কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে

কৃষিই বাংলাদেশের অথনীতির মুল চালিকা শক্তি । তাই কৃষকদের ন্যায্য মুল্যে সার, ঔষধ ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করতে হবে

কৃষিই উ্ন্নতিতেই জাতির প্রকৃত উন্নতি

জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, তাই কৃষকদের উন্নতিই জাতির প্রকৃত উন্নতি।

কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসলের উচিত মূল্য দিতে হবে

বাংলাদেশের অসহায় কৃষক শুধু কলুর বলদের মত খেটেই চলছে, কখনও বন্যা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়, তাও কখনও ন্যর্য মুল্য পায় না।

ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে হবে

কৃষকদের বাঁচাতে হলে প্রথমতঃই কৃষকদের থেকে তাদের উৎপাদিত পন্য ন্যার্য মুল্যে সরাসরি ক্রয় করতে হবে, যেন তারা মধ্যভোগীদের দৌরাত্ব থেকে বাঁচতে পারে।

কৃষিই বাংলাদের অথনীতির প্রান ভোমরা

দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে কৃষিই ব্যপক উৎপাদনই সরকারের কোষাগার স্ফৃত করছে, বিনিময়ে কৃষকরা কিছুই পাচ্ছেনা, বরং অবহেলার স্বীকার হচ্ছে।

Wednesday, December 24, 2014

কৃষক এবং ভোক্তা কিভাবে বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছে ! জানুন !! জানুন !!

কৃষক এবং ভোক্তা কিভাবে বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছে ! জানুন !!  জানুন !!!

২২ ডিসেম্বর। বিকেল ৩:০০ টা। ময়মনসিংহ সদর। চর গোবিন্দপুর। কৃষক আবদুল বারেকের ৪০ শতকে লাউ-এর ডগার ক্ষেত। পাইকারের কাছে পুরো ক্ষেত বিক্রি করলেন মাত্র ৬,৫০০ টাকায়। প্রতি ডগার বিক্রিমূল্য ৫০ পয়সা মাত্র। পাইকারের প্রতি ডগায় ঢাকা আসা পর্যন্ত খরচ ২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ আপনি আমি কিনছি প্রতি ডগা কমপক্ষে ১৫ টাকায় ! ! !




আর কত কাল আমরা কৃষক / উৎপাদনকারী ও ভোক্তা বঞ্চিত ও প্রতারিত হব। আমার মনে হয় সমবায় বিপননের মাধ্যেমে এর সুরাহা হতে পারে । আমরা বিষটা ভালভাবে ভেবে দেখি।

Friday, December 19, 2014

পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে মন্দাভাব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে নানামুখী সংকট দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম শ্রমঘন ও আত্মকর্মসংস্থানমুখী শিল্পখাত পোল্ট্রিশিল্পে দেখা দিয়েছে অশনিসংকেত। গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদনে দেশের পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের চালচিত্র বেরিয়ে এসেছে। স্বাধীনতা-উত্তর গত চারদশকে আমাদের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান নানা ধরনের নাশকতা, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নানা বাঁক পরিবর্তন করে এ পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের ট্রাডিশনাল কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অর্থনীতির প্রধান খাত পাটশিল্প কায়েমী ষড়যন্ত্র ও নাশকতায় ধ্বংস হয়েছে। পাট ও পাটপণ্য রফতানিতে বিশ্বের একনম্বর দেশ হিসেবে ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। স্বাধীনতার পর সেই পাটশিল্পে নেমে আসে ধ্বংসের তা-বলীলা। একের পর এক পাটকলে আগুন, পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন, পাটক্রয়ে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি কারণে পাটকলগুলো লোকসানের আবর্তে নিক্ষিপ্ত হয়। পরে এর জের হিসেবে অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। পাটের আন্তর্জাতিক বাজার চলে যায় ভারতের দখলে। বাংলাদেশে যখন বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভারতে নতুন পাটকল গড়ে উঠতে দেখা যায়।
পাটশিল্পের ভগ্নস্তূপের উপর যখন ব্যক্তি উদ্যোগে রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং অ্যাপারেল রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে ক্রমবিকশিত হয়ে ওঠে, ঠিক তখন তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধেও দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশী কুশীলবরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রেডিমেট গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার, নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ধারাবাহিক কর্মকা- সংঘটিত হয়েছে। ফ্যাক্টরিতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ, কমপ্লায়েন্স, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে বিদেশী মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে বড় বড় কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও নাশকতার মাধ্যমেও শত শত কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এতে বিদেশী ক্রেতা বিমুখ হয়েছে। এভাবেই সম্প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে ভারতের কাছে বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে। পাট ও গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্পকে ভারতনির্ভর শিল্পে পরিণত করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। গত তিন দশকে মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়েওঠা মুরগির খামারগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় এককোটি মানুষের কর্মসংস্থানের এই খাত ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ধস নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন নানা ইস্যু তুলে দেশের পোল্ট্রিখামারীদের বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। বার্ড ফ্লুু’র ধুয়া তুলে নির্বিচারে হাজার হাজার মুরগি হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হলেও অনেক খামারী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে দূষিত ও টেনারিবর্জ্য থেকে পোল্ট্রি ফিড তৈরির ঘটনাকেও পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করছে সংশ্লিষ্টরা। দেশের পোল্ট্রিশিল্প আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পোল্ট্রিখামারগুলো কমমূল্যে মুরগির  গোশত ও ডিম সরবরাহ করে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তেমনি সার্বিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি থাকার কারণে এই শিল্পের সম্ভাবনাও ব্যাপক। বর্তমানে বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্প ব্যাপকহারে ভারতনির্ভর হয়ে পড়ছে। পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ, মুরগির বাচ্চা, ডিম এবং ব্রয়লার আমদানির মাধ্যমে এই শিল্পকে ভারতনির্ভর করে তোলা হয়েছে। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও লোকসানের কারণে গত কয়েক বছরে ৫০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে পড়ায় এই শিল্পের সাথে জড়িত ২৫ লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের পারিবারিক বিনিয়োগে অথবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আর্থ-সামাজিক প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও বিধ্বংসী। পোল্ট্রিশিল্পকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে এই শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আগামী দশকে শতকোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে পারে। আর বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, একদিকে দেশে হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এই শিল্পে ভারত নির্ভরতা বাড়ছে। পোল্ট্রিশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে পুরোপুরিভাবে তা’ ভারতের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা। পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সেই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্বার্থ ও সম্ভাবনা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। 
Source    daily Inquilab

