিয়

সাশ্রয়ী : পরিবেশের ক্ষতি করে না হচ্ছে জনপ্রিয়
সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে নজির হোসেন নজু : সৈয়দপুরে আমন ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে কৃষিবান্ধব পার্চিং পদ্ধতিতে কৃষকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।  তবে লাইভ পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কৃষকদের মাঝে। কারণ এ পদ্ধতি প্রয়োগে যেমন ধৈঞ্চে গাছের ঝরে পড়া পাতা থেকে ক্ষেতে তৈরি হচ্ছে জৈব সার পাশপাশি ক্ষেতের পোকা দমনে কৃষকদের অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে। তাই গোটা উপজেলার আমন ক্ষেতে ক্ষেতে বর্তমানে পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে ।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন ক্ষেতে মাজরা, পাতামোড়ানো, ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, লেদাপোকা প্রভূতি নানা ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করে। ক্ষেতে আক্রান্ত পোকামাকড় দমনে কৃষকরা বাজার থেকে চড়ামূল্যে রাসায়নিক কীটনাশক সংগ্রহ করে আমন ক্ষেতে প্রয়োগ করছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে কৃষকরা। তবে আমন ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি প্রতি কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায় ক্ষেতের পোকামাকড় দমনের এই কৃষিবান্ধব একটি পদ্ধতি হচ্ছে পার্চিং। পোকামাকড় দমনে মূলতঃ দু’ধরনের পার্চিং পদ্ধতি রয়েছে। এর একটি হচ্ছে “লাইভ পার্চিং” ক্ষেতে ধৈঞ্চে গাছ লাগানো। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম সেচবানিয়া রোস্টট্রাটা। এটির আফ্রিকান জাত। অপর পদ্ধতিটি হচ্ছে ডেড পার্চিং অর্থাৎ ফসলের ক্ষেতে গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, সাধারণত আমনের বীজ বপনের সময় আমন বীজের সঙ্গে এ ধৈঞ্চে গাছের বীজও আমন বীজতলায় বপন করা হয়। আমন চারার সঙ্গে সঙ্গে এটিও যথাযথভাবে বেড়ে উঠে। এরপর জমিতে আমন বীজ রোপনের ৫/১০দিনের মধ্যে আমন ক্ষেতে ধৈঞ্চে গাছ রোপন করতে হয়। তবে আমন বীজতলা থেকে তোলা একটি ধৈঞ্চে গাছ ২/৩টি অংশে কেটে আমন ক্ষেতে রোপন করা হয়। আমন ধান গাছ বেড়ে উঠার সাথে সাথে এ গাছগুলোও বেড়ে উঠে। পরবর্তীতে এ ধৈঞ্চে গাছগুলো যখন আমন গাছের উচ্চতাকে অতিক্রম করে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে বেড়ে উঠে, তখন এসব ধৈঞ্চে গাছে বসে পাখি। আর ওই পাখি আমন ক্ষেতে উড়ে উড়ে পোকামাকড় ধরে খায়। তাছাড়া ধৈঞ্চে গাছের পাতা আমন ক্ষেতের জমিতে ঝরে পড়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে জৈব সার। এতে করে লাইভ পার্চিং পদ্ধতির কারণে একদিকে আমন ক্ষেতে আক্রান্ত পোকামাকড় দমনে ক্ষেতে কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশক ছিটাতে হয় না। অন্যদিকে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করাও প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে আমন চাষাবাদে কৃষকদের অর্থনৈতিক দিকে থেকেও সাশ্রয় হচ্ছে। কারণ রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে তাদের অনেক অর্থ ব্যয় হতো। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার সৈয়দপুর উপজেলায় বিভিন্ন কৃষি ব্লকে কীটনাশক দমনে কৃষিবান্ধব লাইভ পার্চিং ও ডেড পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন কৃষকরা। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) জানান, এবারে উপজেলার ১৪টি কৃষি ব্লকে ৪ হাজার ৫শ’হেক্টরে লাইভ পার্চিং এবং ২হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে ডেড পার্চিং লাগানো হয়েছে। তবে চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ও পৌরসভা কৃষি ব্লকের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি আমন ক্ষেতে লাইভ পার্চিং এবং ডেড পার্চিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। আর কৃষি বিভাগ লাইভ পার্চিংয়ের জন্য ধৈঞ্চের বীজ বিনামূলে সরবরাহ করছে কৃষকদের। সৈয়দপুর পৌরসভার কয়া কৃষি ব্লকের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি এ বছর ৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। প্রতি বছরই আমন ক্ষেত বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় আক্রান্ত হয়। তখন ক্ষেতের পোকা দমনে রাসায়নিক সার প্রয়োগে তাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হতো। কিন্তু এবারে লাইভ পার্চিং পদ্ধতি অর্থাৎ ধৈঞ্চে গাছ লাগানোর ফলে তেমন একটা পোকামাকড়ের আক্রমন হয়নি আমন ক্ষেতে। ধৈঞ্চে গাছে বসে পাখিরা সব পোকামাকড় খেয়ে ফেলছে। ফলে কৃষিবান্ধব এ পদ্ধতি প্রয়োগে তার আমন চাষাবাদে বেশ উপকার হয়েছে।
কয়া পশ্চিমপাড়ার কৃষক রজব আলী বলেন, পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি এবারই প্রথম তিনি প্রয়োগ করেছেন। আর জমিতে পার্চিং পদ্ধতি  কিভাবে লাগাতে হয় তা আমি আগে জানতাম না। তাই তাদের ব্লকের কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহ্বুবার রহমান এবারের নিজের হাতে তার আমন ক্ষেতে লাইফ পার্চিং অর্থাৎ ধৈঞ্চে গাছ এবং গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি লাগিয়ে দেন। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হোমায়রা মন্ডল, বলেন, ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি একটি পরিবেশসম্মত কৃষিবান্ধব পদ্ধতি। আর পার্চিং পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধৈঞ্চে বীজ সরবরাহ করা হয়। গত বছর অল্প পরিসরে কৃষকরা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলেও এবারে উপজেলার কৃষকদের মাঝে পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি বলেন এ ধরনের উদ্যোগ গোটা দেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
সূত্র - দৈ. ইত্তেফাক

