কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে

কৃষিই বাংলাদেশের অথনীতির মুল চালিকা শক্তি । তাই কৃষকদের ন্যায্য মুল্যে সার, ঔষধ ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করতে হবে

কৃষিই উ্ন্নতিতেই জাতির প্রকৃত উন্নতি

জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, তাই কৃষকদের উন্নতিই জাতির প্রকৃত উন্নতি।

কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসলের উচিত মূল্য দিতে হবে

বাংলাদেশের অসহায় কৃষক শুধু কলুর বলদের মত খেটেই চলছে, কখনও বন্যা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়, তাও কখনও ন্যর্য মুল্য পায় না।

ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে হবে

কৃষকদের বাঁচাতে হলে প্রথমতঃই কৃষকদের থেকে তাদের উৎপাদিত পন্য ন্যার্য মুল্যে সরাসরি ক্রয় করতে হবে, যেন তারা মধ্যভোগীদের দৌরাত্ব থেকে বাঁচতে পারে।

কৃষিই বাংলাদের অথনীতির প্রান ভোমরা

দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে কৃষিই ব্যপক উৎপাদনই সরকারের কোষাগার স্ফৃত করছে, বিনিময়ে কৃষকরা কিছুই পাচ্ছেনা, বরং অবহেলার স্বীকার হচ্ছে।

Wednesday, December 24, 2014

কৃষক এবং ভোক্তা কিভাবে বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছে ! জানুন !! জানুন !!

কৃষক এবং ভোক্তা কিভাবে বঞ্চিত ও প্রতারিত হচ্ছে ! জানুন !!  জানুন !!!

২২ ডিসেম্বর। বিকেল ৩:০০ টা। ময়মনসিংহ সদর। চর গোবিন্দপুর। কৃষক আবদুল বারেকের ৪০ শতকে লাউ-এর ডগার ক্ষেত। পাইকারের কাছে পুরো ক্ষেত বিক্রি করলেন মাত্র ৬,৫০০ টাকায়। প্রতি ডগার বিক্রিমূল্য ৫০ পয়সা মাত্র। পাইকারের প্রতি ডগায় ঢাকা আসা পর্যন্ত খরচ ২ টাকা ৫০ পয়সা। অথচ আপনি আমি কিনছি প্রতি ডগা কমপক্ষে ১৫ টাকায় ! ! !




আর কত কাল আমরা কৃষক / উৎপাদনকারী ও ভোক্তা বঞ্চিত ও প্রতারিত হব। আমার মনে হয় সমবায় বিপননের মাধ্যেমে এর সুরাহা হতে পারে । আমরা বিষটা ভালভাবে ভেবে দেখি।

Friday, December 19, 2014

পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে মন্দাভাব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে নানামুখী সংকট দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম শ্রমঘন ও আত্মকর্মসংস্থানমুখী শিল্পখাত পোল্ট্রিশিল্পে দেখা দিয়েছে অশনিসংকেত। গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদনে দেশের পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের চালচিত্র বেরিয়ে এসেছে। স্বাধীনতা-উত্তর গত চারদশকে আমাদের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান নানা ধরনের নাশকতা, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নানা বাঁক পরিবর্তন করে এ পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের ট্রাডিশনাল কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অর্থনীতির প্রধান খাত পাটশিল্প কায়েমী ষড়যন্ত্র ও নাশকতায় ধ্বংস হয়েছে। পাট ও পাটপণ্য রফতানিতে বিশ্বের একনম্বর দেশ হিসেবে ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। স্বাধীনতার পর সেই পাটশিল্পে নেমে আসে ধ্বংসের তা-বলীলা। একের পর এক পাটকলে আগুন, পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন, পাটক্রয়ে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি কারণে পাটকলগুলো লোকসানের আবর্তে নিক্ষিপ্ত হয়। পরে এর জের হিসেবে অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। পাটের আন্তর্জাতিক বাজার চলে যায় ভারতের দখলে। বাংলাদেশে যখন বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভারতে নতুন পাটকল গড়ে উঠতে দেখা যায়।
পাটশিল্পের ভগ্নস্তূপের উপর যখন ব্যক্তি উদ্যোগে রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং অ্যাপারেল রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে ক্রমবিকশিত হয়ে ওঠে, ঠিক তখন তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধেও দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশী কুশীলবরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রেডিমেট গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার, নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ধারাবাহিক কর্মকা- সংঘটিত হয়েছে। ফ্যাক্টরিতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ, কমপ্লায়েন্স, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে বিদেশী মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে বড় বড় কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও নাশকতার মাধ্যমেও শত শত কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এতে বিদেশী ক্রেতা বিমুখ হয়েছে। এভাবেই সম্প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে ভারতের কাছে বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে। পাট ও গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্পকে ভারতনির্ভর শিল্পে পরিণত করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। গত তিন দশকে মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়েওঠা মুরগির খামারগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় এককোটি মানুষের কর্মসংস্থানের এই খাত ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ধস নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন নানা ইস্যু তুলে দেশের পোল্ট্রিখামারীদের বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। বার্ড ফ্লুু’র ধুয়া তুলে নির্বিচারে হাজার হাজার মুরগি হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হলেও অনেক খামারী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে দূষিত ও টেনারিবর্জ্য থেকে পোল্ট্রি ফিড তৈরির ঘটনাকেও পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করছে সংশ্লিষ্টরা। দেশের পোল্ট্রিশিল্প আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পোল্ট্রিখামারগুলো কমমূল্যে মুরগির  গোশত ও ডিম সরবরাহ করে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তেমনি সার্বিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি থাকার কারণে এই শিল্পের সম্ভাবনাও ব্যাপক। বর্তমানে বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্প ব্যাপকহারে ভারতনির্ভর হয়ে পড়ছে। পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ, মুরগির বাচ্চা, ডিম এবং ব্রয়লার আমদানির মাধ্যমে এই শিল্পকে ভারতনির্ভর করে তোলা হয়েছে। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও লোকসানের কারণে গত কয়েক বছরে ৫০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে পড়ায় এই শিল্পের সাথে জড়িত ২৫ লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের পারিবারিক বিনিয়োগে অথবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আর্থ-সামাজিক প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও বিধ্বংসী। পোল্ট্রিশিল্পকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে এই শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আগামী দশকে শতকোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে পারে। আর বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, একদিকে দেশে হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এই শিল্পে ভারত নির্ভরতা বাড়ছে। পোল্ট্রিশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে পুরোপুরিভাবে তা’ ভারতের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা। পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সেই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্বার্থ ও সম্ভাবনা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। 
Source    daily Inquilab

