ধান চাষে ইউরিয়া স্প্রে প্রযুক্তি
কম ইউরিয়ায় বেশি ফলন
ধানগাছের পাতায় বিশেষ কৌশলে ইউরিয়া স্প্রে করলে মাটিতে ইউরিয়ার ব্যবহার অর্ধেক কমে যায়। আবার ধানের ফলনও প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ে। চলতি আমন মৌসুমে বিশেষ এই পদ্ধতিতে প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে সাফল্য পাওয়া গেছে। বিএডিসির রাজশাহী বিভাগীয় যুগ্ম পরিচালক আরিফ হোসেন খান নতুন এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
আরিফ হোসেনের দাবি, সারা দেশে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করা হলে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সাশ্রয় করা সম্ভব; যা আমদানি করতে সরকারের প্রায় এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। আবার এই পদ্ধতির সুফল হিসেবে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে; যার বাজারমূল্য প্রায় তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা। তাঁর হিসাবমতে, দেশে প্রতিবছর এক কোটি ১৮ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ, আমন ও বোরো ধান চাষ হয়ে থাকে। এই পদ্ধতিতে চাষ করলে হেক্টরে প্রায় ৫০ কেজি ইউরিয়া সাশ্রয় হবে।
আরিফ হোসেন চার বছর ধরে গবেষণা করে দেখেছেন, ধান চাষের মোট প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের ৫০ শতাংশ মাটিতে ও ১৫ শতাংশ ধানগাছের পাতায় বিশেষ কৌশলে প্রয়োগ করলে এই সাফল্য পাওয়া যায়। তিনি এর নাম দিয়েছেন ধান চাষের ‘ইউরিয়া সেপ্র প্রযুক্তি’। ইতিমধ্যেই তিনি প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের রাঙামাটি, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, পাবনা, রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন চাষি এবং বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা) সরকারি খামারে পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি দাবি করেন, ধান চাষের এমন জুতসই, সহজ ও লাভজনক প্রযুক্তি উদ্ভাবন দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটাই প্রথম। ইতিমধ্যে তিনি প্রযুক্তিটি যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এই পদ্ধতিতে কী পরিমাণ পানিতে কতটুকু ইউরিয়া ও পটাশ ব্যবহার করতে হবে, তা মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) পাওয়ার আগে এখনই কিছু বলতে চান না তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, ধান চাষে যে পরিমাণ ইউরিয়া লাগে তার ৫০ ভাগ দুই কিস্তিতে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। আর ১৫ শতাংশ ইউরিয়া সারের সঙ্গে কিছু পটাশ পানিতে মিশিয়ে ধানের সর্বাধিক কুশি উৎপাদন পর্যায় থেকে গামুর অবস্থায় (হেডিং স্টেজ) যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০-১৫ দিন অন্তর তিনবার সেপ্র করতে হবে। তবে জাত এবং মৌসুম (আউশ, আমন ও বোরো) ভেদে প্রযুক্তিটির প্রয়োগে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন তাঁর ১৩ বিঘা জমিতে বিনা ধান-৭ এবং সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৫৬ ধান চাষ করেছেন। রুহুল বলেন, তিনি তাঁর সম্পূর্ণ জমিতে ইউরিয়া স্প্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত আমন মৌসুমে তাঁরা বিঘাপ্রতি ১৯ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিতে তিনি ১৩ কেজি সার দিয়েছেন। তাঁর প্রতিবেশীরা যাঁরা প্রচলিত নিয়মে সার ব্যবহার করেছেন, তাঁদের চেয়ে তাঁর জমিতে কম খরচে তুলনামূলক ধান ভালো হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ওই কৃষকের ব্রি-৫৬ ধানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, একই ধান পাশের জমিতে রয়েছে। তাঁর চেয়ে রুহুলের জমির ধান অনেকটা সবল। শীষও সুন্দর হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। এবার তাঁর ১০ কেজি ইউরিয়া কম লেগেছে। ধানের উৎপাদনও দেড় থেকে দুই মণ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিএডিসি পাবনার টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারের উপপরিচালক জামিলুর রহমান বলেন, তিনি চলতি আমন মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। এখানে এক বিঘা জমিতে সাধারণত ৩০-৩৫ কেজি ইউরিয়া দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে ১০-১২ কেজি সার কম দিয়েই তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন আমিনুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারে এই প্রযুক্তিটি তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই পদ্ধতিতে মাটিতে আর্দ্রতা কম থাকলেও ধানগাছে ইউরিয়া দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে গাছ আরও কার্যকরভাবে ইউরিয়া গ্রহণ করতে পারে।