Saturday, September 7, 2013

কৃষি ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের শুভ জম্মদিন

শুভ জন্মদিন

 “ কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের জন্মদিন আজ। তাকে শুভেচ্ছা ”


শাইক সিরাজ, ‍Shayek Shiraj, কৃষকের বন্ধু
 দেশ মাতৃকার এই অনন্য সন্তানকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশের গর্ব, কৃষকের গর্ব জনাব শাইখ সিরাজ আমাদের অবহেলিত কৃষিকে নিয়ে গেছেন এক সম্মানের গৌরবের স্থানে। যে কৃষিকে সবাই অবহেলা করত, তার সুকৌশলী প্রচারনায় কৃষি আজ আমাদের গর্বের ব্স্তুু। তার কৌশলী উপস্থাপনায় শিক্ষিত বেকার যুবক, বৃদ্ধ সহ সকলে আজ কৃষিতে উল্লসিত।
তিনি ১৯৫৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শাইখ সিরাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই সম্পৃক্ত হন গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী গণমাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

কৃষি ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের শুভ জম্মদিন

শুভ জন্মদিন

 “ কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের জন্মদিন আজ। তাকে শুভেচ্ছা ”


শাইক সিরাজ, ‍Shayek Shiraj, কৃষকের বন্ধু
 দেশ মাতৃকার এই অনন্য সন্তানকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। দেশের গর্ব, কৃষকের গর্ব জনাব শাইখ সিরাজ আমাদের অবহেলিত কৃষিকে নিয়ে গেছেন এক সম্মানের গৌরবের স্থানে। যে কৃষিকে সবাই অবহেলা করত, তার সুকৌশলী প্রচারনায় কৃষি আজ আমাদের গর্বের ব্স্তুু। তার কৌশলী উপস্থাপনায় শিক্ষিত বেকার যুবক, বৃদ্ধ সহ সকলে আজ কৃষিতে উল্লসিত।
তিনি ১৯৫৪ সালের ৭ই সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শাইখ সিরাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই সম্পৃক্ত হন গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী গণমাধ্যমে কৃষি উন্নয়নকর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