শিক্ষিত কৃষকদের অন্য রকম হাট

শিক্ষিত কৃষকদের অন্য রকম হাট

সে অন্য রকম এক হাট! কী কী আছে? চেনা ফলপাকড় আর শাকসবজি তো আছেই, আছে কিছু অপ্রচলিত জিনিসও। ওই তো পাকা পেঁপে। তার পাশে শবরি আর চাঁপা কলা। সঙ্গে আছে হনুমানজটা কলা। তাকটা লেগে গেল তো? দাঁড়ান, আরও আছে সরিষার মধু, নদী শিম, কাঁটাওয়ালা বেগুন, মস্তফাপুরী বেগুন আর টক পালং। হাতে ভাজা ভেজালমুক্ত মুড়ি আর পাহাড়ি হলুদের গুঁড়া দৃষ্টি কাড়বেই।
রাজধানীর লালমাটিয়ার ২/৮, ব্লক-এফের ছোট একটি ঘরে এই হাট বসে প্রতি শুক্রবার। উদ্যোক্তা একদল শিক্ষিত তরুণ। তবে দিনভর চলে না এই হাট। বসতে না বসতে ক্রেতার ভিড়ে জমে ওঠে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বিকিকিনি শেষ। হাটের সব খাদ্যপণ্যের গুণ একটাই‍—এগুলো সার ও কীটনাশকের বিষক্রিয়ামুক্ত।
এই হাটের খোঁজ মেলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে। এতে ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার ওই প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্রে যা পাওয়া যাবে, তার বিবরণ ছিল।
ওই দিন সকালে গিয়ে দেখা গেল হাট বেশ জমে উঠেছে। শহুরে তরুণ উদ্যোক্তারা দাবি করলেন, এটি রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত ফসলের হাট। শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য বসে এ হাট।
জানা গেল, সপ্তাহে শুধু বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ধরনের আরেকটি হাট বসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের নিয়ামতপুর ইউনিয়নের পূর্ব-বলরামপুর গ্রামে। সে হাট থেকে কিনে আনা সবজি ও ফলই তুলে দেওয়া হচ্ছে শহুরে ক্রেতাদের হাতে। তরুণেরা এই আন্দোলনের নাম দিয়েছেন ‘প্রাকৃতিক কৃষি’।
গ্রামের কৃষকদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সহায়তায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত চাষাবাদ করাই মূল লক্ষ্য।
দলের সদস্যরা নিজেদের কৃষক হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে পড়তেই তরুণদের মধ্যে এমন স্বপ্ন বাসা বাঁধে। বাংলাদেশে বসে কেন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের যোগাযোগ পড়তে হবে, এ নিয়ে আপত্তি জানান শিক্ষার্থী দেলোয়ার জাহান। তাঁর সঙ্গে সমমনা ব্যক্তিরা বাংলার মানুষের যোগাযোগের পাঠ উদ্ধারের অভিযানে নামেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে রাজধানীতে ফিরে যে যার মতো বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলতেই থাকে। ২০১২ সালে ঢাকায় গড়ে তোলেন প্রান্তজনীয় যোগাযোগ গবেষণাকেন্দ্র (প্রাযোগ)। দলটির অধিকাংশই গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়ে। তাই গ্রামে গিয়ে প্রাণ ও প্রকৃতির ক্ষতি কমিয়ে কৃষিকাজ করার পরিকল্পনা নেন তাঁরা।
সার ও কীটনাশকের বিষক্রিয়ামুক্ত শাক-সবজি কিনতে হাটে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: প্রথম আলোপ্রাকৃতিক কৃষির কৃষক ও প্রাযোগের পরিচালক দেলোয়ার জাহান জানান, ২০১৩ সালে ঢাকার কাছেই মানিকগঞ্জে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের শুরু। প্রতি সাপ্তাহিক ছুটিতে মানিকগঞ্জে গিয়ে খেতে কাজ করতে থাকেন দলের সদস্যরা। তবে নদীভাঙনে সেখানে থাকা সম্ভব হয়নি। পরে জাপানের উন্নয়ন সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড নামের সংস্থা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমি বর্গা দিতে রাজি হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দলের আরেক সদস্য তপু রায়হান সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে কালীগঞ্জে আগমুন্দিয়া প্রাকৃতিক কৃষি খামারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। রাজধানীতে ২৪ অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্র। এখন পর্যন্ত এ বিপণনকেন্দ্রে কী কী ফল ও সবজি আসছে, কার কতটুকু লাগবে, এসব আলাপ আলোচনা চলছে ফেসবুকে।
দেলোয়ার জাহান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে যৌথভাবে মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, আর অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন। এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছেন যাত্রা, গম্ভীরা, গ্রামীণ মেলার মতো গ্রামীণ যোগাযোগ মাধ্যমের উন্নয়ন নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা থাকলেও দলাদলির রাজনীতির কাছে হার মেনেছেন। সিঙ্গাপুরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চাকরির অফার পান। তবে ‘প্রাকৃতিক কৃষি’ তখন মাত্র হাঁটি হাঁটি পা পা করছিল। দেলোয়ার জাহানের স্ত্রী ডালিয়া আক্তারও কাজ করছেন দলটির সঙ্গে।
দেলোয়ার জাহান বলেন, ‘জমিতে রাসায়নিক সার না দিলে প্রথম দিকে ফসলের উৎপাদন কম হয়। এ ধরনের সবজি দেখতে আকর্ষণীয় হয় না। পোকা ধরা থাকে। ফলে বিক্রি কম হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ক্ষেত্রে কৃষককে ন্যায্য মূল্য দিতে না পারলে তাঁরা উৎসাহী হবেন না। এ চিন্তা থেকেই প্রাকৃতিক কৃষি বিপণনকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবে কালীগঞ্জ থেকে সবজি ও ফল ঢাকা পর্যন্ত আনাই বিরাট ঝক্কিঝামেলার কাজ।’
দেলোয়ার জাহানের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত নিজেদের তদারকিতেই রাসায়নিকমুক্ত চাষ হচ্ছে। কোনো ক্রেতা পণ্য রাসায়নিকমুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেই কৃষকের মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সেই কমিউনিটির একটি কমিটিই এ পণ্যগুলো যে রাসায়নিক বিষমুক্ত, তার সনদ দেবে।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের-বলরামপুর গ্রামের এই হাট থেকে কিনে আনা শাকসবজি ও ফল তুলে দেওয়া হয় রাজধানীর ক্রেতাদের হাতে। ছবি: সংগৃহীত।
তপু রায়হান জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের নয়টি গ্রাম, রায় গ্রাম ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ১৫০ জন নারী ও ১০০ জন পুরুষ কৃষক এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়াও প্রাকৃতিক কৃষির খামারে নয় বিঘা জমি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের আওতায় এসেছে। শুরু হয়েছে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি, স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণসহ অন্যান্য কাজ। এতে কৃষকদের আগ্রহেরও কমতি নেই।
দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত তরুণও এ ধরনের কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি বিজ্ঞানী নাজিম উদ্দিনসহ অনেকেই সম্পৃক্ত হয়েছেন তরুণদের দলটিতে।
ঢাকা ও কালীগঞ্জে ১০-১২ জন মিলেই এ আন্দোলনকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। দলের সদস্যদের দেওয়া চাঁদার টাকায় চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম।
source - মানসুরা হোসাইন, daily Prothom alo

