কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে

কৃষিই বাংলাদেশের অথনীতির মুল চালিকা শক্তি । তাই কৃষকদের ন্যায্য মুল্যে সার, ঔষধ ও উন্নতমানের বীজ প্রদান করতে হবে

কৃষিই উ্ন্নতিতেই জাতির প্রকৃত উন্নতি

জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল, তাই কৃষকদের উন্নতিই জাতির প্রকৃত উন্নতি।

কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ফসলের উচিত মূল্য দিতে হবে

বাংলাদেশের অসহায় কৃষক শুধু কলুর বলদের মত খেটেই চলছে, কখনও বন্যা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়, তাও কখনও ন্যর্য মুল্য পায় না।

ফড়িয়া বা দালালদের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে হবে

কৃষকদের বাঁচাতে হলে প্রথমতঃই কৃষকদের থেকে তাদের উৎপাদিত পন্য ন্যার্য মুল্যে সরাসরি ক্রয় করতে হবে, যেন তারা মধ্যভোগীদের দৌরাত্ব থেকে বাঁচতে পারে।

কৃষিই বাংলাদের অথনীতির প্রান ভোমরা

দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে কৃষিই ব্যপক উৎপাদনই সরকারের কোষাগার স্ফৃত করছে, বিনিময়ে কৃষকরা কিছুই পাচ্ছেনা, বরং অবহেলার স্বীকার হচ্ছে।