Monday, August 26, 2013

অধিক ফলনের নিশ্চয়তা বীজের স্বাস্থ্য উন্নয়ন

অধিক ফলনের নিশ্চয়তা বীজের স্বাস্থ্য উন্নয়নবীজ কৃষির প্রথম এবং প্রধান ভিত্তি। ফসল উৎপাদনের অন্য সব কৃষি উপকরণের কমতি, ঘাটতি বা অনুপস্থিতিতেও ভিন্নমাত্রায় ফলন আসে। কিন্তু বীজ ছাড়া কোনো ফলনই আশা করা যায় না। ফসল উৎপাদনে বীজ যত ভালো হবে উৎপাদনও তত বৃদ্ধি পাবে।বীজ কৃষির প্রথম এবং প্রধান ভিত্তি। ফসল উৎপাদনের অন্য সব কৃষি উপকরণের কমতি, ঘাটতি বা অনুপস্থিতিতেও ভিন্নমাত্রায় ফলন আসে। কিন্তু বীজ ছাড়া কোনো ফলনই আশা করা যায় না। ফসল উৎপাদনে বীজ যত ভালো হবে উৎপাদনও তত বৃদ্ধি পাবে।
বীজের নানাবিধ সংজ্ঞা আছে। সহজ সরল ভাষায় বলা যায়, উদ্ভিদের বা ফসলের যে অংশ চারা/গাছ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তা-ই বীজ। ক্ষেত্রবিশেষে পরিপক্ব আসল বীজ, কা-ের অংশ, মূলের অংশ, পাতার অংশ অন্য কোনো উপযোগী অংশ। বীজের মন, স্বাস্থ্য যদি যথাযথ না হয় তাহলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ভেস্তে যাবে। তাই শুরুতে জানতে হয় ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য কেমন_
ষ ভালো বীজ পুষ্ট
ষ কাঙ্ক্ষিত আকারের, সম আকারের দানা
ষ উজ্জ্বল রঙ
ষ চিটামুক্ত, বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন
ষ পোকামাকড় ও রোগমুক্ত
ষ শতকরা ৮০ ভাগ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাসম্পন্ন
ষ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদার্থমুক্ত
ষ অন্য বীজের মিশ্রণমুক্ত।
এ তো গেল ভালো বীজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় ভালো বীজ ব্যবহার করব কেন বা ভালো বীজ ব্যবহার করলে কী লাভ হয়? এর জবাবে বলা যায়_
ষ বেশি ফলন পাওয়া যায়
ষ বেশি লাভ আসে
ষ উৎপাদন খরচ কমে
ষ বীজ কম লাগে
ষ বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়
ষ ভালো বীজ ব্যয়সাপেক্ষে নয় বরং আয়ের উৎস।
বীজের উৎস : গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএডিসির ডিলার/বিশুদ্ধ কোম্পানি/ডিলার/নিকটাত্মীয়/বিশ্বস্ত বীজ উৎপাদনকারী থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের দেশের কৃষক প্রচলিত ধারায় ফসল উৎপাদন করে এবং এই সঙ্গে উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ বীজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যা সুনিশ্চিত করে বীজ উৎপাদন কৌশল সম্পর্কে সাধারণ কৃষক এখনো পূর্ণ সচেতন নয়।
সে জন্য দেশের কৃষি ফলন বীজের স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পেঁৗছাতে পারেনি। সারা দেশে এখনো মানসম্মত বীজের সরবরাহ ৫-১০ শতাংশের বেশি নয়। অথচ আমাদের মানসম্মত বীজ দিয়ে পেঁৗছাতে হবে শতভাগে। শুধু ভালো বীজ ব্যবহারের জন্য ফসলের উৎপাদন কমপক্ষে ১০ ভাগ বাড়ে। বীজের স্বাস্থ্য সমুন্নত রেখে অধিক উৎপাদনের জন্য আমাদের যেসব কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ যত্ন দেয়া প্রয়োজন তা হলো_
বীজ বাছাই : বীজ উৎপাদনে বীজ বাছাই আবশ্যকীয় কাজ। বিভিন্ন পদ্ধতিতে বীজ বাছাই করা যায় যেমন_
ক. কুলা দিয়ে : কুলা দিয়ে ঝেড়ে বা বাতাসে উড়িয়ে চিটা, অর্ধপুষ্ট, পুষ্ট বীজ আলাদা করা যায়।
খ. হাতবাছাই : হাত দিয়ে ভালো, খারাপ, দাগযুক্ত, ভাঙা, বিবর্ণ, ছোট দানা, ইট-পাথরের কণা এসব একবারে বাছাই করা হয়। পরে শুধু ভলো বীজ কাজে লাগানো হয়।
গ. পানি দিয়ে বাছাই : বালতি বা অন্য কোনো পাত্রে ৪০ লিটার পানির সঙ্গে দেড় কেজি ইউরিয়া মিশিয়ে এর মধ্যে বীজ ছেড়ে দিতে হয়। ভারী, স্বাস্থ্যবান, পুষ্ট বীজগুলো পানির নিচে জমা হবে। আর অপুষ্ট, হালকা, রোগাক্রান্ত, ভাঙা বীজ পানির ওপর ভেসে থাকবে। ভাসমান বীজগুলো ওপর থেকে আলাদা করে নিতে হবে। ইউরিয়ার পরিবর্তে লবণও ব্যবহার করা যায়। এরপর দ্রবণের নিচে জমা বীজগুলো তুলে নিয়ে পরিষ্কার পানিতে তিন-চার বার ধুয়ে ছায়ায় শুকিয়ে বীজতলায় বপন করতে হবে।
বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা : যে কোনো সময় বীজতলায় বীজ বপনের আগে অবশ্যই বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করে নিতে হবে। কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ গজানো বীজ বপনের উপযুক্ত বলে ধরে নিতে হবে। ভেজা কাপড়, বালিভর্তি মাটির পাত্র, নিউজ পেপার, কলার পাতা, খোল এসব দিয়ে বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করা যায়। প্রতি ক্ষেত্রেই ১০০টি বীজ নিয়ে ভলোভাবে বিছাতে হবে। প্রতিদিন হালকা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ভালোভাবে অঙ্কুরিত হলে গণনা করতে হবে। ভালোমানের বীজ নিশ্চিত হওয়ার পরই বীজতলায় বপনের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
বীজতলা : আমাদের দেশে সময়, স্থান, অবস্থাভেদে বিভিন্ন ধরনের বীজতলা করা হয়। এর মধ্যে শুষ্ক, ভেজা, কাদাময় বীজতলা বেশি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া শুকনা, দাপোগ, ভাসমান বীজতলা প্রয়োজনবোধে করা যায়।
বীজতলার জন্য দো-অাঁশ বা বেলে দো-অাঁশ মাটি বেশি ভালো। বীজতলার মাটিতে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে দু-তিনটি চাষ মই দিয়ে অন্তত ৭-১০ দিন পর্যন্ত জমিতে পানি আটকিয়ে রাখতে হবে। এরপর ভালোভাবে চাষ মই দিয়ে চূড়ান্তভাবে বীজতলা তৈরি করতে হবে।
