গ্রামের মানুষের ফ্ল্যাটের স্বপ্ন!
চমৎকার উদ্দোগ। সরকারকে ধন্যবাদ দিলেও কম হবে।
গ্রামের গরিব মানুষকে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু ফ্ল্যাট নয়, থাকবে বাজার, বায়োগ্যাস প্লান্ট, নিরাপদ পানি, সৌরবিদ্যুৎ, গবাদিপশু রাখার স্থান। মোটা দাগে একটি আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে, যা পল্লি জনপদ নামে পরিচিত হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের সাতটি উপজেলার সাতটি গ্রামে পল্লি জনপদ গড়ে তোলা হবে।
কোন কোন গ্রামে এই পল্লি জনপদ হবে, তা চূড়ান্ত করা হয়নি। মূলত যেসব এলাকায় কৃষিজমি নষ্ট করে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রবণতা বেশি এবং প্রবাসী-আয় তুলনামূলক বেশি আসে, এমন গ্রামই নির্বাচন করা হবে। উল্লেখ্য, সারা দেশে প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশ কৃষিজমি নষ্ট করে বাড়িঘর, কলকারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় এনে কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি গ্রামের দরিদ্র মানুষকে আধুনিক জীবনধারণ সুবিধা দিতে এই পল্লি জনপদ তৈরি করা হবে। একটি পল্লি জনপদে একটি বহুতল ভবনে ২৭২ ফ্ল্যাট থাকবে। যেখানে একসঙ্গে ২৭২টি পরিবার থাকতে পারবে। ৩০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করে এ ধরনের ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন ওই এলাকার মানুষ।
আগামী ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে আধুনিক সুবিধাসংবলিত এই সাতটি জনপদ নির্মাণ করা হবে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এই জনপদ তৈরি করা হবে। সফল হলে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি পাস করা হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সেন্টার ফর ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটগুলোর প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৬০০ টাকা। ৯১৫, ৭১০, ৪৬০ ও ৩৬৫ বর্গফুট—এ ধরনের আয়তনের ফ্ল্যাট হবে। আর প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন ক্রেতারা। ফ্ল্যাটে ওঠার পর পরবর্তী ১৫ বছরে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে সুবিধাভোগী বা ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের কীভাবে নির্বাচন করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে কী পরিমাণ গরিব মানুষের এককালীন ৩০ শতাংশ অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সক্ষমতা রয়েছে, তার কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকল্প প্রস্তাবনায় নেই। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, সবচেয়ে কম ৩৬৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য হবে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এমন একটি ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীকে এককালীন এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই পরিশোধের সক্ষমতা গ্রামের কত শতাংশ মানুষের রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বহুলভাবে অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থানীয় প্রভাবশালী কিংবা তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও অনুগতদের নির্বাচন করা হয়। ফলে প্রকল্পের সুফল কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় না। একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পেও সুবিধাভোগী বা ফ্ল্যাট কিনতে চান এমন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর শঙ্কা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পেতে হলে আমাকে (পরিকল্পনামন্ত্রী) আরও ৫০ বছর বাঁচতে হবে। সবাই দুর্নীতি করে না, যারা করে তারা সংখ্যায় কম। তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।’ তিনি জানান, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিষয়ে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের প্রকল্পগুলো ধারণাগতভাবে খুবই ভালো হয়। বাস্তবায়নের সময় নানা সমস্যা বেরিয়ে আসে। তিনি মনে করেন, একনেকে পাস হওয়া এই পাইলট প্রকল্পটির ধারণাও বেশ ভালো। প্রকল্পটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে একটি সৎ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।
এদিকে গতকালের একনেকে এই প্রকল্পটিসহ ৮২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মোট তিনটি প্রকল্প পাস হয়েছে। অন্য প্রকল্প দুটি হলো সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র ঃ প্রথম আলো
চমৎকার উদ্দোগ। সরকারকে ধন্যবাদ দিলেও কম হবে।