Monday, August 26, 2013

অধিক ফলনের নিশ্চয়তা বীজের স্বাস্থ্য উন্নয়ন

অধিক ফলনের নিশ্চয়তা বীজের স্বাস্থ্য উন্নয়নবীজ কৃষির প্রথম এবং প্রধান ভিত্তি। ফসল উৎপাদনের অন্য সব কৃষি উপকরণের কমতি, ঘাটতি বা অনুপস্থিতিতেও ভিন্নমাত্রায় ফলন আসে। কিন্তু বীজ ছাড়া কোনো ফলনই আশা করা যায় না। ফসল উৎপাদনে বীজ যত ভালো হবে উৎপাদনও তত বৃদ্ধি পাবে।বীজ কৃষির প্রথম এবং প্রধান ভিত্তি। ফসল উৎপাদনের অন্য সব কৃষি উপকরণের কমতি, ঘাটতি বা অনুপস্থিতিতেও ভিন্নমাত্রায় ফলন আসে। কিন্তু বীজ ছাড়া কোনো ফলনই আশা করা যায় না। ফসল উৎপাদনে বীজ যত ভালো হবে উৎপাদনও তত বৃদ্ধি পাবে।
বীজের নানাবিধ সংজ্ঞা আছে। সহজ সরল ভাষায় বলা যায়, উদ্ভিদের বা ফসলের যে অংশ চারা/গাছ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তা-ই বীজ। ক্ষেত্রবিশেষে পরিপক্ব আসল বীজ, কা-ের অংশ, মূলের অংশ, পাতার অংশ অন্য কোনো উপযোগী অংশ। বীজের মন, স্বাস্থ্য যদি যথাযথ না হয় তাহলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ভেস্তে যাবে। তাই শুরুতে জানতে হয় ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য কেমন_
ষ ভালো বীজ পুষ্ট
ষ কাঙ্ক্ষিত আকারের, সম আকারের দানা
ষ উজ্জ্বল রঙ
ষ চিটামুক্ত, বিশুদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন
ষ পোকামাকড় ও রোগমুক্ত
ষ শতকরা ৮০ ভাগ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাসম্পন্ন
ষ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদার্থমুক্ত
ষ অন্য বীজের মিশ্রণমুক্ত।
এ তো গেল ভালো বীজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় ভালো বীজ ব্যবহার করব কেন বা ভালো বীজ ব্যবহার করলে কী লাভ হয়? এর জবাবে বলা যায়_
ষ বেশি ফলন পাওয়া যায়
ষ বেশি লাভ আসে
ষ উৎপাদন খরচ কমে
ষ বীজ কম লাগে
ষ বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়
ষ ভালো বীজ ব্যয়সাপেক্ষে নয় বরং আয়ের উৎস।
বীজের উৎস : গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিএডিসির ডিলার/বিশুদ্ধ কোম্পানি/ডিলার/নিকটাত্মীয়/বিশ্বস্ত বীজ উৎপাদনকারী থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের দেশের কৃষক প্রচলিত ধারায় ফসল উৎপাদন করে এবং এই সঙ্গে উৎপাদিত ফসলের একটি অংশ বীজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু বিশেষ যত্ন ও পরিচর্যা সুনিশ্চিত করে বীজ উৎপাদন কৌশল সম্পর্কে সাধারণ কৃষক এখনো পূর্ণ সচেতন নয়।
সে জন্য দেশের কৃষি ফলন বীজের স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পেঁৗছাতে পারেনি। সারা দেশে এখনো মানসম্মত বীজের সরবরাহ ৫-১০ শতাংশের বেশি নয়। অথচ আমাদের মানসম্মত বীজ দিয়ে পেঁৗছাতে হবে শতভাগে। শুধু ভালো বীজ ব্যবহারের জন্য ফসলের উৎপাদন কমপক্ষে ১০ ভাগ বাড়ে। বীজের স্বাস্থ্য সমুন্নত রেখে অধিক উৎপাদনের জন্য আমাদের যেসব কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ যত্ন দেয়া প্রয়োজন তা হলো_
বীজ বাছাই : বীজ উৎপাদনে বীজ বাছাই আবশ্যকীয় কাজ। বিভিন্ন পদ্ধতিতে বীজ বাছাই করা যায় যেমন_
ক. কুলা দিয়ে : কুলা দিয়ে ঝেড়ে বা বাতাসে উড়িয়ে চিটা, অর্ধপুষ্ট, পুষ্ট বীজ আলাদা করা যায়।
খ. হাতবাছাই : হাত দিয়ে ভালো, খারাপ, দাগযুক্ত, ভাঙা, বিবর্ণ, ছোট দানা, ইট-পাথরের কণা এসব একবারে বাছাই করা হয়। পরে শুধু ভলো বীজ কাজে লাগানো হয়।
গ. পানি দিয়ে বাছাই : বালতি বা অন্য কোনো পাত্রে ৪০ লিটার পানির সঙ্গে দেড় কেজি ইউরিয়া মিশিয়ে এর মধ্যে বীজ ছেড়ে দিতে হয়। ভারী, স্বাস্থ্যবান, পুষ্ট বীজগুলো পানির নিচে জমা হবে। আর অপুষ্ট, হালকা, রোগাক্রান্ত, ভাঙা বীজ পানির ওপর ভেসে থাকবে। ভাসমান বীজগুলো ওপর থেকে আলাদা করে নিতে হবে। ইউরিয়ার পরিবর্তে লবণও ব্যবহার করা যায়। এরপর দ্রবণের নিচে জমা বীজগুলো তুলে নিয়ে পরিষ্কার পানিতে তিন-চার বার ধুয়ে ছায়ায় শুকিয়ে বীজতলায় বপন করতে হবে।
বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা : যে কোনো সময় বীজতলায় বীজ বপনের আগে অবশ্যই বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করে নিতে হবে। কমপক্ষে শতকরা ৮০ ভাগ গজানো বীজ বপনের উপযুক্ত বলে ধরে নিতে হবে। ভেজা কাপড়, বালিভর্তি মাটির পাত্র, নিউজ পেপার, কলার পাতা, খোল এসব দিয়ে বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করা যায়। প্রতি ক্ষেত্রেই ১০০টি বীজ নিয়ে ভলোভাবে বিছাতে হবে। প্রতিদিন হালকা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ভালোভাবে অঙ্কুরিত হলে গণনা করতে হবে। ভালোমানের বীজ নিশ্চিত হওয়ার পরই বীজতলায় বপনের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
বীজতলা : আমাদের দেশে সময়, স্থান, অবস্থাভেদে বিভিন্ন ধরনের বীজতলা করা হয়। এর মধ্যে শুষ্ক, ভেজা, কাদাময় বীজতলা বেশি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া শুকনা, দাপোগ, ভাসমান বীজতলা প্রয়োজনবোধে করা যায়।
বীজতলার জন্য দো-অাঁশ বা বেলে দো-অাঁশ মাটি বেশি ভালো। বীজতলার মাটিতে প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে দু-তিনটি চাষ মই দিয়ে অন্তত ৭-১০ দিন পর্যন্ত জমিতে পানি আটকিয়ে রাখতে হবে। এরপর ভালোভাবে চাষ মই দিয়ে চূড়ান্তভাবে বীজতলা তৈরি করতে হবে।