Saturday, November 22, 2014

কৃষির নতুন সম্ভাবনা - আশরাফুল-যূঁথীর জৈব বালাইনাশক

আশরাফুল-যূঁথীর জৈব বালাইনাশক

কীটনাশক ও সার কৃষকের বন্ধু হওয়ারই কথা। কিন্তু উল্টো এটা শত্রু হয়েছে গোটা মানবজাতির। এসবের ব্যবহার পরিবেশ-চক্রে বিপদ ডেকে আনছে। সাময়িকভাবে ফলন ভালো হলেও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির। আর এটা কৃষকরা শিখেছেন নিজেদের জীবন থেকে, কোনো বইপুস্তক পড়ে নয়। নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাই মাটি, পানি, বাতাস বাঁচানোর যুদ্ধে নেমেছেন তাঁরা। তৈরি করেছেন মাটি ও পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশক ও জৈব সার। এসব নিয়ে সন্ধানীর এবারের আয়োজন।
জৈব বালাইনাশক তৈরি করছে আশরাফুল-যুথি দম্পতি। ছবি : ফিরোজ গাজী
¦
লেখাপড়া তাঁরা বেশি করেননি। সম্পদ বলতে প্রায় ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা। এই কৃষক দম্পতি কয়েক ধরনের জৈব বালাইনাশক, ফসলের ভিটামিন ও জৈব সার আবিষ্কার করেছেন। নিজেরা এগুলো ব্যবহার করে ভালো ফলন পেয়েছেন। শুধু তা-ই না, তাঁদের গ্রামের কৃষকরাও এসব ব্যবহার করে বেশি ফসল ঘরে তুলেছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার মলি্লকপুর গ্রামে এই দম্পতির বসত। আশরাফুল ইসলামের বয়স পঞ্চান্ন। স্ত্রী যঁূথীর চলি্লশ। নিজেদের তিন বিঘা জমিতে ধানের পাশাপাশি পটল, বেগুন, ঝিঙা, পেঁপেসহ অন্যান্য সবজি চাষ করেন। আশরাফুল জানান, শুরুতে বাজারে চালু রাসায়নিক সার ও কীটনাশকই জমিতে ব্যবহার করতেন। ঘটনাটি ঘটল ২০০৮ সালে। ধান লাগিয়েছেন জমিতে। কিন্তু ভাইরাসে সব ধান নষ্ট হয়ে যায়। বললেন, 'মাথায় বাজ পড়ে। কিভাবে বাঁচব? কী করে খাব? বাবা-দাদারা তো গোবর সার দিয়েই চাষ করেছেন। সে সময় জমিও তরতাজা থাকত। জমি ফেলে রেখে আমি চিন্তা করতে থাকি। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ শুরু করি। গাছগাছড়া দিয়ে ফসল ফলাতে থাকি। পাশাপাশি আরো উন্নত জৈব সার ও বালাইনাশক তৈরির চেষ্টা করি। ইচ্ছা আছে সব ধরনের বালাইনাশকের পাশাপাশি ২২ রকম জৈব সার তৈরি করার।'
মলি্লকপুর গ্রামে আশরাফুলের বাড়ি গিয়ে দেখা গেল, বাড়ির পেছনে মাটির নিচে বড় আকারের আটটি মাটির কোলা পোঁতা। ওই সব কোলা থেকে আশরাফুল আর তাঁর স্ত্রী তরল কী সব বের করছেন। অনেকেই বোতলে তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাড়ির অন্য পাশে একটি শেডের নিচে পোকারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাড়ির পূর্ব পাশে কয়েকটি কবরের মতো কী যেন। সেখানে আশরাফুল কী যেন দেখছেন। আসলে এগুলো কবর নয়। জৈব সার তৈরির প্রাথমিক স্তর। এর নাম কবর কম্পোস্ট। আশরাফুলের আবিষ্কৃত আরেকটি উপাদান হচ্ছে জৈব ভিটামিন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক কেজি গাঁদা ফুল, এক কেজি দূর্বা, এক কেজি চেনুটেরে, এক কেজি হাতিশুল, দুই কেজি আগুন জ্বালা গাছ আর পরিমাণমতো গরুর চনা দিয়ে এই ভিটামিন তৈরি করা হয়েছে। এই মিশ্রণটি ছয় মাস রাখা যাবে। ফসলে স্প্রে করলে বেশি ফলন হবে। এ ছাড়া তিনি জৈব কীটনাশক উদ্ভাবন