গমের ভালো উত্পাদন পেতে করণীয়...
গম অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। গম থেকে পাওয়া প্রতি ১০০ গ্রাম আটায়
আমিষ ১২ দশমিক ১ গ্রাম, শর্করা ৬৯ দশমিক ৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৮ মিলিগ্রাম,
লৌহ ১১ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ২৯ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১০
দশমিক ৪৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি-২০ দশমিক ২৯ মিলিগ্রাম, আঁশ ১ দশমিক ৯
গ্রাম, খনিজ পদার্থ ২ দশমিক ৭ গ্রাম এবং জলীয় অংশ থাকে ১২ দশমিক ২ গ্রাম।
গম সাধারণত মানুষের রুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া গমের কুঁড়া গো-খাদ্য
হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কার্তিক মাসের শেষ থেকে অগ্রহায়ণ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ অর্থাত্ নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের বীজ বপন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গমের শীষ বের হয়েছে। কিছুদিন পর গম সংগ্রহ করা হবে। এই মুহূর্তে গম ক্ষেতের বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। তাহলে সঠিক পরিমাণে গমের উত্পাদন হবে। অন্যথায় ফসল উত্পাদন কমে যেতে পারে।
সেচ ও আগাছা পরিষ্কার : মাটির প্রকার ভেদে সাধারণত ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ চারার তিন পাতার সময় (বপনের ১৭-২১ দিন পরে), দ্বিতীয় সেচ গমের শীষ বের হওয়ার সময় (বপনের ৫৫-৬০ দিন পর)। তৃতীয় সেচ দানা গঠনের সময় (বপনের ৭৫-৮০ দিন পর) দিতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আগাছা দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
পোকা-মাকড় ও রো ব্যবস্থাপনা : গামের পাতায় পাকসিনিয়া রিকন্ডিটা নামক ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। প্রথমে পাতার উপর ছোট গোলাকার হলুদাভ দাগ পড়ে। শেষ পর্যায়ে এই দাগ মরিচার মতো বাদামি বা কালচে রংয়ে পরিণত হয়। হাত দিয়ে আক্রান্ত পাতা ঘষা দিলে লালচে মরিচার মতো গুঁড়া হাতে লাগে। এ রোগের লক্ষণ প্রথমে নিচের পাতায়, তারপর সব পাতায় ও কাণ্ডে দেখা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। এ রোগ থেকে প্রতিকার পেতে রোগ প্রতিরোধী গমের জাত কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরবের চাষ করতে হবে। সুষম হারে সার প্রয়োগ করতে হবে। টিল্ট ২৫০ ইসি ছত্রাকনাশক (০.০৪%) ১ মিলি আড়াই লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
পাতার দাগ রোগ দমন : বাইপোরারিস সরোকিনিয়ানা নামক ছত্রাক এ রোগ ঘটায়। গাছ মাটির উপর এলে প্রথমে নিচের পাতাতে ছোট ছোট বাদামি ডিম্বাকার দাগ পড়ে। পরবর্তী সময়ে দাগসমূহ আকারে বাড়তে থাকে এবং গমের পাতা ঝলসে দেয়। রোগের জীবাণু বীজে কিংবা ফসলের পরিত্যক্ত অংশে বেঁচে থাকে। বাতাসের অধিক আদ্রতা এবং উচ্চ তাপমাত্রা (২৫ ডিগ্রি সে.) এ রোগ বিস্তারের জন্য সহায়ক। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—রোগমুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি কেজি গম বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। টিল্ট-২৫০ ইসি (০.০৪%) এক মিলি প্রতি আড়াই লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
গমের গোড়া পচা রোগ দমন : স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাক দ্বারা গমের এ রোগ হয়। এই রোগের ফলে মাটির সমতলে গাছের গোড়ায় হলদে দাগ দেখা যায়। পরে তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং আক্রান্ত স্থানের চারদিক ঘিরে ফেলে। পরবর্তী সময়ে পাতা শুকিয়ে গাছ মারা যায়। রোগের জীবাণু মাটিতে কিংবা ফসলের পরিত্যক্ত অংশে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। সাধারণত বৃষ্টির পানি, সেচের পানি দ্বারা এক জমি থেকে অন্য জমিতে বিস্তার লাভ করে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—রোগ প্রতিরোধী কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরব জাতের চাষ করতে হবে। মাটিতে সব সময় পরিমিত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। ভিটাভেক্স-২০০ নামক ওষুধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