আগেই অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করা বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে আউশ/আমনের জন্য দুই দিন এবং বোরোর জন্য তিন দিন জাগ দিয়ে মুখ ফাটলে বীজতলায় বীজ ফেলতে হবে। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে ২ হাজার করে জায়গার জন্য ৮০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। বীজতলার একক জমির চারা দিয়ে ২০-২৫ গুণ মূল জমিতে রোপণ করা যায়। বীজতলায় সব সময় পানি রাখা, শীতকালে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া, চারা হলুদ হয়ে গেলে ২ হাত দৈর্ঘ্য, ২ হাত প্রস্থ জায়গার জন্য ৭ গ্রাম হারে ইউরিয়া প্রয়োগসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাজ যথাযথভাবে করতে হবে।
চারা উঠানো : চারা উঠানোর আগে বেশি করে পানি দিতে হবে যাতে মাটি নরম হয়ে যায় এবং চারা তুলতে সহজ হয়। যত্নসহকারে চারা তুলতে হবে যাতে চারা বা চারার শেকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চারা তোলার পর পরই লাগানো ভালো। যদি লাগাতে দেরি হয় তাহলে ছায়ায়, আলোবাতাসযুক্ত স্থানে রেখে দিতে হবে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মূল জমিতে লাগাতে হবে।
চারা রোপণ : চারা লাগানোর আগে জমিকে ৫-৬টি আড়াআড়ি চাষ দিয়ে ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। মৌসুমওয়ারি চারার বয়স ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে আউশ মৌসুমে ২০-৩০, আমন মৌসুমে ৩০-৩৫ এবং বোরো মৌসুমের জন্য চারার বয়স ৪০-৪৫ দিন হলে বেশি ভালো। চারা অবশ্যই লাইনে রোপণ করতে হবে। লাইন থেকে লাইন ২০-২৫ সেন্টিমিটার এবং গুছি থেকে গুছির দূরত্ব ১০-১৫ সেন্টিমিটার বজায় রাখতে হবে। প্রতি গুছিতে ২-৩টি চারা রোপণ করতে হবে। রোপণের সময় গভীর করে রোপণ করলে কুশির সংখ্যা কম হলেও ফলনশীল কুশির সংখ্যা বাড়ে। তবে রোপণের দূরত্ব জমির উর্বরতা, জাত, মৌসুম ও রোপণ সময় অনুসারে ভিন্ন হয়।
মৌসুম, জাত জমির উর্বরতার জন্য অঞ্চলভেদে সারের মাত্রা ভিন্ন হয়। তবে গড়ে প্রতি বিঘার জন্য আমন ধানে ইউরিয়া, এমপি, জিমসাম ও দস্তার অনুপাত হবে ২০:২৫:১৫:১০:০৮:১.৫ কেজি আর বোরোর জন্য একই পরিমাণ জমিতে সারের মাত্রা হবে ২৫:৩০:১৭:১৫:০৮:১.৫ কেজি। ইউরিয়া তিন কিস্তিতে উপরি প্রয়াগ হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছা দমন : আগাছ শুধু খাদ্যেই ভাগ বসায় না, আলো, বাতাস ও বৃদ্ধিতেও ভাগ বসায়। বিশেষ করে অপকারী বা ক্ষতিকারক পোকা রোগের পোষক হিসেবে কাজ করে। আউশ-আমন মৌসুমে রোপণের পর ৩০-৪০ দিন আর বোরো মৌসুমে ৪০-৫০ দিন জমি যে কোনোভাবেই আগাছামুক্ত রাখতে হবে।
সেচ ব্যবস্থাপনা : রোপণের সময় থেকে কাইচ থোড় আসা পর্যন্ত জমিতে ছিপছিপে পানি রাখতে হবে। কাইচ থোড় আসার পর পানির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে হবে। সারের ওপর প্রয়োগের সময় পানি কমিয়ে দিতে হবে, আবার প্রয়োগের দু-তিন দিন পর পানি দিলে সারের কার্যকারিতা বাড়ে। ধান শক্ত হওয়া শুরু হলে জমি থেকে পানি সরিয়ে নিতে হবে।
বালাই ব্যবস্থাপনা : পরিকল্পিতভাবে ধানের আবাদ করলে বালাইয়ের আক্রমণ কম হয়। তবে পুরো জীবনকার সময়ে পোকা বা রোগের আক্রমণ দেখা দিলে শুরুতেই বালাইনাশক প্রয়োগ না করে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
বিজাত বাছাই (রগিং) : কোনো কাঙ্ক্ষিত ফসলের জমিতে নির্দিষ্ট জাত ছাড়া অন্য যে কোনো জাতের উপস্থিতি থাকলে জাতের বিশুদ্ধ, মান সবই নষ্ট হয়। সে জন্য বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বিজাত বাছাই আবশ্যকীয় কার্যক্রম। বিজাত বাছাইকালে কাঙ্ক্ষিত জাত ছাড়া অন্য সব জাত, রোগাক্রান্ত জাত, রোগাক্রান্ত শীষ এবং আগাছা বাছাই করতে হয়। বীজ উৎপাদন কৌশলে অন্তত তিনবার বিছাত বাছাই করতে হয়। প্রথমবার রোপণের ৪০ দিন পর সর্বোচ্চ কুশি অবস্থায়, দ্বিতীয়বার শীর্ষ বের হওয়ার আগ থেকে ৭-১০ দিন পর এবং তৃতীয়বার ফলস কাটার ৭-১০ দিন আগে করতে হয়।
ফসল কাটা, মাড়াই ও শুকানো : জমিতে ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ ধানের চাল শক্ত এবং স্বচ্ছ হলে ধান কাটতে হয়। বেশি পাকলে ধান ঝরে যায়। বীজ ধান কাটার পর মাঠে ফেলে না রেখে যথাসম্ভব ভালো ফ্লোরে মাড়াই, ঝাড়াই করে শুকিয়ে নিতে হবে। মাড়াই, ঝাড়াইয়ের সময় খেয়াল রাখতে হবে বীজের গায়ে যেন কোনো আঘাত না লাগে। বীজ রোদে তিন-চার বার শুকিয়ে আর্দ্রতা ১২ ভাগ পর্যন্ত আনতে হবে। দাঁত দিয়ে বীজ কাটলে কটকট শব্দ হলে বুঝতে হবে বীজ ভালোভাবে শুকিয়েছে।
সংরক্ষণ : বীজ শুকানোর পর ঠা-া করে সংরক্ষণ করতে হবে। প্লাস্টিক ড্রাম, টিনের বা মাটির পাত্রে (আলকাতরা বা রঙ দিয়ে প্রলেপ দেয়া) বীজ রেখে ভালোভাবে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় পাত্রের তলায় এক স্তর শুকনো পরিষ্কার ঠা-া বালু, মাঝে এক খ- চুন এবং বীজের ওপর বা বীজপাত্রের মুখে শুকনো নিম বা নিশিন্দা বা বিষকাটালীর পাতা গুঁড়া করে রেখে দেয়া পাত্রটি সম্পূর্ণ বীজ দিয়ে পূরণ করা না গেলে খালি অংশ শুকনো তুষ বা ছাই বা কাঠের গুঁড়া, চকপাউডার দিয়ে ভর্তি করিয়ে নিতে হবে। সংরক্ষণ করা বীজ মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করে নিয়ে প্রয়োজনে শুকিয়ে নিতে হবে। বীজপাত্রটি মাচার ওপর রেখে দিতে হবে।
মোটামুটিভাবে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আমরা সবাই ইচ্ছা করলে মানসম্মত বীজ উৎপাদন করতে পারি এবং বীজের স্বাস্থ্য সঠিক রেখে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে পারি। তবে বীজ উৎপাদন কৌশলে স্থানীয় বস্নক সুপারভাইজারের পরামর্শ গ্রহণ করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়।
সূত্র - দৈনিক যায় যায় দিন, প্রখ্যাত উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদ ড. এম এ তাহের মিয়া 