আরিফ হোসেন জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক ও গবেষকেরা অবিলম্বে তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা করছেন। এতে পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য অধিকতর সুরক্ষা হবে বলেও জানান তিনি।
আরিফ হোসেন চার বছর ধরে গবেষণা করে দেখেছেন, ধান চাষের মোট প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের ৫০ শতাংশ মাটিতে ও ১৫ শতাংশ ধানগাছের পাতায় বিশেষ কৌশলে প্রয়োগ করলে এই সাফল্য পাওয়া যায়। তিনি এর নাম দিয়েছেন ধান চাষের ‘ইউরিয়া সেপ্র প্রযুক্তি’। ইতিমধ্যেই তিনি প্রযুক্তিটি বাংলাদেশের রাঙামাটি, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, পাবনা, রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন চাষি এবং বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা) সরকারি খামারে পরীক্ষা করে সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি দাবি করেন, ধান চাষের এমন জুতসই, সহজ ও লাভজনক প্রযুক্তি উদ্ভাবন দেশ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটাই প্রথম। ইতিমধ্যে তিনি প্রযুক্তিটি যথাযথভাবে উপস্থাপনের জন্য বিএডিসির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এই পদ্ধতিতে কী পরিমাণ পানিতে কতটুকু ইউরিয়া ও পটাশ ব্যবহার করতে হবে, তা মেধাস্বত্ব (পেটেন্ট) পাওয়ার আগে এখনই কিছু বলতে চান না তিনি।
আরিফ হোসেন বলেন, ধান চাষে যে পরিমাণ ইউরিয়া লাগে তার ৫০ ভাগ দুই কিস্তিতে মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। আর ১৫ শতাংশ ইউরিয়া সারের সঙ্গে কিছু পটাশ পানিতে মিশিয়ে ধানের সর্বাধিক কুশি উৎপাদন পর্যায় থেকে গামুর অবস্থায় (হেডিং স্টেজ) যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০-১৫ দিন অন্তর তিনবার সেপ্র করতে হবে। তবে জাত এবং মৌসুম (আউশ, আমন ও বোরো) ভেদে প্রযুক্তিটির প্রয়োগে সামান্য কিছু পার্থক্য রয়েছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন তাঁর ১৩ বিঘা জমিতে বিনা ধান-৭ এবং সাড়ে তিন বিঘা জমিতে ব্রি-৫৬ ধান চাষ করেছেন। রুহুল বলেন, তিনি তাঁর সম্পূর্ণ জমিতে ইউরিয়া স্প্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণত আমন মৌসুমে তাঁরা বিঘাপ্রতি ১৯ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিতে তিনি ১৩ কেজি সার দিয়েছেন। তাঁর প্রতিবেশীরা যাঁরা প্রচলিত নিয়মে সার ব্যবহার করেছেন, তাঁদের চেয়ে তাঁর জমিতে কম খরচে তুলনামূলক ধান ভালো হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর ওই কৃষকের ব্রি-৫৬ ধানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, একই ধান পাশের জমিতে রয়েছে। তাঁর চেয়ে রুহুলের জমির ধান অনেকটা সবল। শীষও সুন্দর হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। এবার তাঁর ১০ কেজি ইউরিয়া কম লেগেছে। ধানের উৎপাদনও দেড় থেকে দুই মণ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিএডিসি পাবনার টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারের উপপরিচালক জামিলুর রহমান বলেন, তিনি চলতি আমন মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন। এখানে এক বিঘা জমিতে সাধারণত ৩০-৩৫ কেজি ইউরিয়া দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে ১০-১২ কেজি সার কম দিয়েই তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন আমিনুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারে এই প্রযুক্তিটি তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই পদ্ধতিতে মাটিতে আর্দ্রতা কম থাকলেও ধানগাছে ইউরিয়া দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে গাছ আরও কার্যকরভাবে ইউরিয়া গ্রহণ করতে পারে।
আরিফ হোসেন জানান, সরকারের নীতিনির্ধারক ও গবেষকেরা অবিলম্বে তাঁর উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা করছেন। এতে পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য অধিকতর সুরক্ষা হবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র- দৈনিক প্রথম আলো







0 comments:
Post a Comment