কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে

কৃষিই বাংলাদেশের অথনীতির মুল চালিকা শক্তি । তাই কৃষকদের ন্যায্য মুল্যে সার, ঔষধ ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করতে হবে

কৃষিই উ্ন্নতিতেই জাতির প্রকৃত উন্নতি

জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, তাই কৃষকদের উন্নতিই জাতির প্রকৃত উন্নতি।

কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসলের উচিত মূল্য দিতে হবে

বাংলাদেশের অসহায় কৃষক শুধু কলুর বলদের মত খেটেই চলছে, কখনও বন্যা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়, তাও কখনও ন্যর্য মুল্য পায় না।

ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে হবে

কৃষকদের বাঁচাতে হলে প্রথমতঃই কৃষকদের থেকে তাদের উৎপাদিত পন্য ন্যার্য মুল্যে সরাসরি ক্রয় করতে হবে, যেন তারা মধ্যভোগীদের দৌরাত্ব থেকে বাঁচতে পারে।

কৃষিই বাংলাদের অথনীতির প্রান ভোমরা

দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে কৃষিই ব্যপক উৎপাদনই সরকারের কোষাগার স্ফৃত করছে, বিনিময়ে কৃষকরা কিছুই পাচ্ছেনা, বরং অবহেলার স্বীকার হচ্ছে।

Sunday, October 6, 2013

সম্ভাবনা প্রতিদিন - ঔষধি গাছের দশটি গ্রাম

ঔষধি গাছের দশটি গ্রাম - সম্ভাবনা প্রতিদিন

এই দশ গ্রাম এবং এর আশপাশের এলাকার মানুষ সর্দি, কাশি, জ্বর, বমি বমি ভাব, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে সড়কের পাশের ঔষধি গাছ থেকে ফল, বাকল, পাতা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ওষুধ বানিয়ে সেবন করেন।

 

জেলার মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার ১০টি গ্রামের মানুষ সর্দি-কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদি সাধারণ রোগ চিকিত্সার জন্য আর ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন না। বরং তারা ভেষজ উদ্ভিদ বা ঔষধি গাছ ব্যবহার করেই ভালো ফল পাচ্ছেন। 

কাশিয়ানী উপজেলার হিরণ্যকান্দি, জোনাসুর, মাঝিগাতি, গেড়াখোলা, মুকসুদপুর উপজেলার সালিনাবক্সা, দাসেরহাট, হোগলাকান্দি, খড়িকাইন, পুরাতন মুকসুদপুর ও কদমপুর এখন ঔষধি গাছের গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। সুফলভোগীরা গাছের ছাল, বাকল, পাতা ও ফল বিক্রি করে বেশ দু'পয়সা রোজগার করছেন। এসব ঔষধি গাছপালা রোগবালাই সারাতে যেমন কাজে লাগছে, অর্থ উপার্জনেরও একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। এ কারণে এলাকার মানুষ ঔষধি বৃক্ষ রোপণ ও সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

শুরুর কথা

ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক নির্মিত হওয়ার পর এ সড়কের দুইপাশে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. নলিনী রঞ্জন বসাক ঔষধি গাছ রোপণ ও খাদে মত্স্য চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালের আগস্টে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম' সড়ক ও জনপথ এবং বন বিভাগের সহযোগিতায় এই মহাসড়কের দুইপাশে কাশিয়ানী উপজেলার হিরণ্যকান্দি থেকে মুকসুদপুর উপজেলার কদমপুর পর্যন্ত ১০টি গ্রামের ১০ কিমি এলাকা জুড়ে সমিতির সদস্যদের মাধ্যমে ৩৭ হাজার নিম, আমলকী, হরিতকি, বহেড়া, অর্জুন, মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়। সঙ্গে লাগানো হয় ঘৃতকুমারী, কালোমেঘ, উলটকম্বল, বাসক ইত্যাদি গাছের চারা। সড়কের খাদে মত্স্য চাষ করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পড়ে। ভেস্তে যায় মাছ চাষ। সামাজিক বনায়ন সমিতির ১৪০ জন সুফলভোগী পাহারা দিয়ে, পরিচর্যা করে ২১ হাজার গাছ বাঁচাতে সক্ষম হন।