শিক্ষিত কৃষকদের অন্য রকম হাট

শিক্ষিত কৃষকদের অন্য রকম হাট

সে অন্য রকম এক হাট! কী কী আছে? চেনা ফলপাকড় আর শাকসবজি তো আছেই, আছে কিছু অপ্রচলিত জিনিসও। ওই তো পাকা পেঁপে। তার পাশে শবরি আর চাঁপা কলা। সঙ্গে আছে হনুমানজটা কলা। তাকটা লেগে গেল তো? দাঁড়ান, আরও আছে সরিষার মধু, নদী শিম, কাঁটাওয়ালা বেগুন, মস্তফাপুরী বেগুন আর টক পালং। হাতে ভাজা ভেজালমুক্ত মুড়ি আর পাহাড়ি হলুদের গুঁড়া দৃষ্টি কাড়বেই।
রাজধানীর লালমাটিয়ার ২/৮, ব্লক-এফের ছোট একটি ঘরে এই হাট বসে প্রতি শুক্রবার। উদ্যোক্তা একদল শিক্ষিত তরুণ। তবে দিনভর চলে না এই হাট। বসতে না বসতে ক্রেতার ভিড়ে জমে ওঠে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বিকিকিনি শেষ। হাটের সব খাদ্যপণ্যের গুণ একটাই‍—এগুলো সার ও কীটনাশকের বিষক্রিয়ামুক্ত।
এই হাটের খোঁজ মেলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে। এতে ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার ওই প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্রে যা পাওয়া যাবে, তার বিবরণ ছিল।
ওই দিন সকালে গিয়ে দেখা গেল হাট বেশ জমে উঠেছে। শহুরে তরুণ উদ্যোক্তারা দাবি করলেন, এটি রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত ফসলের হাট। শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য বসে এ হাট।
জানা গেল, সপ্তাহে শুধু বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ধরনের আরেকটি হাট বসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের পূর্ব-বলরামপুর গ্রামে। সে হাট থেকে কিনে আনা সবজি ও ফলই তুলে দেওয়া হচ্ছে শহুরে ক্রেতাদের হাতে। তরুণেরা এই আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘প্রাকৃতিক কৃষি’।
গ্রামের কৃষকদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সহায়তায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত চাষাবাদ করাই মূল লক্ষ্য।
দলের সদস্যরা নিজেদের কৃষক হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে পড়তেই তরুণদের মধ্যে এমন স্বপ্ন বাসা বাঁধে। বাংলাদেশে বসে কেন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের যোগাযোগ পড়তে হবে, এ নিয়ে আপত্তি জানান শিক্ষার্থী দেলোয়ার জাহান। তাঁর সঙ্গে সমমনা ব্যক্তিরা বাংলার মানুষের যোগাযোগের পাঠ উদ্ধারের অভিযানে নামেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে রাজধানীতে ফিরে যে যার মতো বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলতেই থাকে। ২০১২ সালে ঢাকায় গড়ে তোলেন প্রান্তজনীয় যোগাযোগ গবেষণাকেন্দ্র (প্রাযোগ)। দলটির অধিকাংশই গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়ে। তাই গ্রামে গিয়ে প্রাণ ও প্রকৃতির ক্ষতি কমিয়ে কৃষিকাজ করার পরিকল্পনা নেন তাঁরা।
সার ও কীটনাশকের বিষক্রিয়ামুক্ত শাক-সবজি কিনতে হাটে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: প্রথম আলোপ্রাকৃতিক কৃষির কৃষক ও প্রাযোগের পরিচালক দেলোয়ার জাহান জানান, ২০১৩ সালে ঢাকার কাছেই মানিকগঞ্জে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের শুরু। প্রতি সাপ্তাহিক ছুটিতে মানিকগঞ্জে গিয়ে খেতে কাজ করতে থাকেন দলের সদস্যরা। তবে নদীভাঙনে সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি। পরে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড নামের