গমের আলগা ঝুল রোগ দমন : আসটিলেগো ট্রিটিসি নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। গমের শীষ বের হওয়ার সময় এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ওই ছত্রাকের আক্রমণের ফলে গমের শীষ প্রথমদিকে পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। পরে তা ফেটে যায় এবং দেখতে কালো ঝুলের মতো দেখায়। ছত্রাকের বীজকণা সহজে বাতাসের মাধ্যমে অন্যান্য গাছে এবং অন্য জমির গম গাছে সংক্রমিত হয়। রোগের জীবাণু বীজের ভ্রূণে জীবিত থাকে। পরবর্তী বছর আক্রান্ত বীজ জমিতে বুনলে বীজের অংকুরোদগমের সময় জীবাণুও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—রোগ প্রতিরোধী কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরব জাতের চাষ করতে হবে। রোগমুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ভিটাভেক্স-২০০ ওষুধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
গম বীজের কালো দাগ রোগ দমন : ডেক্সলেরা প্রজাতির ও অলটারনারিয়া প্রজাতির ছত্রাক দ্বারা গমের এ রোগ হয়। এ রোগের ফলে গমের খোসায় বিভিন্ন আকারের বাদামি অথবা কালো দাগ পড়ে। বীজের ভ্রূণে দাগ পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে দাগ সম্পূর্ণ বীজে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জীবাণু বীজের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—সুস্থ বীজ সংগ্রহ করে বপন করতে হবে। ভিটাভেক্স-২০০ নামক ওষুধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ : চৈত্র মাসের প্রথম থেকে মধ্য-চৈত্র (মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম) পর্যন্ত কেটে গম সংগ্রহ করতে হয়।
কার্তিক মাসের শেষ থেকে অগ্রহায়ণ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ অর্থাত্ নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত উচ্চ ফলনশীল জাতের গমের বীজ বপন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গমের শীষ বের হয়েছে। কিছুদিন পর গম সংগ্রহ করা হবে। এই মুহূর্তে গম ক্ষেতের বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। তাহলে সঠিক পরিমাণে গমের উত্পাদন হবে। অন্যথায় ফসল উত্পাদন কমে যেতে পারে।
সেচ ও আগাছা পরিষ্কার : মাটির প্রকার ভেদে সাধারণত ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ চারার তিন পাতার সময় (বপনের ১৭-২১ দিন পরে), দ্বিতীয় সেচ গমের শীষ বের হওয়ার সময় (বপনের ৫৫-৬০ দিন পর)। তৃতীয় সেচ দানা গঠনের সময় (বপনের ৭৫-৮০ দিন পর) দিতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আগাছা দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
পোকা-মাকড় ও রো ব্যবস্থাপনা : গামের পাতায় পাকসিনিয়া রিকন্ডিটা নামক ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। প্রথমে পাতার উপর ছোট গোলাকার হলুদাভ দাগ পড়ে। শেষ পর্যায়ে এই দাগ মরিচার মতো বাদামি বা কালচে রংয়ে পরিণত হয়। হাত দিয়ে আক্রান্ত পাতা ঘষা দিলে লালচে মরিচার মতো গুঁড়া হাতে লাগে। এ রোগের লক্ষণ প্রথমে নিচের পাতায়, তারপর সব পাতায় ও কাণ্ডে দেখা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে। এ রোগ থেকে প্রতিকার পেতে রোগ প্রতিরোধী গমের জাত কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরবের চাষ করতে হবে। সুষম হারে সার প্রয়োগ করতে হবে। টিল্ট ২৫০ ইসি ছত্রাকনাশক (০.০৪%) ১ মিলি আড়াই লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