গ্রামের গরিব মানুষকে আধুনিক নাগরিক সুবিধাসহ ফ্ল্যাট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু ফ্ল্যাট নয়, থাকবে বাজার, বায়োগ্যাস প্লান্ট, নিরাপদ পানি, সৌরবিদ্যুৎ, গবাদিপশু রাখার স্থান। মোটা দাগে একটি আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে, যা পল্লি জনপদ নামে পরিচিত হবে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের সাতটি উপজেলার সাতটি গ্রামে পল্লি জনপদ গড়ে তোলা হবে।
কোন কোন গ্রামে এই পল্লি জনপদ হবে, তা চূড়ান্ত করা হয়নি। মূলত যেসব এলাকায় কৃষিজমি নষ্ট করে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রবণতা বেশি এবং প্রবাসী-আয় তুলনামূলক বেশি আসে, এমন গ্রামই নির্বাচন করা হবে। উল্লেখ্য, সারা দেশে প্রতিবছর গড়ে ১ শতাংশ কৃষিজমি নষ্ট করে বাড়িঘর, কলকারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় এনে কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি গ্রামের দরিদ্র মানুষকে আধুনিক জীবনধারণ সুবিধা দিতে এই পল্লি জনপদ তৈরি করা হবে। একটি পল্লি জনপদে একটি বহুতল ভবনে ২৭২ ফ্ল্যাট থাকবে। যেখানে একসঙ্গে ২৭২টি পরিবার থাকতে পারবে। ৩০ শতাংশ অর্থ অগ্রিম পরিশোধ করে এ ধরনের ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন ওই এলাকার মানুষ।
আগামী ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে আধুনিক সুবিধাসংবলিত এই সাতটি জনপদ নির্মাণ করা হবে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে এই জনপদ তৈরি করা হবে। সফল হলে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পটি পাস করা হয়। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সেন্টার ফর ইরিগেশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটগুলোর প্রতি বর্গফুটের মূল্য ধরা হয়েছে এক হাজার ৬০০ টাকা। ৯১৫, ৭১০, ৪৬০ ও ৩৬৫ বর্গফুট—এ ধরনের আয়তনের ফ্ল্যাট হবে। আর প্রাথমিকভাবে ৩০ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন ক্রেতারা। ফ্ল্যাটে ওঠার পর পরবর্তী ১৫ বছরে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে সুবিধাভোগী বা ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীদের কীভাবে নির্বাচন করা হবে, তা এখনো ঠিক করা হয়নি। এ জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে কী পরিমাণ গরিব মানুষের এককালীন ৩০ শতাংশ অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কেনার সক্ষমতা রয়েছে, তার কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকল্প প্রস্তাবনায় নেই। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, সবচেয়ে কম ৩৬৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য হবে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এমন একটি ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহীকে এককালীন এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই পরিশোধের সক্ষমতা গ্রামের কত শতাংশ মানুষের রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
বহুলভাবে অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের প্রকল্পের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্থানীয় প্রভাবশালী কিংবা তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও অনুগতদের নির্বাচন করা হয়। ফলে প্রকল্পের সুফল কাঙ্ক্ষিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় না। একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পেও সুবিধাভোগী বা ফ্ল্যাট কিনতে চান এমন ব্যক্তি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর শঙ্কা রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পেতে হলে আমাকে (পরিকল্পনামন্ত্রী) আরও ৫০ বছর বাঁচতে হবে। সবাই দুর্নীতি করে না, যারা করে তারা সংখ্যায় কম। তাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।’ তিনি জানান, এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিষয়ে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ধরনের প্রকল্পগুলো ধারণাগতভাবে খুবই ভালো হয়। বাস্তবায়নের সময় নানা সমস্যা বেরিয়ে আসে। তিনি মনে করেন, একনেকে পাস হওয়া এই পাইলট প্রকল্পটির ধারণাও বেশ ভালো। প্রকল্পটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে একটি সৎ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।
এদিকে গতকালের একনেকে এই প্রকল্পটিসহ ৮২৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকার মোট তিনটি প্রকল্প পাস হয়েছে। অন্য প্রকল্প দুটি হলো সিদ্ধিরগঞ্জ-মানিকনগর ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ এবং সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র ঃ প্রথম আলো







0 comments:
Post a Comment