করেছেন। ৫০ গ্রাম কেরোসিন, ২০০ গ্রাম তামাক পাতা, ১০০ গ্রাম হুইল পাউডার ও গরুর চনা দিয়ে তৈরি এটি। আশরাফুলের দাবি, এই জৈব কীটনাশক পটল, বেগুন, সিমে স্প্রে করলে সব ধরনের পোকা মরবে। এ ছাড়া তিনি জাবপোকা দমনের জন্য নতুন ওষুধ আবিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ২০ কেজি পানি, ২০০ গ্রাম তামাক পাতা, গরুর চনা, ৫০০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে এ ওষুধটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীও একটি জৈব বালাইনাশক আবিষ্কার করেছেন। যেটির নাম যঁূথী জৈব বালাইনাশক। যঁূথী জানান, ২০টি মেহেগনি ফল, এক কেজি নিমপাতা, এক কেজি নিম ছাল, এক কেজি ভাটির পাতা, ২০০ গ্রাম তামাক ও ২০ কেজি গরুর চনা দিয়ে এই বালাইনাশক তৈরি করা হয়েছে। মাজরা পোকা দমনে এটি খুবই কার্যকর। এ ছাড়া তিনি মাছের আঁইশ দিয়ে ফসল রক্ষার ওষুধ আবিষ্কার করেছেন। এটি ফসলে স্প্রে করলে গরু-ছাগলে খাবে না। এসবের পাশাপাশি যূঁথী আবিষ্কার করেছেন জৈব ফসফেট। আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেছেন, রাসায়নিক ফসফেটের চেয়ে তাঁর উদ্ভাবিত জৈব ফসফেট বেশি কার্যকরী। একধরনের মোটা পোকা স্থানীয় ভাষায় গুবরেপোকা নামে পরিচিত এটিই জৈব ফসফেট তৈরির মেশিন। যূঁথীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি হাউজ নির্মাণ করে তার ভেতরে এক স্তর কলাগাছ, এক স্তর গোবর সার দিয়ে ওই পোকা ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই পোকার মলই হচ্ছে জৈব ফসফেট। তিনি জানান, কলাগাছ, শজিনা গাছ কিংবা মরা তালগাছে এই পোকা পাওয়া যায়। হাউজে এই পোকা ছেড়ে দিলে বংশবিস্তার ঘটে। এসবের পাশাপাশি এই কৃষক দম্পতি মসুরের ভুসি, খেসারির ভুসি, দূর্বা, বাঁশের পাতা দিয়ে তৈরি করেছেন কবর কম্পোস্ট সার। তাঁরা জানান, এগুলো এক জায়গায় জড়ো করে কবরের মতো আকৃতি করে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। তিন মাস পরই তা সারে পরিণত হবে। এই সার ফসলের জন্য খুবই উপকারী। আর্থিক দিক দিয়ে সাশ্রয়ী। এমনকি এই জৈব সার ফসলের ক্ষেতে তিন-চার বছর ব্যবহার করলে ফসল উৎপাদনের জন্য ক্ষেতে আর কোনো সার দিতে হবে না। আবিষ্কারকরা বললেন, তাঁদের জৈব বালাইনাশক ২০ টাকা লিটার দামে গ্রামের কৃষকরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সবাই উপকৃত হচ্ছেন। ওই গ্রামের কৃষক রেজাউল, খাদেম, রজব আলী, মোশারেফ, গফুর, শহীদ জানান, তাঁরা আশরাফুল-যূঁথীর বালাইনাশক ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছেন। আশরাফুল বলেন, 'অতীতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বাবদ বছরে আমার ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন এ টাকা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমি ফলনও বেশি পাচ্ছি। বিশ্বাস করি, 'আমার বালাইনাশক সার ব্যবহার করলে প্রতিবছর দেশের কোটি কোটি টাকা বাঁচবে। ফসল উৎপাদন বাড়বে। পরিবেশ রক্ষা পাবে। কৃষকরা উপকৃত হবেন। মানবদেহের কোনো ক্ষতি হবে না।'সূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, লিখেছেন ফখরে আলম