বৃদ্ধি পাচ্ছে উপার্জনের ক্ষেত্র 

প্রথম বছরই ঘৃতকুমারী, কালোমেঘ, উলটকম্বল বাসক থেকে সুফলভোগীরা ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। ৫ বছরের মাথায় লম্বু, মেহগনি প্রভৃতি বনজ বৃক্ষের ডালপালা ছেটে জ্বালানি হিসাবে বিক্রি করে সমিতির সদস্যরা এক লাখ টাকা আয় করেন। এছাড়া এখানে লাগানো খেজুর, তাল, কাঁঠাল ইত্যাদি ফল বিক্রি করে সমিতির সদস্যরা ভালোই রোজগার করেন। এ বছর সমিতির সদস্যরা ৫০ হাজার টাকার নিমপাতা, আমলকী ও অর্জুনের ছাল বিক্রি করেছেন। বহেড়া ও হরিতকি বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে। এখন বনজ, ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষ যতই বড় হচ্ছে সুফলভোগীদের আয় ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এলাকাবাসী উপকৃত হচ্ছেন

২০১০ সাল থেকেই আমলকী, হরিতকি, বহেড়া গাছে ফল ধরছে। এই দশ গ্রাম এবং এর আশপাশের এলাকার মানুষ সর্দি, কাশি, জ্বর, বমি বমি ভাব, আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে বিনামূল্যে সড়কের পাশের ঔষধি গাছ থেকে ফল, বাকল, পাতা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ওষুধ বানিয়ে সেবন করেন। 

দাসেরহাট গ্রামের হাসেম আলী বলেন, নিমের পাতা, অর্জুনের ছাল, আমলকী, হরিতকি, বহেড়া নানা রোগ চিকিত্সায় যথেষ্ট কার্যকর। আমরা সর্দি, কাশিসহ সাধারণ অসুখ-বিসুখে ছোটবেলা এসব গাছের ফল, বাকলের রস খেয়ে সুস্থ হতাম। মাঝে এসব গাছ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আবার আবাদ করায় আমরা বিনা পয়সায় এসব গাছ থেকে ফল ও ছাল নিয়ে অসুখ থেকে মুক্তি পাচ্ছি। এ্যলোপাথি ওষুধ কিনতে প্রচুর টাকা প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে গ্রামের মানুষ ঔষধি গাছ থেকে বিনামূল্যে ওষুধ সংগ্রহ করছে।

ফল ও বাকলের চাহিদা যথেষ্ট

এ বছর আমলকী, নিম পাতা ও অর্জুনের ছাল বিক্রি করে সমিতির সদস্যরা ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এছাড়া হরিতকি ও বহেড়া বিক্রি থেকে এ বছর আরো ৫০ হাজার টাকা আয় হবে বলে তারা আশা করছেন। আয়ের সব টাকা সমিতির সুফলভোগীদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। 

সুফলভোগী ও মহিলা গ্রুপ লিডার সুনীতি বসাক বলেন, সমিতির সদস্যরা বৃক্ষ রোপণ করে পাহারা দিয়ে, পরিচর্যা করে বড় করেছেন। এখন আমাদের সুদিন এসেছে। এসব ঔষধি গাছ থেকে আমরা ভালোই আয় করছি। প্রতি বছরই আমাদের আয় বৃদ্ধি পাবে।

সুফলভোগী মিজান মুন্সি ও মোঃ শুকুর আলী ফকির বলেন, আগে গ্রামের মানুষ ঔষধি গাছের ফল, বাকল, পাতা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ওষুধ তৈরি করে খেয়ে রোগ থেকে মুক্তি পেত। মাঝে এসব গাছ কমে গিয়েছিল। 