পাতার দাগ রোগ দমন : বাইপোরারিস সরোকিনিয়ানা নামক ছত্রাক এ রোগ ঘটায়। গাছ মাটির উপর এলে প্রথমে নিচের পাতাতে ছোট ছোট বাদামি ডিম্বাকার দাগ পড়ে। পরবর্তী সময়ে দাগসমূহ আকারে বাড়তে থাকে এবং গমের পাতা ঝলসে দেয়। রোগের জীবাণু বীজে কিংবা ফসলের পরিত্যক্ত অংশে বেঁচে থাকে। বাতাসের অধিক আদ্রতা এবং উচ্চ তাপমাত্রা (২৫ ডিগ্রি সে.) এ রোগ বিস্তারের জন্য সহায়ক। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—রোগমুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। প্রতি কেজি গম বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম ভিটাভেক্স-২০০ মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। টিল্ট-২৫০ ইসি (০.০৪%) এক মিলি প্রতি আড়াই লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
গমের গোড়া পচা রোগ দমন : স্কেলেরোশিয়াম রলফসি নামক ছত্রাক দ্বারা গমের এ রোগ হয়। এই রোগের ফলে মাটির সমতলে গাছের গোড়ায় হলদে দাগ দেখা যায়। পরে তা গাঢ় বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং আক্রান্ত স্থানের চারদিক ঘিরে ফেলে। পরবর্তী সময়ে পাতা শুকিয়ে গাছ মারা যায়। রোগের জীবাণু মাটিতে কিংবা ফসলের পরিত্যক্ত অংশে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। সাধারণত বৃষ্টির পানি, সেচের পানি দ্বারা এক জমি থেকে অন্য জমিতে বিস্তার লাভ করে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—রোগ প্রতিরোধী কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরব জাতের চাষ করতে হবে। মাটিতে সব সময় পরিমিত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন। ভিটাভেক্স-২০০ নামক ওষুধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
গমের আলগা ঝুল রোগ দমন : আসটিলেগো ট্রিটিসি নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। গমের শীষ বের হওয়ার সময় এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ওই ছত্রাকের আক্রমণের ফলে গমের শীষ প্রথমদিকে পাতলা পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে। পরে তা ফেটে যায় এবং দেখতে কালো ঝুলের মতো দেখায়। ছত্রাকের বীজকণা সহজে বাতাসের মাধ্যমে অন্যান্য গাছে এবং অন্য জমির গম গাছে সংক্রমিত হয়। রোগের জীবাণু বীজের ভ্রূণে জীবিত থাকে। পরবর্তী বছর আক্রান্ত বীজ জমিতে বুনলে বীজের অংকুরোদগমের সময় জীবাণুও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—রোগ প্রতিরোধী কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ ও গৌরব জাতের চাষ করতে হবে। রোগমুক্ত জমি থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ভিটাভেক্স-২০০ ওষুধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
গম বীজের কালো দাগ রোগ দমন : ডেক্সলেরা প্রজাতির ও অলটারনারিয়া প্রজাতির ছত্রাক দ্বারা গমের এ রোগ হয়। এ রোগের ফলে গমের খোসায় বিভিন্ন আকারের বাদামি অথবা কালো দাগ পড়ে। বীজের ভ্রূণে দাগ পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে দাগ সম্পূর্ণ বীজে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জীবাণু বীজের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকে। এ রোগের প্রতিকার হচ্ছে—সুস্থ বীজ সংগ্রহ করে বপন করতে হবে। ভিটাভেক্স-২০০ নামক ওষুধ প্রতি কেজি বীজে ২.৫-৩.০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ : চৈত্র মাসের প্রথম থেকে মধ্য-চৈত্র (মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের প্রথম) পর্যন্ত কেটে গম সংগ্রহ করতে হয়।
দৈনিক আমাদের দেশ, সূত্র : কৃষি তথ্য
সার্ভিস







0 comments:
Post a Comment