এবার বিকল্প ‘হিমাগার’

এবার বিকল্প ‘হিমাগার’

বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই। জলীয় বাষ্পের খুব সাধারণ একটি ধর্মকে কাজে লাগিয়ে ঘর ঠান্ডা রাখা হবে। আর বাঁশের তৈরি আরেক ধরনের প্রযুক্তি বাতাসের আর্দ্রতা টেনে শুষে নেবে। এ পদ্ধতিতে এই প্রথম একটি বিকল্প ‘হিমাগার’ তৈরি করা হয়েছে। 
৩০০ টন ধারণক্ষমতার এই হিমাগারটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টাকা। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ ধরনের একটি হিমাগার তৈরিতে প্রায় আড়াই কোটি টাকা প্রয়োজন।
 
রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিকল্প ‘হিমাগার’। ৩০০ টন ধারণক্ষমতার এই হিমাগার তৈরিতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টাকা l ছবি: প্রথম আলো

এটি তৈরি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন। এতে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হিমাগারটি উদ্বোধন করার কথা। মনজুর হোসেন জানান, আর কোথাও এ ধরনের হিমাগার নেই। এটা হচ্ছে স্বল্প আয়ের কৃষকের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী পচনশীল শস্য সংরক্ষণাগার। 
তবে অন্তত এক বছর ব্যবহার না করা পর্যন্ত এর উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজশাহী নগরের নামোভদ্রা এলাকায় হিমাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক নিয়ামুল বারি এটি পরিদর্শন করেন। তিনি গ্রিন টেকনোলজি নিয়ে কাজ করেন। এই হিমাগারের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, এর কাঠামো, ভেতরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিমাপ যা দেখা যাচ্ছে তা থেকে আশা করা যায়, এটি প্রাকৃতিকভাবেই কাজ করবে। তবে আরও এক বছর দেখার পর বলা যাবে, এটি হিমাগারের মতো কাজ করবে কি না।
অল্প খরচে সুরক্ষা: এই হিমাগারে কৃষক অল্প খরচে ফসল সংরক্ষণ করতে পারবেন। ৮৫ কেজির এক বস্তা আলু এখন হিমাগারে রাখতে কৃষকের ৩৫০ টাকা লাগে। এই হিমাগারে লাগবে মাত্র ১০০ টাকা। দেশে আদা ও পেঁয়াজের কোনো সংরক্ষণাগার নেই। এ জন্য কৃষকের ঘরে পেঁয়াজ ও আদা ৬০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এই হিমাগারে আদা, পেঁয়াজ ছাড়াও এক মাসের জন্য মরিচ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি সংরক্ষণ করা যাবে।
বিকল্প হিমাগারের নকশানির্মাণসামগ্রী: হিমাগারটি তৈরি করতে সময় লেগেছে ছয় মাস। নির্মাণকাজ শুরু হয় গত ২৮ এপ্রিল। ৩০০ টন ধারণক্ষমতার তিনতলাবিশিষ্ট এই হিমাগারের আয়তন এক হাজার ৭০০ বর্গফুট। বাইরের আয়তন ৬০ বাই ৩০ ফুট। আর ভেতরের ৫৮ বাই ২৮ ফুট। তৈরির উপকরণ হচ্ছে বাঁশ, খড়, টালি, বালু ও সিমেন্ট। এর মধ্যে বাঁশ হচ্ছে ৬০ ভাগ। ১২ ভাগ খড় আর বাকি অংশ ইট-বালু-সিমেন্ট। হিমাগারের ছাউনি দেওয়া হয়েছে খড়ের। দেয়াল তৈরি করা হয়েছে ইট দিয়ে। দেয়াল প্লাস্টার না করে তার ওপর টালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। 
প্রযুক্তিটি কাজ করে যেভাবে: দেয়াল ও টালির মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে। ফাঁকা অংশে বালু ও পানি থাকবে। এখান থেকে জলীয় বাষ্প তৈরি হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঘরের ভেতরের তাপ শোষণ করা হবে।
হিমাগারের ভেতরে তিনতলাবিশিষ্ট বাঁশের মাচা তৈরি করা হয়েছে। ওপরে ওঠার জন্য বাঁশের সিঁড়ি বানানো হয়েছে। নিচতলা থেকে ঠান্ডা বাতাস যাতে প্রাকৃতিক উপায়ে ওপরে উঠে যায়, সে জন্য দেয়ালের নিচের দিকে একটু করে ফাঁকা রাখা হয়েছে। সেখান দিয়ে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা বাতাসকে ঠেলে ওপরে নিয়ে যাবে।
হিমাগারের ভেতরে যাতে অন্ধকার না হয়, সে জন্য তৃতীয় তলার ওপরে দুই পাশে দুটি কাচের জানালা আছে। আর কখনো নিচের ঠান্ডা বাতাস যদি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ওপরে না ওঠে, সেই ঠান্ডা বাতাস ওপরে তোলার জন্য দুটি ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ফ্যান সোলার প্যানেলের সাহায্যে চালানো হবে। 
পথ প্রদর্শক: এম মনজুর হোসেন জানান, দিনাজপুরের এক ব্যক্তি ভারতে দেখে এসে একটি প্রাকৃতিক হিমাগার তৈরি করেছেন। তাতে মেঝেতে পানি দিয়ে রাখতে হয়। পানির কারণে ঘর যতটুকু ঠান্ডা থাকে, তাতেই যতটুকু কাজ হয়। এটা দেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান তাঁকে ডেকে পাঠান। তিনি তাঁকে আধুনিক প্রযুক্তির একটি প্রাকৃতিক হিমাগার তৈরি করতে বলেন। এ জন্য তিনি একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিতে বলেন। তিনি ১৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠান। এরপর করপোরেট রেসপনসিবিলিটি ফান্ড (সিআরএফ) থেকে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। মনজুর বলেন, প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার জন্য ব্যয় বেশি হয়েছে। পরেরবার ব্যয় আরও কম হবে। 
ঘরামির বক্তব্য: রাজশাহী নগরের মুশরইল এলাকার মিছের আলী নামের একজন ঘরামি এই কাজ করেছেন। তিনিই খড়ের ছাউনি ও ভেতরের বাঁশের কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ছাউনির জন্য চিকন উলুখড় আনা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আর বাঁশ আনা হয়েছে রংপুর থেকে।
সূত্র- আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, রাজশাহী, দৈনিক প্রথম আলো।

Sunday, October 12, 2014

ঘরে বা ছাদে করুন মনের মত শখের বাগান

ঘরে বা  ছাদে করুন মনের মত শখের বাগান

ছাদে বা ঘরেও করতে পারেন শখের বাগান।

ঘরের যেখানে পর্যাপ্ত আলো আসে সেখানে বাগান করুন। সাধারণত সবুজ গাছ,(যাতে ফুল হয় না) অর্ধেক দিন আলো পেলে ভালো থাকে। আলোর পাশাপাশি গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি নির্ভর করে তাপ ও বাতাসের আর্দ্রতার ওপর। ঘরে বাগানের জন্য ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা আদর্শ। আর ৩০ শতাংশের বেশি আর্দ্রতা প্রয়োজন।

* বারান্দা, লিভিং রুম, ফ্যামিলি লিভিং এমনকি খাবার ঘরেও বাগান করতে পারেন। তবে যে ঘরেই বাগান করুন খেয়াল রাখুন যেন সেখানে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচল করে। এয়ারকন্ডিশন দেওয়া ঘরে বাগান করা যাবে না। ফ্যানের বাতাস যেন সরাসরি গাছে না লাগে সেদিকে লক্ষ রাখুন।


* বৈরী আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে এমন গাছ ঘরের বাগানের জন্য বাছাই করতে হবে। যেমন- ফার্নজাতীয় কিংবা ডেসিনা গ্রুপের উদ্ভিদ। ডেসিনা গ্রুপের মধ্যে আছে গোল্ডেন ডেসিনা, বিরাগ ডেসিনা, বাঁশপাতা, অগ্নিসর, কলকি ইত্যাদি। এ ছাড়া আফ্রিকান ভায়োলেট, রাবার প্লান্ট, বাগানবিলাস, অ্যাসপারাগাস, অ্যালোভেরা, ক্রিস্টাল ফার্ন, গাবপাতা, মেরেন্তা উল্লেখযোগ্য।