ঔষধি ফল ও ছালের বাজার 

ফড়িয়া আবু বক্কার মোল্লা (৬৫) বলেন, আমাদের দেশে ঔষধি গাছের ফল, পাতা ও ছালের বিশাল বাজার রয়েছে। এসব জিনিসের ওপর নির্ভর করে দেশে অনেক কোম্পানি গড়ে উঠেছে। তারা ভেষজ ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরি করছে। ভেষজ ওষুধ ও প্রসাধনী প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আমরা গ্রাম থেকে নিম পাতা, আমলকী, বহেড়া, হরিতকি ও অর্জুনের ছাল কিনে নিয়ে ঢাকায় সাধনা, শক্তি ঔষধালয়সহ বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করি। এ থেকে আমাদের ভালোই আয় হয়। গোপালগঞ্জের এ ভেষজ বাগানের গাছ বড় হলে ফল ও ছাল বেশি পাওয়া যাবে। এখান থেকে সুফলভোগীদের আয় প্রতিবছর বাড়বে। উত্পাদন বৃদ্ধি পেলে বিভিন্ন কোম্পানি সরাসরি তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল কিনে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঝন্টু কুমার সাহা বলেন, ঔষধি গাছ মানুষের জন্য প্রকৃতির অমূল্য দান। এলাকার মানুষ নলিনী রঞ্জন বসাকের আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঔষধি গাছ লাগিয়ে এলাকার মানুষ ও নিজেদের জন্য কল্যাণ বয়ে এনেছেন। এলাকার মানুষ বিনা পয়সায় ঔষধি গাছ থেকে উপকৃত হচ্ছেন। আবার আবাদকারীরা অর্থ আয় করছেন। ভেষজ ওষুধ সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় মানুষ ভেষজ ওষুধ ও ভেষজ প্রসাধনীর ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। 

পরিবেশ কর্মীর বক্তব্য 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশর কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সবুর লস্কর ও পরিবেশ কর্মী মোঃ শাহজাহান সাজু বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঔষধি গাছের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। যেকোন গাছই দূষিত বাতাস গ্রহণ করে নির্মল বাতাস প্রদান করে। তবে ঔষধি গাছের কিছু কিছু বাড়তি গুণ রয়েছে। যেমন নিম গাছের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত বাতাস অনেক রোগ-বালাই দূরে রাখতে সাহায্য করে। এই বাতাস ফসলের ক্ষেতে কীটনাশকের মতও কাজ করে। 

উদ্যোক্তার বক্তব্য 

প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. নলিনী রঞ্জন বসাক বলেন, প্রথমদিকে মানুষ ঔষধি গাছের আবাদের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। আস্তে আস্তে তারা যখন রোগমুক্তিতে ঔষধি বৃক্ষ থেকে উপকার পেতে শুরু করেন ও সুফলভোগীরা অর্থের মুখ দেখছেন তখন এর গুরুত্ব বেড়েছে। কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার ১০টি গ্রামে ঔষধি গাছের আবাদ সফল হয়েছে। এখন স্থানীয়রা এর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। গ্রামগুলো এখন ঔষধি গাছের গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। অর্থনৈতিক ও চিকিত্সার দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ গাছের চাষ এলাকায় সম্প্রসারিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক।


কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত - কীটনাশক ছাড়া ধান চাষ



কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত - কীটনাশক ছাড়া ধান চাষ
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে পোকামাড়কের উপদ্রব থেকে ধানের ক্ষেত রক্ষায় ‘পার্চিং’ পদ্ধতি কৃষকদের নিকট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ধান ক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারে পোকামাকড় দমন হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক সাশ্রয় হচ্ছে। কয়েক বছর আগে অল্প সংখ্যক জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার চোখে পড়তো। কিন্তু উপকার পাওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কৃষক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কালীগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কালীগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের রোপণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ১৯৮ হেক্টর। সেখানে রোপণ হয়েছে ১৭ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ১ হাজার ৩৮২ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। কয়েকজন কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, এ বছর ধান রোপণের সময় এ এলাকায় তেমন একটা বৃষ্টি হয়নি। তাই বাড়তি খরচ করে সেচ দিয়ে জমি রোপণ করতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ধান ক্ষেতে নলীমাছিসহ নানা প্রকার ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি মৌসুমে কৃষকের ধান ক্ষেতে ব্যাপকভাবে মাজরা, ঘাসফড়িং, গান্ধি, পদ্মা, লেদাপোকা, কারেন্ট পোকা, পাতা মোড়ানোসহ নানা ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে ব্যাপকভাবে নলীমাছির আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই মাছি ধান গাছের মাঝের জালি পাতা কুঁকড়ে নল বা পাইপের মতো করে তুলছে। পোকামাকড়ের আক্রমণে ধান ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তখন তারা নিরুপায় হয়ে বাজার থেকে নানা ধরনের কীটনাশক ক্রয় করে জমিতে ব্যবহার করে। কিন্তু এসব কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকরা ফসল রক্ষায় তেমন কোন উপকার পায় না, আবার জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়। তাই বর্তমানে কৃষকরা আইপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করে ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝে গাছের ডালপালা কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া শুরু করেছে। এই গাছের ডালপালা বা বাঁশের কঞ্চিতে শালিক, ফিঙেসহ নানা প্রজাতির পাখি বসে ক্ষেতে আক্রমণকারী পদ্মা, ঘাসফড়িং, লেদা পোকা, কারেন্ট পোকা, গান্ধি, মাজরাসহ ক্ষতিকারক নানা পোকামাকড় ও মথ খেয়ে ফেলে বলে কৃষকরা জানান।
কালীগঞ্জ পৌরসভার আনন্দবাগ গ্রামের কৃষক হারুনার রশিদ আলাপকালে জানান, তিনি চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতে নলীমাছি আক্রমণ করায় দানাদার ব্যবহার করেছেন কিন্তু কোন উপকার পাননি। তাই তিনি আর কোন কীটনাশক ব্যবহার না করে জমির মাঝে মাঝে ডাল পুঁতে দিয়েছেন। যাতে পাখি বসে নলীমাছি ছাড়াও অন্যান্য পোকা খেয়ে ফেলছে। এতে তার ক্ষেতের ভালোই উপকার হচ্ছে বলে তিনি জানান। কৃষকরা সকলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে উপকৃত হবে, ধানের চারা রোপণকালীন সময়ে জমিতে কমপক্ষে ৬-৭টি করে ডাল পুঁতে দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, একটি মাজরা পোকা ৩০০ থেকে ৩৫০টি ডিম পাড়ে। ক্ষেতে ডাল বা কঞ্চি পুঁতে দিলে তাতে পাখি বসে ডিমগুলো খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষেত অনেকাংশে পোকামুক্ত হয়। তিনি দাবি করে বলেন, উপজেলার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ কৃষক বর্তমানে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, উপজেলার ১০০ ভাগ কৃষক পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে কৃষকরা উপকৃত হত এবং কীটনাশকের খরচ কমে যেত। এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু অনেক কৃষক এখনো সচেতন হয়নি।
 সূত্র - ইনকিলাব।

