পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
দেশে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে মন্দাভাব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পে নানামুখী সংকট দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম শ্রমঘন ও আত্মকর্মসংস্থানমুখী শিল্পখাত পোল্ট্রিশিল্পে দেখা দিয়েছে অশনিসংকেত। গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদনে দেশের পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের চালচিত্র বেরিয়ে এসেছে। স্বাধীনতা-উত্তর গত চারদশকে আমাদের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান নানা ধরনের নাশকতা, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নানা বাঁক পরিবর্তন করে এ পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের ট্রাডিশনাল কৃষিভিত্তিক শিল্প ও অর্থনীতির প্রধান খাত পাটশিল্প কায়েমী ষড়যন্ত্র ও নাশকতায় ধ্বংস হয়েছে। পাট ও পাটপণ্য রফতানিতে বিশ্বের একনম্বর দেশ হিসেবে ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশ তার অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। স্বাধীনতার পর সেই পাটশিল্পে নেমে আসে ধ্বংসের তা-বলীলা। একের পর এক পাটকলে আগুন, পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন, পাটক্রয়ে দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি কারণে পাটকলগুলো লোকসানের আবর্তে নিক্ষিপ্ত হয়। পরে এর জের হিসেবে অনেক পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। পাটের আন্তর্জাতিক বাজার চলে যায় ভারতের দখলে। বাংলাদেশে যখন বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আদমজী বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভারতে নতুন পাটকল গড়ে উঠতে দেখা যায়।
পাটশিল্পের ভগ্নস্তূপের উপর যখন ব্যক্তি উদ্যোগে রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং অ্যাপারেল রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে ক্রমবিকশিত হয়ে ওঠে, ঠিক তখন তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধেও দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশী কুশীলবরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রেডিমেট গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার, নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ধারাবাহিক কর্মকা- সংঘটিত হয়েছে। ফ্যাক্টরিতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ, কমপ্লায়েন্স, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে বিদেশী মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে বড় বড় কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও নাশকতার মাধ্যমেও শত শত কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এতে বিদেশী ক্রেতা বিমুখ হয়েছে। এভাবেই সম্প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে ভারতের কাছে বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে। পাট ও গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্পকে ভারতনির্ভর শিল্পে পরিণত করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। গত তিন দশকে মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়েওঠা মুরগির খামারগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় এককোটি মানুষের কর্মসংস্থানের এই খাত ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ধস নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন নানা ইস্যু তুলে দেশের পোল্ট্রিখামারীদের বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। বার্ড ফ্লুু’র ধুয়া তুলে নির্বিচারে হাজার হাজার মুরগি হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হলেও অনেক খামারী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে দূষিত ও টেনারিবর্জ্য থেকে পোল্ট্রি ফিড তৈরির ঘটনাকেও পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করছে সংশ্লিষ্টরা। দেশের পোল্ট্রিশিল্প আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পোল্ট্রিখামারগুলো কমমূল্যে মুরগির গোশত ও ডিম সরবরাহ করে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তেমনি সার্বিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি থাকার কারণে এই শিল্পের সম্ভাবনাও ব্যাপক। বর্তমানে বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্প ব্যাপকহারে ভারতনির্ভর হয়ে পড়ছে। পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ, মুরগির বাচ্চা, ডিম এবং ব্রয়লার আমদানির মাধ্যমে এই শিল্পকে ভারতনির্ভর করে তোলা হয়েছে। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও লোকসানের কারণে গত কয়েক বছরে ৫০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে পড়ায় এই শিল্পের সাথে জড়িত ২৫ লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের পারিবারিক বিনিয়োগে অথবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আর্থ-সামাজিক প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও বিধ্বংসী। পোল্ট্রিশিল্পকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে এই শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আগামী দশকে শতকোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে পারে। আর বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, একদিকে দেশে হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এই শিল্পে ভারত নির্ভরতা বাড়ছে। পোল্ট্রিশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে পুরোপুরিভাবে তা’ ভারতের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা। পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সেই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্বার্থ ও সম্ভাবনা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
Source daily Inquilabপাটশিল্পের ভগ্নস্তূপের উপর যখন ব্যক্তি উদ্যোগে রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্প মাথা তুলে দাঁড়ায় এবং অ্যাপারেল রফতানিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে ক্রমবিকশিত হয়ে ওঠে, ঠিক তখন তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধেও দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিদেশী কুশীলবরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের রেডিমেট গার্মেন্টস শিল্পের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার, নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ধারাবাহিক কর্মকা- সংঘটিত হয়েছে। ফ্যাক্টরিতে শিশুশ্রমিক নিয়োগ, কমপ্লায়েন্স, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ইত্যাদি ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে বিদেশী মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে বড় বড় কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ও নাশকতার মাধ্যমেও শত শত কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং এতে বিদেশী ক্রেতা বিমুখ হয়েছে। এভাবেই সম্প্রতি তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্ববাজারে ভারতের কাছে বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় অবস্থান হারিয়েছে। পাট ও গার্মেন্টস শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্পকে ভারতনির্ভর শিল্পে পরিণত করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। গত তিন দশকে মূলত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়েওঠা মুরগির খামারগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীর হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং প্রায় এককোটি মানুষের কর্মসংস্থানের এই খাত ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ধস নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নতুন নানা ইস্যু তুলে দেশের পোল্ট্রিখামারীদের বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। বার্ড ফ্লুু’র ধুয়া তুলে নির্বিচারে হাজার হাজার মুরগি হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হলেও অনেক খামারী উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে দূষিত ও টেনারিবর্জ্য থেকে পোল্ট্রি ফিড তৈরির ঘটনাকেও পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করছে সংশ্লিষ্টরা। দেশের পোল্ট্রিশিল্প আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পোল্ট্রিখামারগুলো কমমূল্যে মুরগির গোশত ও ডিম সরবরাহ করে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, তেমনি সার্বিক চাহিদা পূরণে ঘাটতি থাকার কারণে এই শিল্পের সম্ভাবনাও ব্যাপক। বর্তমানে বাংলাদেশের পোল্ট্রিশিল্প ব্যাপকহারে ভারতনির্ভর হয়ে পড়ছে। পোল্ট্রি ফিড, ওষুধ, মুরগির বাচ্চা, ডিম এবং ব্রয়লার আমদানির মাধ্যমে এই শিল্পকে ভারতনির্ভর করে তোলা হয়েছে। ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও লোকসানের কারণে গত কয়েক বছরে ৫০ হাজার খামার বন্ধ হয়ে পড়ায় এই শিল্পের সাথে জড়িত ২৫ লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের পারিবারিক বিনিয়োগে অথবা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার আর্থ-সামাজিক প্রতিক্রিয়া ব্যাপক ও বিধ্বংসী। পোল্ট্রিশিল্পকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিলে এই শিল্প স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি আগামী দশকে শতকোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে পারে। আর বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে, একদিকে দেশে হাজার হাজার পোল্ট্রিখামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে এই শিল্পে ভারত নির্ভরতা বাড়ছে। পোল্ট্রিশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে পুরোপুরিভাবে তা’ ভারতের হাতে তুলে দেয়ার ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞরা। পোল্ট্রিশিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে। সেই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের স্বার্থ ও সম্ভাবনা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।







0 comments:
Post a Comment