দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে সাফল্য : বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠকছে ভোক্তারা
মিজানুর রহমান তোতা : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছেন চাষীরা। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটি দেশের মধ্যে মডেল। যশোর-ঝিনাইদহ ও যশোর-মাগুরার হাইওয়ে সড়ক ধরে এগুলো দু’দিকে যতদুর চোখ যায় দেখা যাবে মাঠে মাঠে সবজির বড় বড় ক্ষেত। দিনরাত সমানতালে পরিশ্রম করে চাষীরা। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তা উভয়েই ঠকছে প্রতিনিয়ত। সবজি উৎপাদনে যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরাসহ দক্ষিণের এই অঞ্চলটি রীতিমতো রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়। রেকর্ডের সুফল ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। সবজি চাষীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সবজির বাজারে ঢুকে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করে কখনোই ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে বারীনগরের সবজি চাষী জয়নাল আবেদীন, পুলেরহাটের আবজাল হোসেন ও আমবটতলার আব্দুল কুদ্দুস জানালেন, যশোর শহরের বড় বাজার থেকে তাদের এলাকার দূরত্ব মাত্র ১০/১২ কিলোমিটার। মাঠের দাম আর বাজারের দামের বিরাট ফারাক রয়েই গেছে। প্রায় দ্বিগুণ লাভ করছে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকারী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। সব সবজির ক্ষেত্রেই একই নিয়ম চলছে। বর্তমানে বিষমুক্ত সবজির সাথে কীটনাশক ব্যবহার করা সবজি মিশিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যশোর ও মাগুরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিষমুক্ত সবজি মাঠ থেকে ক্রয় করে নিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ভেজাল দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছে।
জানা যায়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সরাসরি চাষীদের প্রশিক্ষণ দেন। চাষীরা প্রশিক্ষণ বাস্তবে কাজে লাগিয়ে কীটনাশকের বদলে সবজির পোকা-মাকড় দমন করা শুরু করে ‘ফেরোমন ট্রাপ’সহ আইপিএমএর বিভিন্ন পদ্ধতিতে। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের উদ্যোক্তা হচ্ছেন কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের আবাদ এলাকা বহুগুণে বেড়েছে। যশোরের গাইদঘাট মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়। বিরাট সফলতা আসে। এবারও করলাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পোকা-মাকড় দমন ও অধিক ফলনে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হত চাষীদের। বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত্রে এখন কীটনাশক ও সার ব্যবহার করতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র বেগুনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। বেগুনের পোকা-মাকড় দমনে ওই প্রযুক্তি কাজে আসছে না।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ফর্মুলা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার আমদানি বহুলাংশে কমে যাচ্ছে। সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। তাছাড়া প্রতিবছর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার কারণে ফসলাদি এবং জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হত। তার থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল অঞ্চলটিতে, বর্তমানে সেই গতি নেই। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হলেও এখন বারীনগর, চুড়ামনকাঠি, আমবটতলা, বন্দবিলা, দুর্গাপুর, চ-িপুর, রাঘবপুর, মীর্জাপুর, মথুরাপুর, তেলিধান্যপোতা, সাদিপুর, নোঙ্গরপুর, পান্তাপাড়া ও হাশিমপুরসহ যশোরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে ব্যাপকভাবে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়। নানা কারণে তা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। কৃষক পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রথমদিকে যতটা আন্তরিক ছিল, তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক তোড়জোড় কমে গেছে বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। অথচ পদ্ধতিটি অত্যন্ত ভালো। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষমুক্ত সবজির উৎপাদনের পদ্ধতি হচ্ছে পোকা-মাকড় মারার গন্ধ ফাদ। যা প¬øাস্টিকের কৌটা দিয়ে তৈরি। কৌটার দুইপাশে ছিদ্র করে তাতে এক ধরনের কেমিক্যাল বা নিমপাতা দেয়া হয়। গন্ধ ফাদে ‘ট্রাইকোগ্রামা ও ক্রাইসোপা’সহ উপকারী পোকা অবমুক্ত হয়। আর ক্ষতিকর পোকা-মাকড় মারা যায়। চিকিৎসকদের মতে, বিষযুক্ত সবজি ব্যবহার করায় মানবদেহে বিষ ঢোকার আশঙ্কা থাকে। বিষমুক্ত সবজি ব্যবহারে সেই আশঙ্কা থাকে। ফলে, পদ্ধতিটি আরো জোরদারভাবে ব্যবহার করা উচিত। একইসাথে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তারা যাতে কোনরূপ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। তা না হলে সবজি উৎপাদনে চাষীদের আগ্রহ কমে যাবে।
জানা যায়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সরাসরি চাষীদের প্রশিক্ষণ দেন। চাষীরা প্রশিক্ষণ বাস্তবে কাজে লাগিয়ে কীটনাশকের বদলে সবজির পোকা-মাকড় দমন করা শুরু করে ‘ফেরোমন ট্রাপ’সহ আইপিএমএর বিভিন্ন পদ্ধতিতে। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের উদ্যোক্তা হচ্ছেন কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের আবাদ এলাকা বহুগুণে বেড়েছে। যশোরের গাইদঘাট মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়। বিরাট সফলতা আসে। এবারও করলাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পোকা-মাকড় দমন ও অধিক ফলনে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হত চাষীদের। বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত্রে এখন কীটনাশক ও সার ব্যবহার করতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র বেগুনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। বেগুনের পোকা-মাকড় দমনে ওই প্রযুক্তি কাজে আসছে না।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ফর্মুলা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার আমদানি বহুলাংশে কমে যাচ্ছে। সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। তাছাড়া প্রতিবছর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার কারণে ফসলাদি এবং জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হত। তার থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল অঞ্চলটিতে, বর্তমানে সেই গতি নেই। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হলেও এখন বারীনগর, চুড়ামনকাঠি, আমবটতলা, বন্দবিলা, দুর্গাপুর, চ-িপুর, রাঘবপুর, মীর্জাপুর, মথুরাপুর, তেলিধান্যপোতা, সাদিপুর, নোঙ্গরপুর, পান্তাপাড়া ও হাশিমপুরসহ যশোরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে ব্যাপকভাবে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়। নানা কারণে তা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। কৃষক পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রথমদিকে যতটা আন্তরিক ছিল, তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক তোড়জোড় কমে গেছে বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। অথচ পদ্ধতিটি অত্যন্ত ভালো। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষমুক্ত সবজির উৎপাদনের পদ্ধতি হচ্ছে পোকা-মাকড় মারার গন্ধ ফাদ। যা প¬øাস্টিকের কৌটা দিয়ে তৈরি। কৌটার দুইপাশে ছিদ্র করে তাতে এক ধরনের কেমিক্যাল বা নিমপাতা দেয়া হয়। গন্ধ ফাদে ‘ট্রাইকোগ্রামা ও ক্রাইসোপা’সহ উপকারী পোকা অবমুক্ত হয়। আর ক্ষতিকর পোকা-মাকড় মারা যায়। চিকিৎসকদের মতে, বিষযুক্ত সবজি ব্যবহার করায় মানবদেহে বিষ ঢোকার আশঙ্কা থাকে। বিষমুক্ত সবজি ব্যবহারে সেই আশঙ্কা থাকে। ফলে, পদ্ধতিটি আরো জোরদারভাবে ব্যবহার করা উচিত। একইসাথে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তারা যাতে কোনরূপ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। তা না হলে সবজি উৎপাদনে চাষীদের আগ্রহ কমে যাবে।
সূত্র - ইনকিলাব ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৩,







0 comments:
Post a Comment