Thursday, October 3, 2013

ক্ষতিকর ইউক্যালিপ্টাস গাছের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

ক্ষতিকর ইউক্যালিপ্টাস গাছের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

বুধবার, ২৮ অগাস্ট ২০১৩, ০৪:৫৫ অপরাহ্ন

হাবিবুর রহমান


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানার রাস্তার দুই পাশে ইউক্যালিপ্টাস গাছ লাগানো হয়েছে : নয়া দিগন্ত
ইউক্যালিপ্টাস বা আকাশমণি আমাদের সবারই অতিপরিচিত একটি বৃরে নাম। সামাজিক বনায়নের বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ইউক্যালিপ্টাস গাছ লাগানো হয়েছে। কিন্তু এই গাছ আমাদের জলবায়ু, মাটি, কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বর্তমানে দেশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই গাছের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের আশপাশেও বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে এই গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষকেরা অনেকটা না জেনেই ইউক্যালিপ্টাস গাছ, কৃষিজমির পাশে, বাড়ির আঙিনায় ও রাস্তার পাশে ব্যাপকভাবে রোপণ করছেন। মূল দ্রুতবর্ধনশীল হওয়ার কারণে ইউক্যালিপ্টাস গাছের প্রতি বেশি ঝুঁকছে বলে উত্তরাঞ্চলের একাধিক কৃষক জানিয়েছেন। দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাসহ অন্যান্য থানার স্থানীয়রা বসতবাড়ির পাশে, পুকুরপাড়ে, রাস্তার ধারে, পতিত জমি ও আবাদি জমির আইলে ইউক্যালিপ্টাস গাছ রোপণ করেছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, ইউক্যালিপ্টাস গাছ আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার পানি শোষণ করে এবং আকাশে উঠিয়ে দেয়। এই গাছ রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছেড়ে দেয়। জমির আইল, কৃষিজমি ও পতিত জমিতে এই গাছ লাগানোর কোনো মানে নেই, বরং ক্ষতিকর। এই গাছের আশপাশে কোনো গাছ জন্মাতে পারে না। ইউক্যালিপ্টাস গাছ মাটি শুকিয়ে ফেলে এবং জমির উর্বরতা কমে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ইউক্যালিপ্টাস অতি দ্রুতবর্ধনশীল বিদেশী প্রজাতির বৃক্ষ। এটি মাটির ৫০ ফুট নিচে পর্যন্ত পানি শোষণ করে বাতাসে ছেড়ে দেয়। যে কারণে মাটিতে পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয়। ইউক্যালিপ্টাস গাছের শিকড় এত বেশি বৃদ্ধি পায় যে এই গাছের পাশে ধানগাছ থেকে শুরু করে অন্য কোনো প্রজাতির গাছ টিকতে পারে না। এই গাছের কাঠের গুণাগুণ ভালো হয় না। এটি মাটির গুণাগুণ এবং উর্বরতা নষ্ট করে। মাটি এক সময় চুনামাটি হয়ে যায়। আর ইউক্যালিপ্টাস গাছ কেটে ফেললে মাটির উর্বরতা ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। ইউক্যালিপ্টাস গাছ বেশি পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করার কারণে অধিক পরিমাণে কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন করে। কৃষিজমি ও বাড়ির আঙিনায় ইউক্যালিপ্টাস গাছ বর্জন করা উচিত। কৃষিজমি রক্ষা করতে হলে ইউক্যালিপ্টাস বর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ভাবা উচিত, বিভিন্নভাবে কম খরচে কিভাবে বৃক্ষরোপণ করা যায়। অধিক পরিমাণে ফলদ ও বনজ বৃক্ষরোপণ করা যায়। বনায়নের জন্য দেশী ফলদ বৃক্ষ বেছে নিলে এক দিকে যেমন ফল পাওয়া যাবে অন্য দিকে মূল্যবান কাঠও পাওয়া যাবে। উদ্ভিদবিদদের মতে, ইউক্যালিপ্টাস গাছ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামিয়ে দেয়, যা পানির সামান্য উৎসকেও নিঃশেষ করে দিচ্ছে। ইউক্যালিপ্টাস গাছের শ্বসনে কার্বন-ডাই অক্সাইড ত্যাগের মাত্রা বেশি, যার ফলে এই গাছের নিচে অন্য কোনো গাছ জন্মায় না। এই গাছে কোনো পাখি বাসা বানায় না। পানির স্তর কমানোর কারণে ইউক্যালিপ্টাস জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করছে। ইউক্যালিপ্টাস গাছের ফুলের রেণু নিঃশ্বাসের সাথে দেহে প্রবেশ করলে অ্যাজমা হয়। ইউক্যালিপ্টাস গাছের পাতা মাটির জন্য তিকর। মাটিতে পড়ার পর পাতার পচনেও অপোকৃত বেশি সময় লাগে, যা মাটি ভেদ করে পানি ভূগর্ভে যেতে বাধার সৃষ্টি করে। ইউক্যালিপ্টাস বা আকাশমণির ইংরেজি নাম Auri, Ear leaf, Acacia ও বৈজ্ঞানিক নাম Acacia auriculiformis. এটি খুব দ্রুত বাড়ে। ইউক্যালিপ্টাস অন্যান্য গাছে চেয়ে বেশি খাবার খায় ও অক্সিজেন শোষণ করে এবং কার্বন-ডাই অক্সইড ত্যাগ করে, পরিবেশবান্ধব না হওয়ায় কোনো পাখিও বাসা বাঁধে না। ইউক্যালিপ্টাস গাছ তিকর, এটি বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কমিয়ে ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু নার্সারি চাষি ইউক্যালিপ্টাস গাছের চারা তৈরিসহ বাজারজাত অব্যাহত রেখেছে। উত্তরাঞ্চলে হাটবাজারগুলোতে অন্যান্য পণ্যের মতো নার্সারি থেকে ইউক্যালিপ্টাস গাছের চারা বিক্রি করা হয়। দেখতে খুবই স্মার্ট এবং সস্তা এই চারা। কৃষকেরা কেনাবেচা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই গাছের চারা নিয়ে জমির আইলে, কৃষি ক্ষেতের পাশে এবং পতিত জমিতে রোপণ করছেন। উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি জমি ও পরিবেশের ভারসাম্য রার জন্য পানিখেকো গাছের চারা উৎপাদন ও লাগানো বন্ধে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে রোপণ বন্ধে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রার জন্য ফলদ ও ঔষধি গাছ রোপণের পাশাপাশি ইউক্যালিপ্টাস গাছের তিকর দিকগুলো চাষিসহ আপামর জনগণকে জানাতে হবে। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্যের ওপর প্রাণঘাতী আঘাত হানবে।
সূত্র - দেনিক নয়াদিগন্ত।