আগেই অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করা বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে আউশ/আমনের জন্য দুই দিন এবং বোরোর জন্য তিন দিন জাগ দিয়ে মুখ ফাটলে বীজতলায় বীজ ফেলতে হবে। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ২ হাজার করে জায়গার জন্য ৮০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। বীজতলার একক জমির চারা দিয়ে ২০-২৫ গুণ মূল জমিতে রোপণ করা যায়। বীজতলায় সব সময় পানি রাখা, শীতকালে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া, চারা হলুদ হয়ে গেলে ২ হাত দৈর্ঘ্য, ২ হাত প্রস্থ জায়গার জন্য ৭ গ্রাম হারে ইউরিয়া প্রয়োগসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাজ যথাযথভাবে করতে হবে।
চারা উঠানো : চারা উঠানোর আগে বেশি করে পানি দিতে হবে যাতে মাটি নরম হয়ে যায় এবং চারা তুলতে সহজ হয়। যত্নসহকারে চারা তুলতে হবে যাতে চারা বা চারার শেকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চারা তোলার পর পরই লাগানো ভালো। যদি লাগাতে দেরি হয় তাহলে ছায়ায়, আলোবাতাসযুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মূল জমিতে লাগাতে হবে।
চারা রোপণ : চারা লাগানোর আগে জমিকে ৫-৬টি আড়াআড়ি চাষ দিয়ে ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। মৌসুমওয়ারি চারার বয়স ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে আউশ মৌসুমে ২০-৩০, আমন মৌসুমে ৩০-৩৫ এবং বোরো মৌসুমের জন্য চারার বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে বেশি ভালো। চারা অবশ্যই লাইনে রোপণ করতে হবে। লাইন থেকে লাইন ২০-২৫ সেন্টিমিটার এবং গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১০-১৫ সেন্টিমিটার বজায় রাখতে হবে। প্রতি গুছিতে ২-৩টি চারা রোপণ করতে হবে। রোপণের সময় গভীর করে রোপণ করলে কুশির সংখ্যা কম হলেও ফলনশীল কুশির সংখ্যা বাড়ে। তবে রোপণের দূরত্ব জমির উর্বরতা, জাত, মৌসুম ও রোপণ সময় অনুসারে ভিন্ন হয়।
মৌসুম, জাত জমির উর্বরতার জন্য অঞ্চলভেদে সারের মাত্রা ভিন্ন হয়। তবে গড়ে প্রতি বিঘার জন্য আমন ধানে ইউরিয়া, এমপি, জিমসাম ও দস্তার অনুপাত হবে ২০:২৫:১৫:১০:০৮:১.৫ কেজি আর বোরোর জন্য একই পরিমাণ জমিতে সারের মাত্রা হবে ২৫:৩০:১৭:১৫:০৮:১.৫ কেজি। ইউরিয়া তিন কিস্তিতে উপরি প্রয়াগ হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছা দমন : আগাছ শুধু খাদ্যেই ভাগ বসায় না, আলো, বাতাস ও বৃদ্ধিতেও ভাগ বসায়। বিশেষ করে অপকারী বা ক্ষতিকারক পোকা রোগের পোষক হিসেবে কাজ করে। আউশ-আমন মৌসুমে রোপণের পর ৩০-৪০ দিন আর বোরো মৌসুমে ৪০-৫০ দিন জমি যে কোনোভাবেই আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
সেচ ব্যবস্থাপনা : রোপণের সময় থেকে কাইচ থোড় আসা পর্যন্ত জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে। কাইচ থোড় আসার পর পানির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। সারের ওপর প্রয়োগের সময় পানি কমিয়ে দিতে হবে, আবার প্রয়োগের দু-তিন দিন পর পানি দিলে সারের কার্যকারিতা বাড়ে। ধান শক্ত হওয়া শুরু হলে জমি থেকে পানি সরিয়ে নিতে হবে।
বালাই ব্যবস্থাপনা : পরিকল্পিতভাবে ধানের আবাদ করলে বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। তবে পুরো জীবনকার সময়ে পোকা বা রোগের আক্রমণ দেখা দিলে শুরুতেই বালাইনাশক প্রয়োগ না করে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
বিজাত বাছাই (রগিং) : কোনো কাঙ্ক্ষিত ফসলের জমিতে নির্দিষ্ট জাত ছাড়া অন্য যে কোনো জাতের উপস্থিতি থাকলে জাতের বিশুদ্ধ, মান সবই নষ্ট হয়। সে জন্য বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিজাত বাছাই আবশ্যকীয় কার্যক্রম। বিজাত বাছাইকালে কাঙ্ক্ষিত জাত ছাড়া অন্য সব জাত, রোগাক্রান্ত জাত, রোগাক্রান্ত শীষ এবং আগাছা বাছাই করতে হয়। বীজ উৎপাদন কৌশলে অন্তত তিনবার বিছাত বাছাই করতে হয়। প্রথমবার রোপণের ৪০ দিন পর সর্বোচ্চ কুশি অবস্থায়, দ্বিতীয়বার শীর্ষ বের হওয়ার আগ থেকে ৭-১০ দিন পর এবং তৃতীয়বার ফলস কাটার ৭-১০ দিন আগে করতে হয়।
ফসল কাটা, মাড়াই ও শুকানো : জমিতে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ ধানের চাল শক্ত এবং স্বচ্ছ হলে ধান কাটতে হয়। বেশি পাকলে ধান ঝরে যায়। বীজ ধান কাটার পর মাঠে ফেলে না রেখে যথাসম্ভব ভালো ফ্লোরে মাড়াই, ঝাড়াই করে শুকিয়ে নিতে হবে। মাড়াই, ঝাড়াইয়ের সময় খেয়াল রাখতে হবে বীজের গায়ে যেন কোনো আঘাত না লাগে। বীজ রোদে তিন-চার বার শুকিয়ে আর্দ্রতা ১২ ভাগ পর্যন্ত আনতে হবে। দাঁত দিয়ে বীজ কাটলে কটকট শব্দ হলে বুঝতে হবে বীজ ভালোভাবে শুকিয়েছে।
সংরক্ষণ : বীজ শুকানোর পর ঠা-া করে সংরক্ষণ করতে হবে। প্লাস্টিক ড্রাম, টিনের বা মাটির পাত্রে (আলকাতরা বা রঙ দিয়ে প্রলেপ দেয়া) বীজ রেখে ভালোভাবে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় পাত্রের তলায় এক স্তর শুকনো পরিষ্কার ঠা-া বালু, মাঝে এক খ- চুন এবং বীজের ওপর বা বীজপাত্রের মুখে শুকনো নিম বা নিশিন্দা বা বিষকাটালীর পাতা গুঁড়া করে রেখে দেয়া পাত্রটি সম্পূর্ণ বীজ দিয়ে পূরণ করা না গেলে খালি অংশ শুকনো তুষ বা ছাই বা কাঠের গুঁড়া, চকপাউডার দিয়ে ভর্তি করিয়ে নিতে হবে। সংরক্ষণ করা বীজ মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করে নিয়ে প্রয়োজনে শুকিয়ে নিতে হবে। বীজপাত্রটি মাচার ওপর রেখে দিতে হবে।
মোটামুটিভাবে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা সবাই ইচ্ছা করলে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করতে পারি এবং বীজের স্বাস্থ্য সঠিক রেখে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে পারি। তবে বীজ উৎপাদন কৌশলে স্থানীয় বস্নক সুপারভাইজারের পরামর্শ গ্রহণ করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়।
সূত্র - দৈনিক যায় যায় দিন, প্রখ্যাত উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদ ড. এম এ তাহের মিয়া 