চাঁদপুর মাছঘাট পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সরগরম

চাঁদপুর মাছঘাট পদ্মার ইলিশ রফতানিতে সরগরম


চাঁদপুরে মাছঘাটে পদ্মার ইলিশের ইস্তূপ : নয়া দিগন্ত
গত দুই সপ্তাহে দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশ আড়ত চাঁদপুর মাছঘাটে পদ্মার ইলিশ আমদানি হওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে। বরিশাল, ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলেরা ট্রলারে শত শত মণ ইলিশ নিয়ে আসছেন। এতে চাঁদপুরের মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের ইলিশ রফতানি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দেখা যায়। এখন রাতদিন শত শত শ্রমিক ইলিশ ওজন দিয়ে বাক্সভর্তি করে ট্রেন ও ট্রাকে ভর্তি করছেন। মাছঘাট ঘুরে আলাপকালে গত শনিবার জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগে থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ইলিশ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথমে ইলিশের দাম বেশি থাকলেও এখন অনেকটা সহনশীলপর্যায়ে এসেছে। আমদানি হওয়ায় ইলিশ চাঁদপুরের স্থানীয় বাজারে বিক্রি না হয়ে শুধু বাক্সভর্তি হয়ে রফতানি হয়। বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী সিরাজ চোকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশের পাইকারি মূল্য নির্ধারণের পর প্যাকেটজাত ও বাক্সভর্তি করে ময়মনসিংহ, জামালপুর, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম সিফুডে পাঠানো হয়। এ মাছঘাটে প্রায় ৩৯টি মাছের আড়ত রয়েছে। এখন প্রতিদিন কমপক্ষে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তবে বিক্রি আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৎস্য শ্রমিক জানান, চাঁদপুর থেকে রফতানি ইলিশ বেশি অংশই সিলেটসহ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে চলে যায়। ভারতে মাছ পাচার হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে শান্তি ফিসের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার গাজী জানান, আগে এলসি খোলা থাকলেও এখন সম্পূর্ণভাবে সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ভারতে মাছ পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে কারা ভারতে মাছ পাঠাচ্ছে, তা আমাদের সঠিক জানা নেই। মৎস্য ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, পদ্মার আমদানি ইলিশের মধ্যে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি সাড়ে ৫০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের সাড়ে ৬০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ৮০০ টাকা, ১ কেজির ওপরে ওজনের ইলিশ ১২০০-১৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে চাঁদপুরের শত শত জেলে রাতদিন মেঘনায় চষে বেড়ালেও আহরণ করতে পারেননি কাক্সিত ইলিশ। অল্প ইলিশ পেলেও খরচ বাদে তাদের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। সরেজমিন সদর উপজেলার হানারচর হরিণা ফেরিঘাট, রামদাসদি, বহরিয়া, বড় স্টেশন ও আনন্দ বাজার এলাকা ঘুরে জেলেদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ফেরিঘাট এলাকার জেলে মনছুর ছৈয়াল, নুরু ছৈয়াল, হারুন শেখ, নেছু দর্জি একই নৌকায় মাছ ধরেন। মনছুর ছৈয়াল জানান, প্রতিদিন দেশীয় সুতার জালে তারা চার-পাঁচবার নদীতে জাল ফেলেন। শনিবারও তিনবার জাল ফেলে ৫০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি মাছ পেয়েছেন। এতে তাদের খরচের টাকাও উঠবে না। ফেরিঘাট এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী মেম্বর আহছান সৈয়াল জানান, ঈদের আগে থেকে ইলিশ কিছুটা জালে আটকা পড়তে শুরু করেছে। তবে কাক্সিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। যা-ও পাচ্ছেন এর মধ্যে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশই বেশি। আরেক মৎস্য ব্যবসায়ী সেরাজল শেখ জানান, গত বছর ভরা মওসুমে বড় বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া গেছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় ও জাটকা নিধনে মেঘনায় কাক্সিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। চাঁদপুরের জেলেদের সংগঠন কান্ট্রিবোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক জানান, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর, মতলব দণি, সদর ও হাইমচর উপজেলায় সরকারি হিসাবে জেলে রয়েছেন ২২ হাজার ৯ জন। আর বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। তাদের সরকার মার্চ-এপ্রিল অভয়াশ্রমকালে যে সহায়তা দেয় তাতে তাদের চাহিদার একাংশও পূরণ হয় না। সরকারি সহায়তা বিতরণের বেশির ভাগ প্রকৃত জেলেরাই বাদ পড়ে যান। এ কারণে জাটকা নিধন বন্ধ সম্ভব হয় না। ফলে এখন ভরা মওসুমে মেঘনায় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন দত্ত জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর আমরা জাটকা নিধনে অধিকতর অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তারা সরকারি সহায়তা নিয়ে বেশি করে জাটকা নিধন করেছেন। এ কারণে ইলিশের ভর মওসুমে আকাল দেখা দিয়েছে। তবে নদীতে পানি বাড়লে কাক্সিত ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য কর্মকর্তা ড. আক্সিুর রহমান জানান, হতাশার কিছু নেই। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলেই নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়বে।
সূত্র - দৈনিক নয়াদিগন্ত।