সংস্থা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমি বর্গা দিতে রাজি হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দলের আরেক সদস্য তপু রায়হান সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে কালীগঞ্জে আগমুন্দিয়া প্রাকৃতিক কৃষি খামারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজধানীতে ২৪ অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্র। এখন পর্যন্ত এ বিপণনকেন্দ্রে কী কী ফল ও সবজি আসছে, কার কতটুকু লাগবে, এসব আলাপ আলোচনা চলছে ফেসবুকে।
দেলোয়ার জাহান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে যৌথভাবে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, আর অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন যাত্রা, গম্ভীরা, গ্রামীণ মেলার মতো গ্রামীণ যোগাযোগ মাধ্যমের উন্নয়ন নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা থাকলেও দলাদলির রাজনীতির কাছে হার মেনেছেন। সিঙ্গাপুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চাকরির অফার পান। তবে ‘প্রাকৃতিক কৃষি’ তখন মাত্র হাঁটি হাঁটি পা পা করছিল। দেলোয়ার জাহানের স্ত্রী ডালিয়া আক্তারও কাজ করছেন দলটির সঙ্গে।
দেলোয়ার জাহান বলেন, ‘জমিতে রাসায়নিক সার না দিলে প্রথম দিকে ফসলের উৎপাদন কম হয়। এ ধরনের সবজি দেখতে আকর্ষণীয় হয় না। পোকা ধরা থাকে। ফলে বিক্রি কম হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ক্ষেত্রে কৃষককে ন্যায্য মূল্য দিতে না পারলে তাঁরা উৎসাহী হবেন না। এ চিন্তা থেকেই প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে কালীগঞ্জ থেকে সবজি ও ফল ঢাকা পর্যন্ত আনাই বিরাট ঝক্কিঝামেলার কাজ।’
দেলোয়ার জাহানের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত নিজেদের তদারকিতেই রাসায়নিকমুক্ত চাষ হচ্ছে। কোনো ক্রেতা পণ্য রাসায়নিকমুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেই কৃষকের মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সেই কমিউনিটির একটি কমিটিই এ পণ্যগুলো যে রাসায়নিক বিষমুক্ত, তার সনদ দেবে।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের-বলরামপুর গ্রামের এই হাট থেকে কিনে আনা শাকসবজি ও ফল তুলে দেওয়া হয় রাজধানীর ক্রেতাদের হাতে। ছবি: সংগৃহীত।
তপু রায়হান জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নয়টি গ্রাম, রায় গ্রাম ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ১৫০ জন নারী ও ১০০ জন পুরুষ কৃষক এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও প্রাকৃতিক কৃষির খামারে নয় বিঘা জমি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের আওতায় এসেছে। শুরু হয়েছে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি, স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণসহ অন্যান্য কাজ। এতে কৃষকদের আগ্রহেরও কমতি নেই।
দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণও এ ধরনের কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি বিজ্ঞানী নাজিম উদ্দিনসহ অনেকেই সম্পৃক্ত হয়েছেন তরুণদের দলটিতে।
ঢাকা ও কালীগঞ্জে ১০-১২ জন মিলেই এ আন্দোলনকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। দলের সদস্যদের দেওয়া চাঁদার টাকায় চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম।
source - মানসুরা হোসাইন, daily Prothom alo