চাঁদপুর মাছঘাট পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সরগরম

চাঁদপুর মাছঘাট পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সরগরম


চাঁদপুরে মাছঘাটে পদ্মার ইলিশের ইস্তূপ : নয়া দিগন্ত
গত দুই সপ্তাহে দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশ আড়ত চাঁদপুর মাছঘাটে পদ্মার ইলিশ আমদানি হওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে। বরিশাল, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলেরা ট্রলারে শত শত মণ ইলিশ নিয়ে আসছেন। এতে চাঁদপুরের মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ইলিশ রফতানি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দেখা যায়। এখন রাতদিন শত শত শ্রমিক ইলিশ ওজন দিয়ে বাক্সভর্তি করে ট্রেন ও ট্রাকে ভর্তি করছেন। মাছঘাট ঘুরে আলাপকালে গত শনিবার জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগে থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথমে ইলিশের দাম বেশি থাকলেও এখন অনেকটা সহনশীলপর্যায়ে এসেছে। আমদানি হওয়ায় ইলিশ চাঁদপুরের স্থানীয় বাজারে বিক্রি না হয়ে শুধু বাক্সভর্তি হয়ে রফতানি হয়। বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী সিরাজ চোকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশের পাইকারি মূল্য নির্ধারণের পর প্যাকেটজাত ও বাক্সভর্তি করে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম সিফুডে পাঠানো হয়। এ মাছঘাটে প্রায় ৩৯টি মাছের আড়ত রয়েছে। এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তবে বিক্রি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্য শ্রমিক জানান, চাঁদপুর থেকে রফতানি ইলিশ বেশি অংশই সিলেটসহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যায়। ভারতে মাছ পাচার হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শান্তি ফিসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার গাজী জানান, আগে এলসি খোলা থাকলেও এখন সম্পূর্ণভাবে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ভারতে মাছ পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে কারা ভারতে মাছ পাঠাচ্ছে, তা আমাদের সঠিক জানা নেই। মৎস্য ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, পদ্মার আমদানি ইলিশের মধ্যে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি সাড়ে ৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের সাড়ে ৬০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ৮০০ টাকা, ১ কেজির ওপরে ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে চাঁদপুরের শত শত জেলে রাতদিন মেঘনায় চষে বেড়ালেও আহরণ করতে পারেননি কাক্সিত ইলিশ। অল্প ইলিশ পেলেও খরচ বাদে তাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। সরেজমিন সদর উপজেলার হানারচর হরিণা ফেরিঘাট, রামদাসদি, বহরিয়া, বড় স্টেশন ও আনন্দ বাজার এলাকা ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ফেরিঘাট এলাকার জেলে মনছুর ছৈয়াল, নুরু ছৈয়াল, হারুন শেখ, নেছু দর্জি একই নৌকায় মাছ ধরেন। মনছুর ছৈয়াল জানান, প্রতিদিন দেশীয় সুতার জালে তারা চার-পাঁচবার নদীতে জাল ফেলেন। শনিবারও তিনবার জাল ফেলে ৫০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি মাছ পেয়েছেন। এতে তাদের খরচের টাকাও উঠবে না। ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মেম্বর আহছান সৈয়াল জানান, ঈদের আগে থেকে ইলিশ কিছুটা জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে। তবে কাক্সিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। যা-ও পাচ্ছেন এর মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশই বেশি। আরেক মৎস্য ব্যবসায়ী সেরাজল শেখ জানান, গত বছর ভরা মওসুমে বড় বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া গেছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ও জাটকা নিধনে মেঘনায় কাক্সিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁদপুরের জেলেদের সংগঠন কান্ট্রিবোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক জানান, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর, মতলব দণি, সদর ও হাইমচর উপজেলায় সরকারি হিসাবে জেলে রয়েছেন ২২ হাজার ৯ জন। আর বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। তাদের সরকার মার্চ-এপ্রিল অভয়াশ্রমকালে যে সহায়তা দেয় তাতে তাদের চাহিদার একাংশও পূরণ হয় না। সরকারি সহায়তা বিতরণের বেশির ভাগ প্রকৃত জেলেরাই বাদ পড়ে যান। এ কারণে জাটকা নিধন বন্ধ সম্ভব হয় না। ফলে এখন ভরা মওসুমে মেঘনায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন দত্ত জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর আমরা জাটকা নিধনে অধিকতর অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তারা সরকারি সহায়তা নিয়ে বেশি করে জাটকা নিধন করেছেন। এ কারণে ইলিশের ভর মওসুমে আকাল দেখা দিয়েছে। তবে নদীতে পানি বাড়লে কাক্সিত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা ড. আক্সিুর রহমান জানান, হতাশার কিছু নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেই নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়বে।
সূত্র - দৈনিক নয়াদিগন্ত।