Thursday, August 22, 2013

মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ


ভোলা জেলার চরফ্যাশন-মনপুরার জলসীমানা মেঘনায় জেলেদের জালে অসময়ে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। খুশি জেলে ও আড়তদাররা। জেলেদের বসে থাকার বিন্দুমাত্র সময় নেই। সবাই ছুটছেন মাছ শিকারের জন্য নদী ও সাগরে। তবে পাইকারি বাজারে মাছের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও খুচরা বাজারে অগ্নিমূল্য। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা খুশি থাকলেও ক্রেতারা হতাশ। তবে আড়তদাররা দাবি করছেন, এলসি বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজারে মাছের দাম কিছুটা কম।
মৎস্যজীবীরা জানান, বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ৬ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। প্রাকৃতিক নিয়মে ওই সময় ভোলাসংলগ্ন তেঁতুলিয়া, মেঘনাসহ বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরার কথা থাকলেও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে মাছ ধরা পড়ছে। কয়েকদিন থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাছের আনাগোনা অনেক বেশি।
ঢালচর জেলে সমিতির সভাপতি সালাম হাওলাদার জানান, ভরা মৌসুমের দু’মাস পর সাগরে মাছ ধরা পড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা অনেক খুশি। তবে গত মৌসুমের চেয়ে এবার অনেক কম মাছ ধরা পড়ছে। মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে মাছ ধরা না পড়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক আড়তদারকে। এখন অনেকেই সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তাদের আগামী মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারেও বলেও মনে করছেন। আড়তদাররা জানান, প্রতি মৌসুমেই ভোলা থেকে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ বরিশাল, ঢাকা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জের বড় বড় পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়। সেখান থেকেই কাক্সিক্ষত মূল্য পেয়ে আসছিলেন তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু কম।
ভোলার চরফ্যাশনের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঢালচরের মৎস্য আড়তদার কালাম পাটোয়ারি জানান, এখন বরিশালের পাইকারি বাজারে এক পোন (৮০ পিস) ইলিশ ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এর দাম ছিল ৩২ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত। চাঁদপুর ও ঢাকায় মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। গত মৌসুমে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। নারায়ণগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি পোন বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ৩০ হাজার টাকা। গত মৌসুমে এর দাম ছিল ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি। তিনি বলেন, এখন ঝাঁকে ঝাঁকে নদী ও সাগরে মাছ ধরা পড়ছে। তাই আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আড়তদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে বেশি মূল্যে মাছ কিনে মোকামে তা বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে লাভ একটু কম হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে মাছের দাম কম অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ শিকারে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন জেলেরা। লোকসান গুনতে হচ্ছে আড়তদারকেও। এলসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের ব্যবসায় অনেকটা মন্দা ভাব চলছে বলে জানান তিনি। পুবের চর, কিল্লার ঘাট, আনন্দ বাজারের মৎস্য আড়তদার জাহাঙ্গীর তালুকদার, কাজী সালাউদ্দিন, শাহে আলমসহ অন্যরা জানান, গত বছর এসব ঘাট থেকে দৈনিক ৪০ লাখ টাকার মাছ ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় যেত। এ বছরও তা ছুঁই ছুঁই করছে। কিন্তু দাম কম হলেও খরচ বেড়েছে বহুগুণ।
মৎস্য আড়তদার সহিদ জানান, ১০/১৫ দিন ধরে মেঘনায় মাছ পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলেদের জালে আরও বেশি মাছ আটকা পড়ছে যার প্রতিটির ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ কেজি ওজনের ইলিশও ধরা পড়ছে। মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মাঝে খুশির বন্যা বইলেও মাছের দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ অনেকে। তিনি বলেন, জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা চরম শংকার মধ্যে রয়েছেন।
তজুমদ্দিন সইস ঘাটের মৎস্য আড়াতদার রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় তেমন একটা মাছ ধরা পড়ছে না। মৌসুমের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে মাছ পড়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর এ মৎস্য ঘাট থেকে প্রতিদিন অর্ধ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ লাখ টাকার মাছ। এদিকে, বোরহানউদ্দিনের মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বড় সাইজের মাছ ধরা পড়ায় দামও বেশি। তবে এখানকার আড়তদাররা অনেকটা লাভের মধ্যে রয়েছেন বলে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান। হাকিমুদ্দিন মৎস্য ঘাটের আড়তদার উজ্জ্বল হাওলাদার জানান, মাছ ধরা পড়ছে, আবার বৃদ্ধি পেয়েছে জলদস্যুদের উপদ্রব। জেলেদের জালে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। পাইকারি বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫/৪০ হাজার টাকায়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তাই কয়েকদিন থেকে নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে ইলিশ সাগর থেকে নদী মোহনায় চলে আসেছ। প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে ইলিশ শিকারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। 
Daily Jugantor, শিপু ফরাজী, চরফ্যাশন,প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০১৩

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে সাফল্য : বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠকছে ভোক্তারা

