Monday, August 26, 2013

চাঁদপুর মাছঘাট পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সরগরম

চাঁদপুর মাছঘাট পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সরগরম


চাঁদপুরে মাছঘাটে পদ্মার ইলিশের ইস্তূপ : নয়া দিগন্ত
গত দুই সপ্তাহে দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশ আড়ত চাঁদপুর মাছঘাটে পদ্মার ইলিশ আমদানি হওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে। বরিশাল, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলেরা ট্রলারে শত শত মণ ইলিশ নিয়ে আসছেন। এতে চাঁদপুরের মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ইলিশ রফতানি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দেখা যায়। এখন রাতদিন শত শত শ্রমিক ইলিশ ওজন দিয়ে বাক্সভর্তি করে ট্রেন ও ট্রাকে ভর্তি করছেন। মাছঘাট ঘুরে আলাপকালে গত শনিবার জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগে থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথমে ইলিশের দাম বেশি থাকলেও এখন অনেকটা সহনশীলপর্যায়ে এসেছে। আমদানি হওয়ায় ইলিশ চাঁদপুরের স্থানীয় বাজারে বিক্রি না হয়ে শুধু বাক্সভর্তি হয়ে রফতানি হয়। বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী সিরাজ চোকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশের পাইকারি মূল্য নির্ধারণের পর প্যাকেটজাত ও বাক্সভর্তি করে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম সিফুডে পাঠানো হয়। এ মাছঘাটে প্রায় ৩৯টি মাছের আড়ত রয়েছে। এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তবে বিক্রি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্য শ্রমিক জানান, চাঁদপুর থেকে রফতানি ইলিশ বেশি অংশই সিলেটসহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যায়। ভারতে মাছ পাচার হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শান্তি ফিসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার গাজী জানান, আগে এলসি খোলা থাকলেও এখন সম্পূর্ণভাবে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ভারতে মাছ পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে কারা ভারতে মাছ পাঠাচ্ছে, তা আমাদের সঠিক জানা নেই। মৎস্য ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, পদ্মার আমদানি ইলিশের মধ্যে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি সাড়ে ৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের সাড়ে ৬০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ৮০০ টাকা, ১ কেজির ওপরে ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে চাঁদপুরের শত শত জেলে রাতদিন মেঘনায় চষে বেড়ালেও আহরণ করতে পারেননি কাক্সিত ইলিশ। অল্প ইলিশ পেলেও খরচ বাদে তাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। সরেজমিন সদর উপজেলার হানারচর হরিণা ফেরিঘাট, রামদাসদি, বহরিয়া, বড় স্টেশন ও আনন্দ বাজার এলাকা ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ফেরিঘাট এলাকার জেলে মনছুর ছৈয়াল, নুরু ছৈয়াল, হারুন শেখ, নেছু দর্জি একই নৌকায় মাছ ধরেন। মনছুর ছৈয়াল জানান, প্রতিদিন দেশীয় সুতার জালে তারা চার-পাঁচবার নদীতে জাল ফেলেন। শনিবারও তিনবার জাল ফেলে ৫০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি মাছ পেয়েছেন। এতে তাদের খরচের টাকাও উঠবে না। ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মেম্বর আহছান সৈয়াল জানান, ঈদের আগে থেকে ইলিশ কিছুটা জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে। তবে কাক্সিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। যা-ও পাচ্ছেন এর মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশই বেশি। আরেক মৎস্য ব্যবসায়ী সেরাজল শেখ জানান, গত বছর ভরা মওসুমে বড় বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া গেছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ও জাটকা নিধনে মেঘনায় কাক্সিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁদপুরের জেলেদের সংগঠন কান্ট্রিবোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক জানান, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর, মতলব দণি, সদর ও হাইমচর উপজেলায় সরকারি হিসাবে জেলে রয়েছেন ২২ হাজার ৯ জন। আর বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। তাদের সরকার মার্চ-এপ্রিল অভয়াশ্রমকালে যে সহায়তা দেয় তাতে তাদের চাহিদার একাংশও পূরণ হয় না। সরকারি সহায়তা বিতরণের বেশির ভাগ প্রকৃত জেলেরাই বাদ পড়ে যান। এ কারণে জাটকা নিধন বন্ধ সম্ভব হয় না। ফলে এখন ভরা মওসুমে মেঘনায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন দত্ত জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর আমরা জাটকা নিধনে অধিকতর অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তারা সরকারি সহায়তা নিয়ে বেশি করে জাটকা নিধন করেছেন। এ কারণে ইলিশের ভর মওসুমে আকাল দেখা দিয়েছে। তবে নদীতে পানি বাড়লে কাক্সিত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা ড. আক্সিুর রহমান জানান, হতাশার কিছু নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেই নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়বে।
সূত্র - দৈনিক নয়াদিগন্ত।

0 comments:

Post a Comment