Thursday, August 22, 2013

মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ


ভোলা জেলার চরফ্যাশন-মনপুরার জলসীমানা মেঘনায় জেলেদের জালে অসময়ে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। খুশি জেলে ও আড়তদাররা। জেলেদের বসে থাকার বিন্দুমাত্র সময় নেই। সবাই ছুটছেন মাছ শিকারের জন্য নদী ও সাগরে। তবে পাইকারি বাজারে মাছের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও খুচরা বাজারে অগ্নিমূল্য। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা খুশি থাকলেও ক্রেতারা হতাশ। তবে আড়তদাররা দাবি করছেন, এলসি বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজারে মাছের দাম কিছুটা কম।
মৎস্যজীবীরা জানান, বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ৬ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। প্রাকৃতিক নিয়মে ওই সময় ভোলাসংলগ্ন তেঁতুলিয়া, মেঘনাসহ বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরার কথা থাকলেও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে মাছ ধরা পড়ছে। কয়েকদিন থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাছের আনাগোনা অনেক বেশি।
ঢালচর জেলে সমিতির সভাপতি সালাম হাওলাদার জানান, ভরা মৌসুমের দু’মাস পর সাগরে মাছ ধরা পড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা অনেক খুশি। তবে গত মৌসুমের চেয়ে এবার অনেক কম মাছ ধরা পড়ছে। মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে মাছ ধরা না পড়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক আড়তদারকে। এখন অনেকেই সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তাদের আগামী মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারেও বলেও মনে করছেন। আড়তদাররা জানান, প্রতি মৌসুমেই ভোলা থেকে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ বরিশাল, ঢাকা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জের বড় বড় পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়। সেখান থেকেই কাক্সিক্ষত মূল্য পেয়ে আসছিলেন তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু কম।
ভোলার চরফ্যাশনের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঢালচরের মৎস্য আড়তদার কালাম পাটোয়ারি জানান, এখন বরিশালের পাইকারি বাজারে এক পোন (৮০ পিস) ইলিশ ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এর দাম ছিল ৩২ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত। চাঁদপুর ও ঢাকায় মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। গত মৌসুমে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। নারায়ণগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি পোন বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ৩০ হাজার টাকা। গত মৌসুমে এর দাম ছিল ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি। তিনি বলেন, এখন ঝাঁকে ঝাঁকে নদী ও সাগরে মাছ ধরা পড়ছে। তাই আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আড়তদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে বেশি মূল্যে মাছ কিনে মোকামে তা বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে লাভ একটু কম হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে মাছের দাম কম অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ শিকারে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন জেলেরা। লোকসান গুনতে হচ্ছে আড়তদারকেও। এলসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের ব্যবসায় অনেকটা মন্দা ভাব চলছে বলে জানান তিনি। পুবের চর, কিল্লার ঘাট, আনন্দ বাজারের মৎস্য আড়তদার জাহাঙ্গীর তালুকদার, কাজী সালাউদ্দিন, শাহে আলমসহ অন্যরা জানান, গত বছর এসব ঘাট থেকে দৈনিক ৪০ লাখ টাকার মাছ ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় যেত। এ বছরও তা ছুঁই ছুঁই করছে। কিন্তু দাম কম হলেও খরচ বেড়েছে বহুগুণ।
মৎস্য আড়তদার সহিদ জানান, ১০/১৫ দিন ধরে মেঘনায় মাছ পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলেদের জালে আরও বেশি মাছ আটকা পড়ছে যার প্রতিটির ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ কেজি ওজনের ইলিশও ধরা পড়ছে। মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মাঝে খুশির বন্যা বইলেও মাছের দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ অনেকে। তিনি বলেন, জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা চরম শংকার মধ্যে রয়েছেন।
তজুমদ্দিন সইস ঘাটের মৎস্য আড়াতদার রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় তেমন একটা মাছ ধরা পড়ছে না। মৌসুমের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে মাছ পড়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর এ মৎস্য ঘাট থেকে প্রতিদিন অর্ধ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ লাখ টাকার মাছ। এদিকে, বোরহানউদ্দিনের মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বড় সাইজের মাছ ধরা পড়ায় দামও বেশি। তবে এখানকার আড়তদাররা অনেকটা লাভের মধ্যে রয়েছেন বলে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান। হাকিমুদ্দিন মৎস্য ঘাটের আড়তদার উজ্জ্বল হাওলাদার জানান, মাছ ধরা পড়ছে, আবার বৃদ্ধি পেয়েছে জলদস্যুদের উপদ্রব। জেলেদের জালে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। পাইকারি বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫/৪০ হাজার টাকায়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তাই কয়েকদিন থেকে নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে ইলিশ সাগর থেকে নদী মোহনায় চলে আসেছ। প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে ইলিশ শিকারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। 
Daily Jugantor, শিপু ফরাজী, চরফ্যাশন,প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০১৩

