মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ
ভোলা জেলার চরফ্যাশন-মনপুরার জলসীমানা মেঘনায় জেলেদের জালে অসময়ে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। খুশি জেলে ও আড়তদাররা। জেলেদের বসে থাকার বিন্দুমাত্র সময় নেই। সবাই ছুটছেন মাছ শিকারের জন্য নদী ও সাগরে। তবে পাইকারি বাজারে মাছের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও খুচরা বাজারে অগ্নিমূল্য। জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা খুশি থাকলেও ক্রেতারা হতাশ। তবে আড়তদাররা দাবি করছেন, এলসি বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজারে মাছের দাম কিছুটা কম।
মৎস্যজীবীরা জানান, বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ৬ মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। প্রাকৃতিক নিয়মে ওই সময় ভোলাসংলগ্ন তেঁতুলিয়া, মেঘনাসহ বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরার কথা থাকলেও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে মাছ ধরা পড়ছে। কয়েকদিন থেকে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাছের আনাগোনা অনেক বেশি।
ঢালচর জেলে সমিতির সভাপতি সালাম হাওলাদার জানান, ভরা মৌসুমের দু’মাস পর সাগরে মাছ ধরা পড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা অনেক খুশি। তবে গত মৌসুমের চেয়ে এবার অনেক কম মাছ ধরা পড়ছে। মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে মাছ ধরা না পড়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক আড়তদারকে। এখন অনেকেই সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। তাদের আগামী মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারেও বলেও মনে করছেন। আড়তদাররা জানান, প্রতি মৌসুমেই ভোলা থেকে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ বরিশাল, ঢাকা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জের বড় বড় পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়। সেখান থেকেই কাক্সিক্ষত মূল্য পেয়ে আসছিলেন তারা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম একটু কম।
ভোলার চরফ্যাশনের বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঢালচরের মৎস্য আড়তদার কালাম পাটোয়ারি জানান, এখন বরিশালের পাইকারি বাজারে এক পোন (৮০ পিস) ইলিশ ২৭ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এর দাম ছিল ৩২ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত। চাঁদপুর ও ঢাকায় মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯ থেকে ২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। গত মৌসুমে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। নারায়ণগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি পোন বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ৩০ হাজার টাকা। গত মৌসুমে এর দাম ছিল ২ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি। তিনি বলেন, এখন ঝাঁকে ঝাঁকে নদী ও সাগরে মাছ ধরা পড়ছে। তাই আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। আড়তদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে বেশি মূল্যে মাছ কিনে মোকামে তা বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে লাভ একটু কম হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে মাছের দাম কম অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ শিকারে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন জেলেরা। লোকসান গুনতে হচ্ছে আড়তদারকেও। এলসি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ইলিশের ব্যবসায় অনেকটা মন্দা ভাব চলছে বলে জানান তিনি। পুবের চর, কিল্লার ঘাট, আনন্দ বাজারের মৎস্য আড়তদার জাহাঙ্গীর তালুকদার, কাজী সালাউদ্দিন, শাহে আলমসহ অন্যরা জানান, গত বছর এসব ঘাট থেকে দৈনিক ৪০ লাখ টাকার মাছ ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় যেত। এ বছরও তা ছুঁই ছুঁই করছে। কিন্তু দাম কম হলেও খরচ বেড়েছে বহুগুণ।
মৎস্য আড়তদার সহিদ জানান, ১০/১৫ দিন ধরে মেঘনায় মাছ পড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলেদের জালে আরও বেশি মাছ আটকা পড়ছে যার প্রতিটির ওজন ৯০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ কেজি ওজনের ইলিশও ধরা পড়ছে। মাছ ধরা পড়ায় জেলেদের মাঝে খুশির বন্যা বইলেও মাছের দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ অনেকে। তিনি বলেন, জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা চরম শংকার মধ্যে রয়েছেন।
তজুমদ্দিন সইস ঘাটের মৎস্য আড়াতদার রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় তেমন একটা মাছ ধরা পড়ছে না। মৌসুমের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে মাছ পড়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর এ মৎস্য ঘাট থেকে প্রতিদিন অর্ধ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ লাখ টাকার মাছ। এদিকে, বোরহানউদ্দিনের মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বড় সাইজের মাছ ধরা পড়ায় দামও বেশি। তবে এখানকার আড়তদাররা অনেকটা লাভের মধ্যে রয়েছেন বলে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান। হাকিমুদ্দিন মৎস্য ঘাটের আড়তদার উজ্জ্বল হাওলাদার জানান, মাছ ধরা পড়ছে, আবার বৃদ্ধি পেয়েছে জলদস্যুদের উপদ্রব। জেলেদের জালে বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। পাইকারি বাজারে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫/৪০ হাজার টাকায়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তাই কয়েকদিন থেকে নদী ও সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে ইলিশ সাগর থেকে নদী মোহনায় চলে আসেছ। প্রজনন মৌসুম সামনে রেখে ইলিশ শিকারের পরিমাণ বেড়ে গেছে।
Daily Jugantor, শিপু ফরাজী, চরফ্যাশন,প্রকাশ : ২৩ আগস্ট, ২০১৩







অনেক সুন্দর পোষ্ট!
ReplyDeleteঅনেক সুন্দর পোষ্ট!
ReplyDelete