
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে পোকামাড়কের উপদ্রব থেকে ধানের ক্ষেত রক্ষায় ‘পার্চিং’ পদ্ধতি কৃষকদের নিকট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ধান ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে পোকামাকড় দমন হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। কয়েক বছর আগে অল্প সংখ্যক জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার চোখে পড়তো। কিন্তু উপকার পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কৃষক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কালীগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের রোপণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ১৯৮ হেক্টর। সেখানে রোপণ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ১ হাজার ৩৮২ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, এ বছর ধান রোপণের সময় এ এলাকায় তেমন একটা বৃষ্টি হয়নি। তাই বাড়তি খরচ করে সেচ দিয়ে জমি রোপণ করতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ধান ক্ষেতে নলীমাছিসহ নানা প্রকার ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি মৌসুমে কৃষকের ধান ক্ষেতে ব্যাপকভাবে মাজরা, ঘাসফড়িং, গান্ধি, পদ্মা, লেদাপোকা, কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানোসহ নানা ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে ব্যাপকভাবে নলীমাছির আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই মাছি ধান গাছের মাঝের জালি পাতা কুঁকড়ে নল বা পাইপের মতো করে তুলছে। পোকামাকড়ের আক্রমণে ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তখন তারা নিরুপায় হয়ে বাজার থেকে নানা ধরনের কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে ব্যবহার করে। কিন্তু এসব কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকরা ফসল রক্ষায় তেমন কোন উপকার পায় না, আবার জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়। তাই বর্তমানে কৃষকরা আইপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝে গাছের ডালপালা কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া শুরু করেছে। এই গাছের ডালপালা বা বাঁশের কঞ্চিতে শালিক, ফিঙেসহ নানা প্রজাতির পাখি বসে ক্ষেতে আক্রমণকারী পদ্মা, ঘাসফড়িং, লেদা পোকা, কারেন্ট পোকা, গান্ধি, মাজরাসহ ক্ষতিকারক নানা পোকামাকড় ও মথ খেয়ে ফেলে বলে কৃষকরা জানান।
কালীগঞ্জ পৌরসভার আনন্দবাগ গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদ আলাপকালে জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতে নলীমাছি আক্রমণ করায় দানাদার ব্যবহার করেছেন কিন্তু কোন উপকার পাননি। তাই তিনি আর কোন কীটনাশক ব্যবহার না করে জমির মাঝে মাঝে ডাল পুঁতে দিয়েছেন। যাতে পাখি বসে নলীমাছি ছাড়াও অন্যান্য পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে তার ক্ষেতের ভালোই উপকার হচ্ছে বলে তিনি জানান। কৃষকরা সকলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে উপকৃত হবে, ধানের চারা রোপণকালীন সময়ে জমিতে কমপক্ষে ৬-৭টি করে ডাল পুঁতে দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি মাজরা পোকা ৩০০ থেকে ৩৫০টি ডিম পাড়ে। ক্ষেতে ডাল বা কঞ্চি পুঁতে দিলে তাতে পাখি বসে ডিমগুলো খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষেত অনেকাংশে পোকামুক্ত হয়। তিনি দাবি করে বলেন, উপজেলার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কৃষক বর্তমানে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, উপজেলার ১০০ ভাগ কৃষক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে কৃষকরা উপকৃত হত এবং কীটনাশকের খরচ কমে যেত। এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক কৃষক এখনো সচেতন হয়নি।
0 comments:
Post a Comment