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে সাফল্য : বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠকছে ভোক্তারা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে সাফল্য : বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠকছে ভোক্তারা    
মিজানুর রহমান তোতা : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছেন চাষীরা। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটি দেশের মধ্যে মডেল। যশোর-ঝিনাইদহ ও যশোর-মাগুরার হাইওয়ে সড়ক ধরে এগুলো দু’দিকে যতদুর চোখ যায় দেখা যাবে মাঠে মাঠে সবজির বড় বড় ক্ষেত। দিনরাত সমানতালে পরিশ্রম করে চাষীরা। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তা উভয়েই ঠকছে প্রতিনিয়ত। সবজি উৎপাদনে  যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরাসহ দক্ষিণের এই অঞ্চলটি রীতিমতো রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়। রেকর্ডের সুফল ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। সবজি চাষীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সবজির বাজারে ঢুকে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করে কখনোই ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে বারীনগরের সবজি চাষী জয়নাল আবেদীন, পুলেরহাটের আবজাল হোসেন ও আমবটতলার আব্দুল কুদ্দুস জানালেন, যশোর শহরের বড় বাজার থেকে তাদের এলাকার দূরত্ব মাত্র ১০/১২ কিলোমিটার। মাঠের দাম আর বাজারের দামের বিরাট ফারাক রয়েই গেছে। প্রায় দ্বিগুণ লাভ করছে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকারী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। সব সবজির ক্ষেত্রেই একই নিয়ম চলছে। বর্তমানে বিষমুক্ত সবজির সাথে কীটনাশক ব্যবহার করা সবজি মিশিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যশোর ও মাগুরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিষমুক্ত সবজি মাঠ থেকে ক্রয় করে নিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ভেজাল দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছে। 
জানা যায়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সরাসরি চাষীদের প্রশিক্ষণ দেন। চাষীরা প্রশিক্ষণ বাস্তবে কাজে লাগিয়ে কীটনাশকের বদলে সবজির পোকা-মাকড় দমন করা শুরু করে ‘ফেরোমন ট্রাপ’সহ আইপিএমএর বিভিন্ন পদ্ধতিতে। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের উদ্যোক্তা হচ্ছেন কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের আবাদ এলাকা বহুগুণে বেড়েছে। যশোরের গাইদঘাট মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়। বিরাট সফলতা আসে। এবারও করলাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পোকা-মাকড় দমন ও অধিক ফলনে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হত চাষীদের। বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত্রে এখন কীটনাশক ও সার ব্যবহার করতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র বেগুনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। বেগুনের পোকা-মাকড় দমনে ওই প্রযুক্তি কাজে আসছে না। 
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ফর্মুলা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার আমদানি বহুলাংশে কমে যাচ্ছে। সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। তাছাড়া প্রতিবছর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার কারণে ফসলাদি এবং জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হত। তার থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল অঞ্চলটিতে, বর্তমানে সেই গতি নেই। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হলেও এখন বারীনগর, চুড়ামনকাঠি, আমবটতলা, বন্দবিলা, দুর্গাপুর, চ-িপুর, রাঘবপুর, মীর্জাপুর, মথুরাপুর, তেলিধান্যপোতা, সাদিপুর, নোঙ্গরপুর, পান্তাপাড়া ও হাশিমপুরসহ যশোরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে ব্যাপকভাবে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়। নানা কারণে তা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। কৃষক পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রথমদিকে যতটা আন্তরিক ছিল, তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক তোড়জোড় কমে গেছে বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। অথচ পদ্ধতিটি অত্যন্ত ভালো। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষমুক্ত সবজির উৎপাদনের পদ্ধতি হচ্ছে পোকা-মাকড় মারার গন্ধ ফাদ। যা প¬øাস্টিকের কৌটা দিয়ে তৈরি। কৌটার দুইপাশে ছিদ্র করে তাতে এক ধরনের কেমিক্যাল বা নিমপাতা দেয়া হয়। গন্ধ ফাদে ‘ট্রাইকোগ্রামা ও ক্রাইসোপা’সহ উপকারী পোকা অবমুক্ত হয়। আর ক্ষতিকর পোকা-মাকড় মারা যায়। চিকিৎসকদের মতে, বিষযুক্ত সবজি ব্যবহার করায় মানবদেহে বিষ ঢোকার আশঙ্কা থাকে। বিষমুক্ত সবজি ব্যবহারে সেই আশঙ্কা থাকে। ফলে, পদ্ধতিটি আরো জোরদারভাবে ব্যবহার করা উচিত। একইসাথে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তারা যাতে কোনরূপ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। তা না হলে সবজি উৎপাদনে চাষীদের আগ্রহ কমে যাবে।
 সূত্র - ইনকিলাব  ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৩,

