Tuesday, August 19, 2014

সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন

সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন

 দেশের কৃষি জমির অপচয়রোধ ও পুনরুদ্ধারে সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। পল্লী জনপদ নামে এই প্রকল্পসহ ৮২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, একনেক সভায় তিনটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে  ৮২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৫২০ কোটি টাকা, সংস্থা থেকে ৮৭ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ২২২ কোটি টাকা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, আইএমইডি সচিব সুরাইয়া বেগম প্রমুখ।
চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো-
পল্লী জনপদ প্রকল্প : বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক ভাগ জমি হ্রাস পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ আবাসন নির্মাণ। তাই দেশের কৃষি জমির অপচয়রোধ ও পুনরুদ্ধারে ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণ করবে সরকার। ‘কৃষি জমি অপচয়রোধ এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণসংক্রান্ত প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প’ শিরোনামে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। সরকারিভাবে ৩৬৩ কোটি এবং সুবিধাভোগীদের অনুদান থেকে পাওয়া ৬১ কোটি টাকা দিয়ে এর ব্যয় নির্বাহ করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী  আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, প্রথম অবস্থায় কয়েকটি নির্বাচিত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে করে ক্রমবর্ধান জনগোষ্ঠী একদিকে যেমন আবাসন সমস্যা নিরসন হবে- অনদিকে কৃষিভিত্তিক কর্মকা-ও গতি পাবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় কৃষি জমি পুনরুদ্ধার হবে। প্রথমে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে নির্বাচিত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় পল্লী এলাকায় কৃষি জমি সাশ্রয়ের জন্য পোল্ট্রি, গবাদিপ্রাণী, ফসল সংরক্ষণের গুদাম সংবলিত কমপাউন্ড তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে পল্লী জনপদে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জৈবসার উৎপাদনসহ উন্নত কৃষি ও পল্লী জীবন ব্যবস্থাপনার নানা উপকরণ থাকবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প : সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৯২ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে  ৩০০ কোটি।  প্রকল্পের মেয়াদ আগস্ট ২০০৯ থেকে জুন ২০১৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ৩৩৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট হতে উৎপাদিতব্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন, ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে বিদ্যমান সঞ্চালন নেটওয়ার্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং ট্রান্সমিশন লস হ্রাস করা।
প্রকল্পের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ঢাকাস্থ মানিকনগর পর্যন্ত মোট ১১ কিলোমিটার ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, মানিকনগরে একটি ২৩০/১৩২ কেভি জিআইএস (গ্রাস ইনসুলেটেড সুইচ গিয়ার) উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ২৩০/১৩২ কেভি এআইএস (এয়ার ইনসুলেটেড সুইচ গিয়ার) উপকেন্দ্র নির্মাণ।
সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প : তামাক চাষে আগ্রহী চাষিরা যাতে তামাক চাষ থেকে সরে আসে এবং বস্ত্র শিল্পের উন্নয়ন হয় সেই লক্ষ্যে দেশের ৪৬টি জেলায় ১৪৯টি উপজেলায় তুলা চাষ প্রকল্প শুরু করবে সরকার। প্রকল্পের আওতায় এক লাখ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করে ৭ থেকে ১০ লাখ বেল কাঁচা তুলা উৎপাদন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সামর্থ্য ও তুলা চাষের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানো হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তুলা উন্নয়ন বোর্ড ‘সম্প্রসারিত তুলা চাষ (ফেইজ-১)’প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ করবে।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৮ সাল নাগাদ। খুলনা বিভাগের যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর বাগেরহাট ও খুলনা জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে খুলনা জেলাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সূত্র - দৈনিক ইনকিলাব।

0 comments:

Post a Comment