বাংলাদেশি কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করল বিএসএফ

বাংলাদেশি কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করল বিএসএফ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বজলুর রহমান নামে এক বাংলাদেশি কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ সোমবার উপজেলার ভারত সীমান্ত সংলগ্ন রামকৃঞ্চপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিএসএফকে চিঠি দিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে বজলুর রহমান (৪৮) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ১৫৭/১ এস সীমানা পিলারের ৩০০ গজ দূরে বাংলাদেশের ভেতরে কলমিলতা সংগ্রহ করছিল। এ সময় ভারতের নদীয়া জেলার হোগলবাড়িয়া থানার বিএসএফ ৯১ ব্যাটালিয়নের বাউশমারী ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে লাঠি ও রাইফেলের বাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ একটি ডোঙ্গায় করে মাথাভাঙ্গা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। অন্যান্য কলমিলতা সংগ্রহকারীরা নদীর মধ্যে বজলুর লাশ দেখে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেয়। পরে বিজিবি সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির ৩২ ব্যাটালিয়নের চিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবদার ইউনুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

Tuesday, October 1, 2013

সাশ্রয়ী : পরিবেশের ক্ষতি করে না হচ্ছে জনপ্রিয়

সাশ্রয়ী : পরিবেশের ক্ষতি করে না হচ্ছে জনপ্রিয়
সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে নজির হোসেন নজু : সৈয়দপুরে আমন ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে কৃষিবান্ধব পার্চিং পদ্ধতিতে কৃষকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে।  তবে লাইভ পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কৃষকদের মাঝে। কারণ এ পদ্ধতি প্রয়োগে যেমন ধৈঞ্চে গাছের ঝরে পড়া পাতা থেকে ক্ষেতে তৈরি হচ্ছে জৈব সার পাশপাশি ক্ষেতের পোকা দমনে কৃষকদের অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে। তাই গোটা উপজেলার আমন ক্ষেতে ক্ষেতে বর্তমানে পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে ।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমন ক্ষেতে মাজরা, পাতামোড়ানো, ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, লেদাপোকা প্রভূতি নানা ধরনের পোকামাকড় আক্রমণ করে। ক্ষেতে আক্রান্ত পোকামাকড় দমনে কৃষকরা বাজার থেকে চড়ামূল্যে রাসায়নিক কীটনাশক সংগ্রহ করে আমন ক্ষেতে প্রয়োগ করছে। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে কৃষকরা। তবে আমন ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি প্রতি কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায় ক্ষেতের পোকামাকড় দমনের এই কৃষিবান্ধব একটি পদ্ধতি হচ্ছে পার্চিং। পোকামাকড় দমনে মূলতঃ দু’ধরনের পার্চিং পদ্ধতি রয়েছে। এর একটি হচ্ছে “লাইভ পার্চিং” ক্ষেতে ধৈঞ্চে গাছ লাগানো। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম সেচবানিয়া রোস্টট্রাটা। এটির আফ্রিকান জাত। অপর পদ্ধতিটি হচ্ছে ডেড পার্চিং অর্থাৎ ফসলের ক্ষেতে গাছের ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, সাধারণত আমনের বীজ বপনের সময় আমন বীজের সঙ্গে এ ধৈঞ্চে গাছের বীজও আমন বীজতলায় বপন করা হয়। আমন চারার সঙ্গে সঙ্গে এটিও যথাযথভাবে বেড়ে উঠে। এরপর জমিতে আমন বীজ রোপনের ৫/১০দিনের মধ্যে আমন ক্ষেতে ধৈঞ্চে গাছ রোপন করতে হয়। তবে আমন বীজতলা থেকে তোলা একটি ধৈঞ্চে গাছ ২/৩টি অংশে কেটে আমন ক্ষেতে