* ঝুলন্ত ইনডোর প্লান্টের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের অর্কিড। যেমন- ডেন্ডোরিয়ম, মোক্কারা, অনসিডিয়াম, ক্যাটালগ। এ ছাড়া গ্রিনলিফ, ক্যাকটাস, আইল্যান্ড স্টার, মানিপ্লান্ট অন্দরসজ্জার জন্য ভালো। পাতাবাহার বা ক্যাকটাস গাছের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতি আছে। এসব গাছ ঘরের অন্ধকার পরিবেশেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

* ঘরে বাগান করার দুটি পদ্ধতির একটি হলো টবে লাগানো গাছ দিয়ে বাগান করা। আর অন্যটি মেঝেতেই গাছ লাগানো। এ জন্য প্রথমে মেঝের টাইলস বা মোজাইক তুলে মোটা পলিথিন বিছিয়ে দিন। এই পলিথিনের ওপরে বালু ও মাটির স্তর দিয়ে তাতে গাছ লাগান। চারপাশে ইট দিয়ে বর্ডার দিন।

* বসার বা খাবার ঘরে বনসাই, বেডরুমে লম্বা পাতাযুক্ত পাতাবাহার জাতীয় গাছ রাখুন। পাতাবাহার ছোট গ্লাসে পানিসহ রাখতে পারেন। পানিতে অনেক দিন থাকে। ডাইনিং স্পেসের পাশের বেসিনের দেয়ালে ঝুলন্ত গাছ মানায়। বাথরুমের জানালায় রাখুন মানি প্লান্ট। আর এক্সসেরিজ রাখার র‌্যাক ও বেসিনের পাশে খুব ছোট টবে ক্যাকটাস।
সূত্র -এস্থেটিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সাবিহা কুমু, দৈনিক কালের কন্ঠ।

Tuesday, August 19, 2014

সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন

সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন

 দেশের কৃষি জমির অপচয়রোধ ও পুনরুদ্ধারে সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। পল্লী জনপদ নামে এই প্রকল্পসহ ৮২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, একনেক সভায় তিনটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে  ৮২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৫২০ কোটি টাকা, সংস্থা থেকে ৮৭ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ২২২ কোটি টাকা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম, আইএমইডি সচিব সুরাইয়া বেগম প্রমুখ।
চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো-
পল্লী জনপদ প্রকল্প : বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় এক ভাগ জমি হ্রাস পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ আবাসন নির্মাণ। তাই দেশের কৃষি জমির অপচয়রোধ ও পুনরুদ্ধারে ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণ করবে সরকার। ‘কৃষি জমি অপচয়রোধ এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমবায়ভিত্তিক বহুতল ভবন ‘পল্লী জনপদ’ নির্মাণসংক্রান্ত প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প’ শিরোনামে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৭ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি টাকা। সরকারিভাবে ৩৬৩ কোটি এবং সুবিধাভোগীদের অনুদান থেকে পাওয়া ৬১ কোটি টাকা দিয়ে এর ব্যয় নির্বাহ করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী  আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, প্রথম অবস্থায় কয়েকটি নির্বাচিত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে করে ক্রমবর্ধান জনগোষ্ঠী একদিকে যেমন আবাসন সমস্যা নিরসন হবে- অনদিকে কৃষিভিত্তিক কর্মকা-ও গতি পাবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় কৃষি জমি পুনরুদ্ধার হবে। প্রথমে ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে নির্বাচিত এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় পল্লী এলাকায় কৃষি জমি সাশ্রয়ের জন্য পোল্ট্রি, গবাদিপ্রাণী, ফসল সংরক্ষণের গুদাম সংবলিত কমপাউন্ড তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে পল্লী জনপদে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জৈবসার উৎপাদনসহ উন্নত কৃষি ও পল্লী জীবন ব্যবস্থাপনার নানা উপকরণ থাকবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প : সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির মূল প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৯২ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে  ৩০০ কোটি।  প্রকল্পের মেয়াদ আগস্ট ২০০৯ থেকে জুন ২০১৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জে নির্মাণাধীন ৩৩৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট হতে উৎপাদিতব্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন, ঢাকা শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে বিদ্যমান সঞ্চালন নেটওয়ার্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং ট্রান্সমিশন লস হ্রাস করা।
প্রকল্পের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ঢাকাস্থ মানিকনগর পর্যন্ত মোট ১১ কিলোমিটার ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, মানিকনগরে একটি ২৩০/১৩২ কেভি জিআইএস (গ্রাস ইনসুলেটেড সুইচ গিয়ার) উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ২৩০/১৩২ কেভি এআইএস (এয়ার ইনসুলেটেড সুইচ গিয়ার) উপকেন্দ্র নির্মাণ।
সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প : তামাক চাষে আগ্রহী চাষিরা যাতে তামাক চাষ থেকে সরে আসে এবং বস্ত্র শিল্পের উন্নয়ন হয় সেই লক্ষ্যে দেশের ৪৬টি জেলায় ১৪৯টি উপজেলায় তুলা চাষ প্রকল্প শুরু করবে সরকার। প্রকল্পের আওতায় এক লাখ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করে ৭ থেকে ১০ লাখ বেল কাঁচা তুলা উৎপাদন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সামর্থ্য ও তুলা চাষের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানো হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তুলা উন্নয়ন বোর্ড ‘সম্প্রসারিত তুলা চাষ (ফেইজ-১)’প্রকল্পটি বাস্তবায়ণ করবে।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০১৮ সাল নাগাদ। খুলনা বিভাগের যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর বাগেরহাট ও খুলনা জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে খুলনা জেলাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সূত্র - দৈনিক ইনকিলাব।

গ্রামের মানুষের ফ্ল্যাটের স্বপ্ন!

গ্রামের মানুষের ফ্ল্যাটের স্বপ্ন!