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে সাফল্য : বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে ঠকছে ভোক্তারা    
মিজানুর রহমান তোতা : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি উৎপাদনে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছেন চাষীরা। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও অঞ্চলটি দেশের মধ্যে মডেল। যশোর-ঝিনাইদহ ও যশোর-মাগুরার হাইওয়ে সড়ক ধরে এগুলো দু’দিকে যতদুর চোখ যায় দেখা যাবে মাঠে মাঠে সবজির বড় বড় ক্ষেত। দিনরাত সমানতালে পরিশ্রম করে চাষীরা। কিন্তু বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তা উভয়েই ঠকছে প্রতিনিয়ত। সবজি উৎপাদনে  যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরাসহ দক্ষিণের এই অঞ্চলটি রীতিমতো রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বলে তথ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়। রেকর্ডের সুফল ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। সবজি চাষীসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সবজির বাজারে ঢুকে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তাদের চোখে ধুলো দিয়ে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। কিন্তু তাদের চিহ্নিত করে কখনোই ব্যবস্থা নেয়া হয় না বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিজ্ঞতার আলোকে বারীনগরের সবজি চাষী জয়নাল আবেদীন, পুলেরহাটের আবজাল হোসেন ও আমবটতলার আব্দুল কুদ্দুস জানালেন, যশোর শহরের বড় বাজার থেকে তাদের এলাকার দূরত্ব মাত্র ১০/১২ কিলোমিটার। মাঠের দাম আর বাজারের দামের বিরাট ফারাক রয়েই গেছে। প্রায় দ্বিগুণ লাভ করছে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকারী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। সব সবজির ক্ষেত্রেই একই নিয়ম চলছে। বর্তমানে বিষমুক্ত সবজির সাথে কীটনাশক ব্যবহার করা সবজি মিশিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে যশোর ও মাগুরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিষমুক্ত সবজি মাঠ থেকে ক্রয় করে নিয়ে পাইকারী ব্যবসায়ীরা ভেজাল দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে বিক্রি করছে। 
জানা যায়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অধিদপ্তরের বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সরাসরি চাষীদের প্রশিক্ষণ দেন। চাষীরা প্রশিক্ষণ বাস্তবে কাজে লাগিয়ে কীটনাশকের বদলে সবজির পোকা-মাকড় দমন করা শুরু করে ‘ফেরোমন ট্রাপ’সহ আইপিএমএর বিভিন্ন পদ্ধতিতে। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের উদ্যোক্তা হচ্ছেন কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেন। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের আবাদ এলাকা বহুগুণে বেড়েছে। যশোরের গাইদঘাট মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়। বিরাট সফলতা আসে। এবারও করলাসহ বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়েছে। পোকা-মাকড় দমন ও অধিক ফলনে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হত চাষীদের। বেশিরভাগ সবজির ক্ষেত্রে এখন কীটনাশক ও সার ব্যবহার করতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র বেগুনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটছে। বেগুনের পোকা-মাকড় দমনে ওই প্রযুক্তি কাজে আসছে না। 
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারাদেশে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের ফর্মুলা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যাতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার আমদানি বহুলাংশে কমে যাচ্ছে। সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। তাছাড়া প্রতিবছর মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার কারণে ফসলাদি এবং জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হত। তার থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল অঞ্চলটিতে, বর্তমানে সেই গতি নেই। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার গাইদঘাট গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হলেও এখন বারীনগর, চুড়ামনকাঠি, আমবটতলা, বন্দবিলা, দুর্গাপুর, চ-িপুর, রাঘবপুর, মীর্জাপুর, মথুরাপুর, তেলিধান্যপোতা, সাদিপুর, নোঙ্গরপুর, পান্তাপাড়া ও হাশিমপুরসহ যশোরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে ব্যাপকভাবে বিষমুক্ত সবজি আবাদ ও উৎপাদন শুরু হয়। নানা কারণে তা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। কৃষক পর্যায়ে কৃষি অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রথমদিকে যতটা আন্তরিক ছিল, তার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক তোড়জোড় কমে গেছে বলে চাষীরা অভিযোগ করেছেন। অথচ পদ্ধতিটি অত্যন্ত ভালো। কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষমুক্ত সবজির উৎপাদনের পদ্ধতি হচ্ছে পোকা-মাকড় মারার গন্ধ ফাদ। যা প¬øাস্টিকের কৌটা দিয়ে তৈরি। কৌটার দুইপাশে ছিদ্র করে তাতে এক ধরনের কেমিক্যাল বা নিমপাতা দেয়া হয়। গন্ধ ফাদে ‘ট্রাইকোগ্রামা ও ক্রাইসোপা’সহ উপকারী পোকা অবমুক্ত হয়। আর ক্ষতিকর পোকা-মাকড় মারা যায়। চিকিৎসকদের মতে, বিষযুক্ত সবজি ব্যবহার করায় মানবদেহে বিষ ঢোকার আশঙ্কা থাকে। বিষমুক্ত সবজি ব্যবহারে সেই আশঙ্কা থাকে। ফলে, পদ্ধতিটি আরো জোরদারভাবে ব্যবহার করা উচিত। একইসাথে উৎপাদক চাষী ও ভোক্তারা যাতে কোনরূপ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি। তা না হলে সবজি উৎপাদনে চাষীদের আগ্রহ কমে যাবে।
 সূত্র - ইনকিলাব  ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৩,

আশা জাগানিয়া স্ট্রবেরি


আশা জাগানিয়া স্ট্রবেরি
বাগমারার সফল চাষি পুলক: খরচ ৮ লাখ টাকা, আয় হবে ২০ লাখ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের শংকরপৈ গ্রামের বিমল সরকারের ছেলে পুলক সরকার (৪০) স্ট্রবেরি চাষ করে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করলেন। স্ট্রবেরি খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হওয়ার কারণে বর্তমানে আমাদের দেশে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা। সম্প্রতি পুলকের স্ট্রবেরি ক্ষেতে গিয়ে তার সাফল্যের কথা জানতে চাইলে পুলক জানান, রাজশাহীর বাঘা চারঘাটে আমার কয়েকজন বন্ধু আছে তারা এই স্ট্রবেরি চাষ করে। স্ট্রবেরি চাষ করে তারা অনেক লাভবান হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গত বছর চৈত্র মাসে ৫০ টাকা মূল্যে ৩১০ টি মা চারা রোপণ করি। এতে আমার ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেই চারা থেকে আমি নতুন ভাবে চারা উত্পাদন করি এবং ৬০ হাজার টাকার চারা বিক্রয় করি। এ বছর আমি আমার জমির পাশাপাশি অন্যের জমি লিজ নিয়ে মোট সোয়া ৫ বিঘা জমিতে ২৪ হাজার স্ট্রবেরির চারা লাগিয়েছি। 

তিনি জানান, সোয়া ৫ বিঘাতে স্ট্রবেরি চাষ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে আমার বড় ভাই অলক কুমার সরকার (৪৫) স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেছে। তিনি ৪০ শতক জমিতে ৬ হাজার স্ট্রবেরি চারা বানিয়েছেন। পুলক আরো জানায়, তিনি চলতি বছরে ১৬ হাজার চারা বিক্রয় করেছে। গত ২ সপ্তাহ হতে ক্ষেত থেকে স্ট্রবেরি তোলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ১১৪ কেজি স্ট্রবেরি ফল উঠেছে এবং বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ কেজি স্ট্রবেরি ফল উঠছে- যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে দুই সপ্তাহে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার স্ট্রবেরি ফল বিক্রয় হয়েছে। তার মতে, এভাবে স্ট্রবেরি ফল উঠানো শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মত খরচ হতে পারে আর এই স্ট্রবেরি বিক্রয় করে ২০ লক্ষাধিক টাকার বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ২শত টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে স্ট্রবেরি। প্রচুর স্ট্রবেরি উঠলেও এ অঞ্চলে এর কোন পাইকারি বাজার বা পাইকার না থাকায় তাকে প্রতিদিন ঢাকা শহরে স্ট্রবেরি সরবরাহ করতে হয়। পুলক জানান, এভাবে তার ক্ষেত থেকে আরও দুই মাস স্ট্রবেরি উত্তোলন করা যাবে। এছাড়াও প্রতিদিন চলছে স্ট্রবেরির চারা বিক্রয়।
 