আশা জাগানিয়া স্ট্রবেরি


আশা জাগানিয়া স্ট্রবেরি
বাগমারার সফল চাষি পুলক: খরচ ৮ লাখ টাকা, আয় হবে ২০ লাখ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের শংকরপৈ গ্রামের বিমল সরকারের ছেলে পুলক সরকার (৪০) স্ট্রবেরি চাষ করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করলেন। স্ট্রবেরি খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হওয়ার কারণে বর্তমানে আমাদের দেশে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা। সম্প্রতি পুলকের স্ট্রবেরি ক্ষেতে গিয়ে তার সাফল্যের কথা জানতে চাইলে পুলক জানান, রাজশাহীর বাঘা চারঘাটে আমার কয়েকজন বন্ধু আছে তারা এই স্ট্রবেরি চাষ করে। স্ট্রবেরি চাষ করে তারা অনেক লাভবান হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গত বছর চৈত্র মাসে ৫০ টাকা মূল্যে ৩১০ টি মা চারা রোপণ করি। এতে আমার ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেই চারা থেকে আমি নতুন ভাবে চারা উত্পাদন করি এবং ৬০ হাজার টাকার চারা বিক্রয় করি। এ বছর আমি আমার জমির পাশাপাশি অন্যের জমি লিজ নিয়ে মোট সোয়া ৫ বিঘা জমিতে ২৪ হাজার স্ট্রবেরির চারা লাগিয়েছি। 

তিনি জানান, সোয়া ৫ বিঘাতে স্ট্রবেরি চাষ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে আমার বড় ভাই অলক কুমার সরকার (৪৫) স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেছে। তিনি ৪০ শতক জমিতে ৬ হাজার স্ট্রবেরি চারা বানিয়েছেন। পুলক আরো জানায়, তিনি চলতি বছরে ১৬ হাজার চারা বিক্রয় করেছে। গত ২ সপ্তাহ হতে ক্ষেত থেকে স্ট্রবেরি তোলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ১১৪ কেজি স্ট্রবেরি ফল উঠেছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ কেজি স্ট্রবেরি ফল উঠছে- যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে দুই সপ্তাহে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার স্ট্রবেরি ফল বিক্রয় হয়েছে। তার মতে, এভাবে স্ট্রবেরি ফল উঠানো শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মত খরচ হতে পারে আর এই স্ট্রবেরি বিক্রয় করে ২০ লক্ষাধিক টাকার বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ২শত টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে স্ট্রবেরি। প্রচুর স্ট্রবেরি উঠলেও এ অঞ্চলে এর কোন পাইকারি বাজার বা পাইকার না থাকায় তাকে প্রতিদিন ঢাকা শহরে স্ট্রবেরি সরবরাহ করতে হয়। পুলক জানান, এভাবে তার ক্ষেত থেকে আরও দুই মাস স্ট্রবেরি উত্তোলন করা যাবে। এছাড়াও প্রতিদিন চলছে স্ট্রবেরির চারা বিক্রয়।
 

পুলকের স্ট্রবেরি ক্ষেতে এখন কাজ করছে অনেক বেকার যুবক। তারাও পুলকের কাছ থেকে উত্সাহ পাচ্ছে। পুলকের মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূল থাকায় স্ট্রবেরি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশি বেশি স্ট্রবেরি চাষ করে তা বিদেশে রপ্তানি করে আমরা অর্জন করতে পারি অনেক বৈদেশিক মুদ্রা। যা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে এবং বেকার সমস্যা নিরসনে এটি হতে পারে একটি মডেল প্রকল্প।



মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা  , daily Ittefak