চমৎকার উদ্দোগ।  সরকারকে ধন্যবাদ দিলেও কম  হবে।  

গ্রামের গরিব মানুষকে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু ফ্ল্যাট নয়, থাকবে বাজার, বায়োগ্যাস প্লান্ট, নিরাপদ পানি, সৌরবিদ্যুৎ, গবাদিপশু রাখার স্থান। মোটা দাগে একটি আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে, যা পল্লি জনপদ নামে পরিচিত হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের সাতটি উপজেলার সাতটি গ্রামে পল্লি জনপদ গড়ে তোলা হবে।

কোন কোন গ্রামে এই পল্লি জনপদ হবে, তা চূড়ান্ত করা হয়নি। মূলত যেসব এলাকায় কৃষিজমি নষ্ট করে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রবণতা বেশি এবং প্রবাসী-আয় তুলনামূলক বেশি আসে, এমন গ্রামই নির্বাচন করা হবে। উল্লেখ্য, সারা দেশে প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশ কৃষিজমি নষ্ট করে বাড়িঘর, কলকারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় এনে কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি গ্রামের দরিদ্র মানুষকে আধুনিক জীবনধারণ সুবিধা দিতে এই পল্লি জনপদ তৈরি করা হবে। একটি পল্লি জনপদে একটি বহুতল ভবনে ২৭২ ফ্ল্যাট থাকবে। যেখানে একসঙ্গে ২৭২টি পরিবার থাকতে পারবে। ৩০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করে এ ধরনের ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন ওই এলাকার মানুষ।

আগামী ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে আধুনিক সুবিধাসংবলিত এই সাতটি জনপদ নির্মাণ করা হবে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এই জনপদ তৈরি করা হবে। সফল হলে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি পাস করা হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সেন্টার ফর ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটগুলোর প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৬০০ টাকা। ৯১৫, ৭১০, ৪৬০ ও ৩৬৫ বর্গফুট—এ ধরনের আয়তনের ফ্ল্যাট হবে। আর প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন ক্রেতারা। ফ্ল্যাটে ওঠার পর পরবর্তী ১৫ বছরে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে সুবিধাভোগী বা ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের কীভাবে নির্বাচন করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তবে কী পরিমাণ গরিব মানুষের এককালীন ৩০ শতাংশ অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সক্ষমতা রয়েছে, তার কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকল্প প্রস্তাবনায় নেই। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, সবচেয়ে কম ৩৬৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য হবে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এমন একটি ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীকে এককালীন এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই পরিশোধের সক্ষমতা গ্রামের কত শতাংশ মানুষের রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বহুলভাবে অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থানীয় প্রভাবশালী কিংবা তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও অনুগতদের নির্বাচন করা হয়। ফলে প্রকল্পের সুফল কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় না। একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পেও সুবিধাভোগী বা ফ্ল্যাট কিনতে চান এমন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর শঙ্কা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পেতে হলে আমাকে (পরিকল্পনামন্ত্রী) আরও ৫০ বছর বাঁচতে হবে। সবাই দুর্নীতি করে না, যারা করে তারা সংখ্যায় কম। তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।’ তিনি জানান, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিষয়ে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের প্রকল্পগুলো ধারণাগতভাবে খুবই ভালো হয়। বাস্তবায়নের সময় নানা সমস্যা বেরিয়ে আসে। তিনি মনে করেন, একনেকে পাস হওয়া এই পাইলট প্রকল্পটির ধারণাও বেশ ভালো। প্রকল্পটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে একটি সৎ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।

এদিকে গতকালের একনেকে এই প্রকল্পটিসহ ৮২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মোট তিনটি প্রকল্প পাস হয়েছে। অন্য প্রকল্প দুটি হলো সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র ঃ প্রথম আলো

Saturday, June 21, 2014

আম সংরক্ষণে নয়া পদ্ধতি

আম সংরক্ষণে নয়া পদ্ধতি

ফরমালিন ছাড়াই রাখা যাবে ২০ দিন


নাগরিক সংগঠন 'পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন' পরীক্ষা করে দেখেছে, ঢাকার বাজারের ৬৬ শতাংশ আমে উচ্চ মাত্রায় ফরমালিন রয়েছে। চলতি মাসে সংগঠনটির একটি কারিগরি দল বিভিন্ন বাজারে বিক্রয়যোগ্য আম পরীক্ষা করে এই তথ্য জানিয়েছেন। এমন উদ্বেগের সময় আশার আলো দেখাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের দুই বিজ্ঞানী। ড. ক্ষীরোদ রায় ও ড. মো. নূরুল আমীন বানিয়েছেন একটি যন্ত্র। নাম দিয়েছেন 'গরম পানিতে আম শোধন যন্ত্র'। যেটির ব্যবহার ফরমালিন ছাড়া ২০ দিন পর্যন্ত আমের পচন রোধ করবে।

ড. ক্ষীরোদ রায় এই প্রসঙ্গে বলেন, প্রতি কেজি আম শোধনের খরচ পড়বে মাত্র ১৭ পয়সা। প্রতি ঘণ্টায় শোধন করা যাবে ১ টন আম। এ যন্ত্র ব্যবহার করলে আমের পচন রোধ হবে। তিনি বলেন, বেশিরভাগ আম পচে যায় বলে ব্যবসায়ীরা আমে ফরমালিন দেন। 'গরম পানিতে আম শোধন যন্ত্র' ব্যবহার করলে ফরমালিনের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করতে হবে না।

যন্ত্র বানাতে যা লাগবে 


পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ৫২ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানিতে ৫ থেকে ৭ মিনিট ধরে আম শোধন করলে বোঁটা পচা রোগ ও এ্যানথ্রাকনোস দমন হয়। তাই আম নষ্ট হওয়া রোধ করা যায়। স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত লোহার অ্যাংগেল, লোহার শিট, বেল্ট, পুলি, বিয়ারিং, লোহার পাইপ, বৈদ্যুতিক মটর, বৈদ্যুতিক নাড়ুনি, থার্মোমিটার, তাপ নিরোধক কর্কশিট প্রভৃতি দিয়ে যন্ত্রটি বানানো যায়।