পুলকের স্ট্রবেরি ক্ষেতে এখন কাজ করছে অনেক বেকার যুবক। তারাও পুলকের কাছ থেকে উত্সাহ পাচ্ছে। পুলকের মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুকূল থাকায় স্ট্রবেরি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বেশি বেশি স্ট্রবেরি চাষ করে তা বিদেশে রপ্তানি করে আমরা অর্জন করতে পারি অনেক বৈদেশিক মুদ্রা। যা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে এবং বেকার সমস্যা নিরসনে এটি হতে পারে একটি মডেল প্রকল্প।



মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা  , daily Ittefak

রাজশাহীতে কুয়াশাচিন্তিত আম চাষিরা


রাজশাহীতে কুয়াশাচিন্তিত আম চাষিরা

ফাল্গুনের শেষের তিনদিন এবং গতকাল শুক্রবার চৈত্রের প্রথমদিন রাজশাহীতে অসময়ে ঘন কুয়াশার দেখা মিলেছে। শেষ রাত থেকে বেলা ৯টা পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকছে কুয়াশা। আবহাওয়া অফিসের সংশ্লিষ্টরা অবশ্য এটিকে কুয়াশা বলছেন না। উত্তর বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়-বাষ্পের প্রভাবে ধোঁয়ার মত পরিস্থিতির সৃষ্টিকে আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় 'হেজ' বলা হয়। এই পরিস্থিতি আরো কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে বৃষ্টি হলেই 'হেজ' কেটে যাবে। 

এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বৃহত্তর রাজশাহীর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর) আম চাষিরা। এবার রাজশাহীর প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

আম উত্পাদনের বাত্সরিক হিসাব অনুযায়ী এবার 'অন ইয়ার (বেশি উত্পাদনের বছর)'। ফলে নতুন-পুরাতন বেশিরভাগ আম গাছে মুকুল এসেছে। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকূল হলে গাছের মুকুল থাকবে না? প্রসঙ্গত, গত বছর প্রতিকূল আবহাওয়ায় (অনাবৃষ্টি ও অত্যধিক খরা) অধিকাংশ গাছের মুকুল ঝরে পড়ে। এরপরও যা অবশিষ্ট ছিল তার বেশিরভাগ নষ্ট হয় 'হপার পোকা'র আক্রমণে। এরপর আসে 'ডোরাকাটা (ফলছিদ্রকারী) পোকা'র আক্রমণ। এসব নানা পরজীবীর পর্যায়ক্রমিক আক্রমণ ঠেকাতে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন কীট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারে গলদঘর্ম হন। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ থেকে ভোরে কুয়াশার আদলে 'হেজ' দেখা যাচ্ছে। এটা সকাল ৯টা পর্যন্ত বলবত্ থাকছে। গতকাল শুক্রবারও রাজশাহী ছিল পাতলা কুয়াশার আদলে হেজ-এ ঢাকা। এটা কেটে গেলে শুরু হয় মেঘের আনাগোনা। অবশ্য দুপুর নাগাদ আকাশ পরিষ্কার হয়ে কড়া সূর্যতাপ পরিলক্ষিত হয়। আবহাওয়ার এই প্রতিকূলতায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বৃহত্তর রাজশাহীর আম চাষিরা। সহসাই বৃষ্টিপাত না হলে আমের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
 

এদিকে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দে র ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, অসময়ে কুয়াশার আদলের জলীয় বাষ্প স্থায়ী হলে আমে 'পাউডারে মিলডিউ' দেখা দিতে পারে। এটা আমের জন্য ক্ষতিকর। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ফল গবেষণা ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আম গাছে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক সেপ্র করতে হবে


আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস, daily Itttefak

কাঁঠালের ঝরে পড়া প্রতিরোধে করণীয়


কাঁঠালের ঝরে পড়া প্রতিরোধে করণীয়

পৃথিবীর ফলগুলোর মধ্যে কাঁঠাল আকারে বৃহত্তম এবং বাংলাদেশে এটি জাতীয় ফল। কাঁঠালের মতো এত বেশি পুষ্টি উপাদান অন্য কোনো ফলে পাওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, এটি এমন একটি ফল, যার কোনো অংশই ফেলে দিতে হয় না (কোষ ও বীজ মানুষের খাদ্য ও বাকি অংশ পশুখাদ্য)। বাংলাদেশে উৎপাদনের দিক থেকে কলার পরেই কাঁঠালের স্থান।  এ দেশে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁঠাল উৎপাদন হয়, যার পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টন। এ ফল দামে অন্য ফলের তুলনায় কম হওয়ায় গরিব মানুষ সহজে খেতে পারেন। তাই কাঁঠালকে গরিবের ফলও বলা হয়। এ ফল কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। সাধারণত বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে (পাকার আগ পর্যন্ত) কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে খাওয়া যায়।
ফল না ধরা এবং ঝরে পড়ার কারণ
১. গাছের শারীরিক অবস্থা দুর্বল হলে; ২. মানুষের চলাফেরা এবং গাছের গোড়ায় গরু-মহিষ বাঁধার ফলে গাছের গোড়ার মাটি শক্ত হয়ে গেলে; ৩. কাঁঠালগাছে অনেক সময় অত্যধিক তেজ বা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলে সে ক্ষেত্রে ফুল ও ফল ধরবে না; ৪. ছোট গাছে ফুল ধরার প্রথমপর্যায়ে কাঁঠালগাছে সাধারণত পুরুষ ফুল উৎপাদন করে থাকে, এ জন্য প্রথম এক-দুই বছর ফল হয় না বা হলেও সামান্য; ৫. পুরুষ ও স্ত্রী ফুলের বয়সের পার্থক্য বেশি হলে ফল ঝরে পড়ে; ৬. অতিরিক্ত খরা হলে; ৭. অপুষ্টির কারণে ফল ঝরে পড়ে; ৮. মাটিতে কোনো সমস্যা থাকলে (যেমনÑ লবণাক্ততা, বেশি এসিড বা ক্ষার প্রভৃতি); ৯. রোগ দ্বারা আক্রান্ত হলে; ১০. পোকা-মাকড় দ্বারা আক্রান্ত হলে ফল ঝরে পড়ে।
প্রতি বছর সঠিক পরিচর্যার অভাব এবং রোগ ও পোকার কারণে অনেক ফলন কমে যায়। তাই সঠিক পরিচর্যা এবং রোগ ও পোকা-মাকড় দমন করে বাংলাদেশের জাতীয় ফলের ফলন বৃদ্ধির জন্য পরামর্শ দেয়া হলোÑ
সঠিক পরিচর্যা : ১. সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। একটি ১০-১৫ বছরের গাছে গোবর ৬০-৮০ কেজি, ইউরিয়া ১-১.২০ কেজি, টিএসপি ০.৮০-১.০ কেজি, এম পি এক কেজি। সার তিন ভাগে ভাগ করে (গাছের বয়স ৫-১০ বছর হলে এর অর্ধেক এবং ১৬ বছরের বেশি হলে দেড় গুণ সার প্রয়োগ করতে হবে) প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একবার, বর্ষার আগে একবার ও বর্ষার পরে একবার প্রয়োগ করতে হবে; ২. খরা মওসুমে যখন আকাশ দীর্ঘ দিন বৃষ্টিপাতহীন থাকে এবং মাটিতে রসের অভাব হয়, তখন কাঁঠালগাছের গোড়ায় যেকোনো পদ্ধতিতে সেচ দিতে হবে। বিশেষ করে বসন্তকালে যখন কাঁঠালগাছে মুচি ছোট থাকে, তখন সেচ প্রয়োগ না করলে রসের অভাবে  ফল ঝরে যেতে পারে বা আকারে ছোট হয়ে যায়। তাই খরা মওসুমে ১৫-২০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়; ৩. গাছের গোড়ায় গরু-মহিষ বাঁধা যাবে না বা মানুষ চলাচলের পথ রাখা যাবে না; ৪. গাছের গোড়া আগাছামুক্ত রাখতে হবে এবং মাটি কুপিয়ে রাখতে হবে; ৫. অত্যধিক তেজ হলে কিছু ডালপালা কেটে দিতে হবে; ৬. কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে (পুরুষ ফুল ছিঁড়ে সকালে স্ত্রী ফুলে স্পর্শ করতে হবে) ফল ঝরা রোধ করা যেতে পারে।
রোগ দমন
ফল পচা রোগ : কাঁঠালে যেসব রোগ দেখা যায়, তার মধ্যে প্রায় ৮০ ্র্রশতাংশ রোগ হলো ফল পচা রোগ। এ রোগ রাইজোপাস এট্রোকারপি নামক এক প্রকার ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে।
লক্ষণগুলো : ১. রোগের প্যাথোজেন প্রথমে পুষ্পমঞ্জরিতে আক্রমণ করে; ২. অপরিপক্ব ফলে পানি ভেজা দাগ পড়ে; ৩. আক্রান্ত ফল সাদা মাইসেলিয়াম দ্বারা আবৃত হয় এবং পরে ফল কালো বর্ণ ধারণ করে; ৪. আক্রান্ত ফল কুচকে যায় এবং ঝরে পড়ে।
দমনব্যবস্থা : ক. আক্রান্ত পুষ্প, ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে; খ. বাগান পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখতে হবে; গ. ফুল ফোটার সময় ডায়াথিন-এম-৪৫ বা নোয়িন ছত্রাক নাশক ০.৩ শতাংশ হারে ১০-১৫ দিন পরপর দুই-তিনবার ¯েপ্র করতে হবে; ঘ. ফলে এ রোগ দেখা গেলে ০.২ শতাংশ হারে রোভরাল ¯েপ্র করতে হবে।
পোকা দমন
ফলের মাজরা পোকা : এ পোকা কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। এর কারণে ফলন শূন্যে কাছাকাছি আসতে পারে।
লক্ষণগুলো : ১. কুঁড়ি, মুচি, ছোট ফল এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়; ২. এ পোকার কীরা ফল ছিদ্র করে ভেতরে প্রবেশ করে খেয়ে নষ্ট করে; ৩. আক্রান্ত স্থানে পানি ভেজা দাগ দেখা যায় ও পচন শুরু হয়; ৪. আক্রান্ত ফল কালো হয়ে কুঁচকে যায় এবং ঝরে পড়ে।
বিটল ও কাণ্ডের মাজরা পোকা
লক্ষণগুলো : ১. কুঁড়ি, বিটপ, কাণ্ড, মাটির ওপরে মূল প্রভৃতি স্থানে এ পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়। পোকার কীরা এসবের মধ্যে প্রবেশ করে কলা খেয়ে নষ্ট করে ফেলে; ২. এ পোকার অন্যতম লক্ষণ হলো যেখানে ছিদ্র করে সেখানে গর্তের মুখে এদের বিষ্ঠা ঝুলতে থাকে; ৩. গাছের যে অংশে আক্রমণ করে সে অংশ দুর্বল হয়ে যায় বা মরে যায়।
দমনব্যবস্থা : ক. গর্তে শিক ঢুকিয়ে পোকা মারতে হবে; খ. কাদা বা মোম দিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে; ৩. ডায়াজিনন ৫০ ইসি বা ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি ০.২ শতাংশ হারে পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করলে এ রোগ দমন করা সম্ভব। লেখক : পিএইচডি গবেষক, রাবি

কৃষিবিদ এম এ মজিদ, তারিখ: ১৬ মার্চ, ২০১৩  Daily Nayadiganto.