রোপন করা হয়। আমন ধান গাছ বেড়ে উঠার সাথে সাথে এ গাছগুলোও বেড়ে উঠে। পরবর্তীতে এ ধৈঞ্চে গাছগুলো যখন আমন গাছের উচ্চতাকে অতিক্রম করে হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ডালপালা ছড়িয়ে বেড়ে উঠে, তখন এসব ধৈঞ্চে গাছে বসে পাখি। আর ওই পাখি আমন ক্ষেতে উড়ে উড়ে পোকামাকড় ধরে খায়। তাছাড়া ধৈঞ্চে গাছের পাতা আমন ক্ষেতের জমিতে ঝরে পড়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে জৈব সার। এতে করে লাইভ পার্চিং পদ্ধতির কারণে একদিকে আমন ক্ষেতে আক্রান্ত পোকামাকড় দমনে ক্ষেতে কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশক ছিটাতে হয় না। অন্যদিকে জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করাও প্রয়োজন হচ্ছে না। ফলে আমন চাষাবাদে কৃষকদের অর্থনৈতিক দিকে থেকেও সাশ্রয় হচ্ছে। কারণ রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে তাদের অনেক অর্থ ব্যয় হতো। তাই কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার সৈয়দপুর উপজেলায় বিভিন্ন কৃষি ব্লকে কীটনাশক দমনে কৃষিবান্ধব লাইভ পার্চিং ও ডেড পার্চিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন কৃষকরা। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা (এসএপিপিও) জানান, এবারে উপজেলার ১৪টি কৃষি ব্লকে ৪ হাজার ৫শ’হেক্টরে লাইভ পার্চিং এবং ২হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে ডেড পার্চিং লাগানো হয়েছে। তবে চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ও পৌরসভা কৃষি ব্লকের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি আমন ক্ষেতে লাইভ পার্চিং এবং ডেড পার্চিং পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। আর কৃষি বিভাগ লাইভ পার্চিংয়ের জন্য ধৈঞ্চের বীজ বিনামূলে সরবরাহ করছে কৃষকদের। সৈয়দপুর পৌরসভার কয়া কৃষি ব্লকের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি এ বছর ৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করেছেন। প্রতি বছরই আমন ক্ষেত বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় আক্রান্ত হয়। তখন ক্ষেতের পোকা দমনে রাসায়নিক সার প্রয়োগে তাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হতো। কিন্তু এবারে লাইভ পার্চিং পদ্ধতি অর্থাৎ ধৈঞ্চে গাছ লাগানোর ফলে তেমন একটা পোকামাকড়ের আক্রমন হয়নি আমন ক্ষেতে। ধৈঞ্চে গাছে বসে পাখিরা সব পোকামাকড় খেয়ে ফেলছে। ফলে কৃষিবান্ধব এ পদ্ধতি প্রয়োগে তার আমন চাষাবাদে বেশ উপকার হয়েছে।
কয়া পশ্চিমপাড়ার কৃষক রজব আলী বলেন, পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি এবারই প্রথম তিনি প্রয়োগ করেছেন। আর জমিতে পার্চিং পদ্ধতি  কিভাবে লাগাতে হয় তা আমি আগে জানতাম না। তাই তাদের ব্লকের কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহ্বুবার রহমান এবারের নিজের হাতে তার আমন ক্ষেতে লাইফ পার্চিং অর্থাৎ ধৈঞ্চে গাছ এবং গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি লাগিয়ে দেন। সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হোমায়রা মন্ডল, বলেন, ক্ষেতের পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি একটি পরিবেশসম্মত কৃষিবান্ধব পদ্ধতি। আর পার্চিং পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধৈঞ্চে বীজ সরবরাহ করা হয়। গত বছর অল্প পরিসরে কৃষকরা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করলেও এবারে উপজেলার কৃষকদের মাঝে পার্চিং পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি বলেন এ ধরনের উদ্যোগ গোটা দেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
সূত্র - দৈ. ইত্তেফাক