লোহার শিট দিয়ে ১০ ফুট লম্বা, ৩.৩৩ ফুট চওড়া এবং ১.৮৭ ফুট উচ্চতার একটি পানির ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়। তার বাইরে এক ইঞ্জি পুরু কর্কশিট আটকানো হয় পানির তাপ নিরোধের জন্য। পানির ট্যাঙ্কের ভিতরে ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার ৬টি বৈদ্যুতিক হিটার লাগানো হয়। এগুলি একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্যানেলের সাথে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে পানির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাখা যায়। ট্যাঙ্কের তলায় লোহার পাইপ নির্মিত রোলার প্রস্থ বরাবর লাগানো থাকে। মোটরের ক্ষমতা ০.৭৫ কিলোওয়াট। এটি দিয়ে রোলার পাইপ ও নাড়ুনি ঘোরানো হয়। যন্ত্রটি চালানোর জন্য ২০ কিলোওয়াট শক্তি প্রয়োজন। প্রতি মিনিটে মোটরের ঘূর্ণায়মান গতি ১৪০০ থেকে রোলারে প্রতি মিনিটে ৩.৫-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে যন্ত্রের এক প্রান্তে আম ভর্তি প্লাস্টিকের ঝুড়ি রোলারের উপর রাখলে ৫ মিনিটে অপর প্রান্তে চলে যায়। ট্যাঙ্কের তলায় স্থাপিত বৈদ্যুতিক নাড়ুনি পানির তাপমাত্রা সব স্থানে সমান রাখতে সাহায্য করে।

যন্ত্রের কার্যকারিতা


আম শোধনের জন্য পানির ট্যাঙ্কে প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিষ্কার পানি ভরে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় হিটার সেট করা হয়। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পানির তাপমাত্রা ৫৫ ডিগ্রিতে ওঠে। তখন রোলার চালানোর জন্য মোটর চালু করা হয়। আম ভর্তি প্লাস্টিকের ঝুড়ি যন্ত্রের এক প্রান্তে পানির মধ্য দিয়ে রোলারের উপর বসিয়ে দেয়া হয়। ঝুড়িটি সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের অন্য প্রান্তের দিকে চলা শুরু করে। পুনরায় আম ভর্তি ঝুড়ি রোলারের উপর বসানো হয়। এভাবে অনবরত আম ভর্তি ঝুড়ি বসানো হয়। বসানোর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ঝুড়ি অন্য প্রান্তে পৌঁছে যায়। আম ভর্তি ঝুড়ি তখন অন্য প্রান্ত থেকে তুলে আম শুকানোর জন্য রাখা প্লাস্টিক শিটের উপর ছড়িয়ে দেয়া হয়। বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে সদ্য শোধনকৃত আম শুকিয়ে প্যাকিং করা হয়। আম শুকানোর জন্য দুই থেকে তিন মিনিট লাগে।

ব্যবহারে সফলতা


পরীক্ষামূলকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দে স্থাপন করা হয় যন্ত্রটি। প্রথম দিন ৩ টন ল্যাংড়া আম শোধন করা হয়। প্রতি ঘন্টায় ১ টন আম শোধন করা গেছে। আমের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য বাজার থেকে ক্রয়কৃত আম প্রথমে বাছাই করা হয়। শোধনের আগে সব আম পরিষ্কার পানি দিয়ে ধোয়া হয়। এতে আমের গায়ে লেগে থাকা ধুলাবালি ও আমের কষ দূর হয়। গরম পানিতে আম শোধন ও শুকানোর পর প্রতিটি আম পলিইথাইলিন ফোম নেট বা ন্যাপকিন কাগজ দিয়ে মোড়ানো হয়। মোড়ককৃত আম বাঁশের ঝুড়ি, ৫ কেজি কার্টন এবং প্লাস্টিকের ঝুড়িতে ভরে ট্রাকে করে জয়দেবপুর ও ঢাকায় পরিবহন করা হয়। গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য ৩০০ কেজি আম রাখা হয়। কয়েক দিনের মধ্যে আম হলুদ বর্ণ ধারণ করে। প্রতিটা আম মোড়ানো ছিল বলে কোনো আমের গায়ে দাগ ছিল না। সাধারণ তাপমাত্রায় ২০ দিন পর্যন্ত রাখার পরও কোনো আম পচেনি এবং আমের বর্ণ হলুদ হয়েছিল।

বিরূপ প্রতিক্রিয়া দূর

প্রতিজন ব্যবসায়ী প্রতি মৌসুমে কয়েক কোটি টাকার আম ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শহরে বাজারজাত করেন। তাদের জন্য যন্ত্রটির দাম তেমন বেশি নয়। এই যন্ত্র ব্যবহার করলে আমের অপচয় রোধ হবে। অপচয় রোধ হলে বর্তমানের চেয়ে বেশি দামে কৃষকদের আম বিক্রয় করার এবং কম মূল্যে ক্রেতাদের আম ক্রয় করার সম্ভাবনা থাকে। অসাধু ব্যবসায়ীরা নিষিদ্ধঘোষিত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন। সেজন্য অনেকে আম কেনা ছেড়ে দিয়েছেন। গরম পানিতে শোধন করা আম কিনতে পারলে ক্রেতাদের এই বিরূপ মনোভাব দূর হবে।

উদ্ভাবকদের ভাষ্য


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসকারি বাঙালিরা বেশি দাম দিয়ে হলেও দেশে উত্পাদিত গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি প্রভৃতি জাতের আম কিনতে আগ্রহী। তবে বাজার থেকে আম কেনার দু'চার দিনের মধ্যে আম পচে যায়। তাই রপ্তানিকারকগণ রপ্তানি করতে আগ্রহী হন না। আর কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আমের পচনরোধ করতে ব্যবহার করেন ফরমালিন। তবে নতুন উদ্ভাবিত আম শোধন যন্ত্র দিয়ে শোধন করলে আমে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। শোধনের পর পলিইথাইলিন ফোম নেট দিয়ে মুড়িয়ে এবং রপ্তানির জন্য ব্যবহূত কার্টন ব্যবহার করলে পচন সমস্যা দূর করা যাবে। উদ্ভাবকরা জানান, এটি কৃষকদের জন্য উপযোগী নয়। ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে যন্ত্রটি বানানো হয়েছে। আমাদের এই যন্ত্র বানাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করলে খরচ আরো কমবে। বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্র বানাতে বিনিয়োগ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

সূত্র - বারেক কায়সার,  ইত্তেফাক।